ডিসেম্বরের মধ্যে টিকা প্রদান নিশ্চিতসহ ৫ দাবি বাম জোটের

ডিসেম্বরের মধ্যে সকল প্রাপ্ত বয়স্ক নাগরিকদের টিকা প্রদান নিশ্চিতসহ ৫ দফা দাবিতে সারাদেশে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বাম গণতান্ত্রিক জোট।

বাম গণতান্ত্রিক জোটের আহ্বানে বিক্ষোভ কর্মসূচির অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয়ভাবে ঢাকায় গত ১৭ আগস্ট বিকাল ৪:৩০টায় পল্টন মোড়ে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশ থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে প্রাপ্ত বয়স্ক সকল নাগরিককে করোনা টিকা প্রদান নিশ্চিত করা; জেলা-উপজেলায় সকল হাসপাতালে বেড সংখ্যা, হাই ফ্লো নেজাল ক্যানুলা, আইসিইউ, ভেন্টিলেটর, ডাক্তার-নার্স-টেকনিশিয়ানসহ স্বাস্থ্যসেবা কর্মী বৃদ্ধি, কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত, ফিল্ড হাসপাতাল নির্মাণ করা; করোনাকালে সকল শ্রমজীবী মানুষকে খাদ্য ও নগদ অর্থসহায়তা, রেশন ও সুদমুক্ত ঋণ প্রদান; সকল শিল্প-শিক্ষার্থীকে করোনা টিকা দিয়ে দ্রুত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া; এবং করোনা মোকাবিলায় ব্যর্থ অবৈধ সরকারের পদত্যাগসহ ৫ দফা দাবি তুলে ধরা হয়।

বাম গণতান্ত্রিক জোটের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ও বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশ বক্তব্য রাখেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড সাইফুল হক, সিপিবি’র সহকারী সাধারণ সম্পাদক কমরেড সাজ্জাদ জহির চন্দন, বাসদ (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য কমরেড আকম জহিরুল ইসলাম, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য কমরেড অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড মোশরেফা মিশু, গণসংহতি আন্দোলনের সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য কমরেড বাচ্চু ভুইয়া, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের সভাপতি কমরেড হামিদুল হক। সভা পরিচালনা করেন বিপ্লবী ওয়ার্কাস পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য কমরেড আকবর খান।

সমাবেশে বক্তাগণ বলেন, সরকার ৮০ ভাগ লোককে করোনার টিকা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু বাস্তবায়নের কোন সুনির্দিষ্ট দিক নির্দেশনা বা রোড ম্যাপ নেই। ৮০ ভাগ লোককে দুই ডোজ টিকা দিতে কমপক্ষে ২৬ কোটি ডোজ টিকা লাগবে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত মাত্র ৬ কোটি টিকা পাওয়ার আশ্বাস পেয়েছে সরকার। বাকিটা কোথা থেকে কিভাবে আসবে তার কোন নিশ্চয়তা নাই। তাছাড়া এই আশ্বাসে করোনা মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।

করোনার সনাক্ত ও মৃত্যুর উর্ধ্বগতি থাকলেও কোন পূর্ব প্রস্তুতি ছাড়াই সব কিছু খুলে দেওয়া হলেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার কোন রোড ম্যাপ সরকারের নেই। গত দেড় বছরে করোনা ও লক ডাউনে শ্রমজীবী মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হলেও কর্মহীন ও আয় কমে যাওয়া মানুষেকে নগদ অর্থ ও খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়নি।

বক্তাগণ আরও বলেন, বর্তমান সরকার বিনা ভোটে ও অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে রেখেছে। সরকার দেশ পরিচালনায়, করোনা প্রতিরোধে, দেশের মানুষের স্বাস্থ্যসুবিধা নিশ্চিতে এবং টিকা সংগ্রহ, উৎপাদন ও প্রদানে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে ক্ষমতায় থাকার তার কোন নৈতিক ভিত্তি নেই।

নেতৃবৃন্দ ব্যর্থ অবৈধ সরকারের পদত্যাগ ও দেশ জাতির গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে ঐক্যবদ্ধ বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য সকল বাম-প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দল, ব্যক্তি, গোষ্ঠীর প্রতি আহ্বান জানান।

সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল পুরানা পল্টন, মুক্তাঙ্গন, জিরোপয়েন্ট হয়ে পল্টন মোড়ে এসে শেষ হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.