ঢাকায় রিকশা-ভ্যান শ্রমিকদের গণমিছিল

রাজধানী ঢাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক শ্রমিকরা গণমিছিল অনুষ্ঠিত করেছে।

আজ (১৮ মে), বুধবার, সকাল ১১টায় ঢাকার বেড়িবাঁধস্থ শ্মশান ঘাট লোহার ব্রিজ হতে সোয়ারিঘাট হয়ে সেকশন রনি মার্কেট পর্যন্ত শ্রমিকদের এ গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

মহামান্য আদালত মহাসড়ক ব্যতিত সকল সড়কে ব্যাটারিচালিত তিন চাকার যানবাহন (থ্রি-হুইলার) চলতে পারবে বলে আদেশ দেওয়ার প্রেক্ষিতে আদেশ বাস্তবায়নে প্রশাসনকে তৎপর হওয়ার আহ্বান জানিয়ে এই গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

এছাড়াও ব্যাটারিচালিত যানবাহন শ্রমিকদের ওপর জুলুম-নির্যাতন বন্ধ, ব্যাটারিচালিত যানবাহনের সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় প্রস্তাবিত নীতিমাল চূড়ান্তকরণ, বিআরটিএ কর্তৃক লাইসেন্স প্রদান, ট্রাফিক পুলিশের সৃষ্ট আতঙ্কে পলায়মান রিকশা শ্রমিকের বাহনপিষ্ট পথযাত্রীর মৃত্যুর দায় ট্রাফিক পুলিশকে নেওয়ার দাবি জানানো হয় গণমিছিলপূর্ব সমাবেশ থেকে।

লোহার ব্রিজে মিছিলপূর্ব সমাবেশে আব্দুল হাকিম মাইজভান্ডারির সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও রিকশা ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের উপদেষ্টা আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন, রাগীব আহসান মুন্না, রিকশা ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ কমিটির সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য আখতার হোসেন, রিকশা ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম নাদিম, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুমন মৃধা, কেন্দ্রীয় সংগঠক লিটন নন্দী, মোহাম্মদ আরিফ প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, মহামান্য আদালত মহাসড়ক ব্যতিত সকল সড়কে ব্যাটারিচালিত তিন চাকার যানবাহন (থ্রি-হুইলার) চলতে পারবে বলে আদেশ দিয়েছে। আদালতের আদেশসহ সকল আইন সঠিকভাবে কার্যকর ও বাস্তবায়ন করার জন্য জনগণের ট্যাক্সের টাকায় আইন শৃংখলা রক্ষা বাহিনীকে রাষ্ট্র নিয়োগ দিয়েছে। কিন্তু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী লুটপাটের স্বার্থে আদালতের আদেশ অমান্য করে এই রাষ্ট্রকে ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে প্রমাণ করেছে।

বক্তারা আরও বলেন, এই সরকার বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করে নিজেদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে আজ পুলিশি আতঙ্ক ছড়িয়ে রেখেছে। শুধু জেল-জুলুম-নির্যাতন-ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলার আতঙ্কই শুধু নয়, আজ পুলিশের চাঁদাবাজী ও পকেট ভরতে বেআইনিভাবে যানবাহন আটকের আতঙ্কে ব্যাটারিচালিত যানবাহন শ্রমিকরা আজ দিশেহারা। ট্রাফিক পুলিশের ধাওয়ায় আতঙ্কিত শ্রমিক তার পরিবহন নিয়ে পালানোর চেষ্টার সময় সংগঠিত দুর্ঘটনায় পথচারীর মৃত্যুর দায় আদালতের আদেশ অমান্য করে আতঙ্ক তৈরিকারী ট্রাফিক পুলিশকেই নিতে হবে।

বক্তারা বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে মানুষের জীবন ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। নিম্নআয়ের শ্রমজীবী মানুষ আজ এই ব্যয় নির্বাহ করতে তার স্কুল পড়ুয়া সন্তানকে স্কুল ছাড়িয়ে এনে কাজে পাঠাচ্ছে। ফলে দেশে আজ শিশু শ্রমিকের হার বেড়ে চলেছে। শিশুদের মানবেতর জীবনের পথে ঠেলে দিতে বাধ্য করছে এই রাষ্ট্র। সরকার মানুষের জীবিকার আয় বৃদ্ধির ব্যবস্থা না করে ব্যয় বৃদ্ধির ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে সাধারণ মানুষের জীবনকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিচ্ছে। সমাবেশে বক্তারা অবিলম্বে ব্যাটারিচালিত যানবাহন শ্রমিকদের ওপর জুলুম-নির্যাতন বন্ধ, ব্যাটারিচালিত যানবাহন আটক বন্ধ করে সুপ্রিম কোর্টের আদেশ বাস্তবায়ন, পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় প্রস্তাবিত নীতিমালা চূড়ান্ত করে বিআরটিএ কর্তৃক লাইসেন্স প্রদানের দাবি জানান।

সমাবেশ পরবর্তী মিছিল শ্মশান ঘাট লোহার ব্রিজ হতে সোয়ারিঘাট পুলিশ বক্স হয়ে সেকশন রনি মার্কেট এলাকায় এসে শেষ হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.