তেলের দাম বৃদ্ধি নয়, ভ্যাট প্রত্যাহার করুন- বাম জোট

সয়াবিন তেলের মূল্য আরেক দফা বৃদ্ধিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাম গণতান্ত্রিক জোট।

গত ২৮ মে এক যুক্ত বিবৃতিতে জোটের কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের সমন্বয়ক ও বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বজলুর রশীদ ফিরোজ ও জোটের কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের সদস্য সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহ আলম, বাসদ এর সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বাসদ (মার্কসবাদী)’র সাধারণ সম্পাদক মুবিনুল হায়দার চৌধুরী, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন নান্নু, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পদক মোশরেফা মিশু, ওয়ার্কার্স পার্টি (মার্কসবাদী)’র সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের আহ্বায়ক হামিদুল হক বলেছেন, এমনিতেই দেড় বছর ধরে করোনার মহামারীতে মানুষ কর্মহীন হয়েছে, মানুষের আয় কমেছে; তার উপর তেল, চাল, ডাল, পিয়াজসহ দ্রব্যমূল্যের ক্রমবর্ধমান বৃদ্ধি জনজীবনকে দুর্বিসহ করে তুলেছে।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, রোজার মধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়াই ব্যবসায়ীরা একবার সয়াবিন তেলের দাম ৫ টাকা বৃদ্ধি করে পরে ৩ টাকা কমিয়েছিল। এখন আবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধির কথা বলে পুনরায় ব্যবসায়ীরা লিটার প্রতি ১৩ টাকা দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করলে সরকার ৯ টাকা বৃদ্ধির অনুমোদন দিয়েছে ফলে এখন এক লিটার বোতলজাত তেল ১৫৩ টাকায় কিনতে হবে। এবার নিয়ে গত অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত সয়াবিন তেলের দাম লিটার প্রতি ৪৫ টাকা বাড়ানো হলো। এমনিতেই বিভিন্ন সংস্থার গবেষণায় এসেছে করোনা সংকটে মানুষ ৫৬ শতাংশ খাদ্য ব্যয় কমিয়ে দিয়েছে। এর উপর নতুন করে তেলের দাম বৃদ্ধি কর্মহীন-আয়হীন শ্রমজীবী দরিদ্র জনগণকে সীমাহীন দুর্ভোগে ফেলে দিবে। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, ১ লিটার তেলে ২০ টাকার উপর ভ্যাট নেয় সরকার। ফলে করোনা দুর্যোগে সরকারের ভ্যাট প্রত্যাহার করলে সয়াবিন তেলের দাম বাড়িয়ে জনগণকে দুর্ভোগে ফেলতে হয়না। নেতৃবৃন্দ সয়াবিন তেলের দাম না বাড়িয়ে ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি জানান।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, শুধু তেল নয় চাল, ডাল, পিয়াজসহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম আকাশ ছোয়া। কোন সবজিই ৬০ টাকা কেজির নীচে পাওয়া যায় না। দ্রব্যমূল্যের পাগলা ঘোড়া নিয়ন্ত্রণে সরকার চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। জনগণের স্বার্থের চেয়েও সরকার বাজার সিন্ডিকেটের মুনাফার স্বার্থই রক্ষা করে চলেছে।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ তেল, চাল, ডাল, পিয়াজসহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম নিয়ন্ত্রণ করে মানুষের ক্রয় ক্ষমতার আওতায় রাখা, বাজার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং গ্রাম শহরের শ্রমজীবী, নিম্নবিত্ত-মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য আর্মি রেটে রেশনিং ব্যবস্থা চালুর দাবি জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published.