তাজরীন হত্যাকাণ্ডের ৭ বছর; বিচারের দীর্ঘসূত্রিতা বিচারহীনতারই নামান্তর

আশুলিয়ার তাজরীন গার্মেন্টসে মর্মান্তিক শ্রমিক হত্যাকাণ্ডের ৭ বছর পূর্তিতে গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র এক বিবৃতিতে অবিলম্বে তাজরীনসহ সকল শ্রমিক হত্যাকাণ্ডের বিচার; উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ, সুচিকিৎসা, পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছে।

একইসাথে বিবৃতিতে নিরাপদ কারখানা ও কর্মস্থল নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি শ্রমিকনেতা অ্যাড. মন্টু ঘোষ এবং সাধারণ সম্পাদক শ্রমিকনেতা জলি তালুকদার এক বিবৃতিতে তাজরীন গার্মেন্ট শ্রমিক হত্যাকাণ্ডে বিচারের দীর্ঘসূত্রিতার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

নেতৃবৃন্দ বলেন, ১৯৯০ সালে সারাকা গার্মেন্টে আগুনে পুড়ে শ্রমিকনিহতের ঘটনা থেকে এবছর গাজীপুরের অটো স্পিনিং মিলে হত্যাকাণ্ডে শ্রমিক নিহত হওয়া পর্যন্ত কোনো হত্যাকাণ্ডেরই বিচার আলোর মুখ দেখেনি। ফলে বিচারহীনতার সুযোগে একের পর এক শ্রমিক হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হচ্ছে। মুনাফার লালসায় শ্রমিকরা কখনো আগুনে পুড়ে কখনো ভবনচাপা পরে নির্মম মৃত্যুর শিকার হচ্ছে।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, তাজরীন হত্যাকাণ্ডের তিনবছর পর ১ অক্টোবর ২০১৫ চার্জশীট গঠন হয়। গত চার বছরের বেশি সময়ে বছরে ৩৫টি শুনানির তারিখ নির্ধারিত হলেও রাষ্ট্রপক্ষ এসময়ে মাত্র ৬ দিন স্বাক্ষী হাজির করতে পেরেছে। ফলে ১০৪ জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্যগ্রহণ কবে শেষ হবে তা আজ বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নেতৃবৃন্দ বিবৃতিতে বলেন, বিচারের দীর্ঘসূত্রিতা বিচারহীনতার নামান্তর। সরকার মালিকসহ অপরাধীদের রক্ষাকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে।

নেতৃবৃন্দ অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বলেন, যেকোনো মূল্যে সকল শ্রমিক হত্যাকাণ্ডের বিচার আদায় করা হবে।

তাজরীন হত্যাকাণ্ডের সপ্তম বার্ষিকীতে রোববার (২৪ নভেম্বর) সকাল ৮টায় জুরাইন কবরস্থানে নিহত শ্রমিকদের কবরে ও একইসময়ে আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে কারখানার গেটে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হবে। পুষ্পমাল্য অর্পণ শেষে তাজরীন হত্যাকাণ্ডের ন্যায় বিচারের দাবিতে নিশ্চিন্তপুর এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করবে গার্মেন্ট টিইউসি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.