জুন মাসের বেতন ও পূর্ণ ঈদ বোনাসের দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভ

অবিলম্বে সকল পোশাক শ্রমিকের জুন মাসের বেতন ও পূর্ণ ঈদ বোনাস পরিশোধ, নিত্যপণ্যের বাজারমূল্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ মহার্ঘ্য ভাতা চালু, ভর্তুকি মূল্যে রেশন ও স্বল্প ব্যায়ে আবাসনের ব্যবস্থা এবং বেকা, কুনতং, ওপেক্স সিনহাসহ বন্ধ কারখানার শ্রমিকদের শ্রম আইন অনুযায়ী প্রাপ্য পাওনা সম্পুর্ণ পরিশোধ করার দাবিতে গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (জি-স্কপ) বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলের কর্মসুচী পালন করেছে।

আজ (০১ জুলাই ২০২২), শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (জি-স্কপ) এর যুগ্ম-সমন্বকারী আব্দুল ওয়াহেদ’র সভাপতিত্বে এবং নঈমুল আহসান জুয়েলের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জী-স্কপের যুগ্ম সমন্বয়ক কামরুল আহসান, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক সেলিম মাহমুদ, গার্মেন্টস ও দর্জি শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি মোহাম্মদ রফিক, মাদারল্যান্ড গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি সালেহা ইসলাম শান্তনা, গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাংগঠনিক সম্পাদক কে. এম. মিন্টু, বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশন দরকষাকষি সম্পাদক মোহাম্মদ সোহাগ, সাইফুল ইসলাম শরিফ, রুহুল আমিন সোহাগ, মোহাম্মদ সোহেল, আব্দুর রাজ্জাক প্রমুখ। সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) এর যুগ্ম সমন্বকারী আহসান হাবিব বুলবুল।

সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, ডলারের মূল্যবৃদ্ধি এবং ক্রয় আদেশ বৃদ্ধির কারণে গার্মেন্টস কারখানার মালিকদের এখন চরম সুসময় তার বিপরীতে নিত্যপণ্যের উচ্চমুল্য আর অত্যধিক কাজের চাপে পোশাক শ্রমিকরা দিশেহারা। সুসময়ে থাকার পরও ঈদের মাত্র ৯ দিন আগেও অধিকাংশ কারখানা শ্রমিকদের ঈদ বোনাস পরিশোধ করেনি, জুন মাস সম্পূর্ণ শেষ হলেও অনেক কারখানা মালিক শ্রমিকদের আটকে রাখার কৌশল হিসাবে জুন মাসের সম্পুর্ণ বেতন পরিশোধ করবেনা বলে শোনা যাচ্ছে।

এই ধরণের অপকৌশল শ্রমিকদেরকে উত্তেজিত করবে যার ফলাফল ভালো হবে না বলে সাবধান করে দিয়ে এবং অবিলম্বে সকল পোশাক শ্রমিকের জুন মাসের বেতন ও পূর্ণ ঈদ বোনাস পরিশোধের আহবান জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, নিত্যপণ্যের উর্দ্ধমূল্যে শ্রমিকদের জীবন ওষ্ঠাগত। গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডি বলছে ঢাকার আশেপাশে বসবাসরত একজন মানুষের খাবার খরচ মাসে ৮ হাজার টাকার বেশি। সেক্ষেত্রে পোশাক শ্রমিকদের আজকের মজুরি তার শুধুমাত্র খাবার খরচকেই পূর্ণ করেনা তাই অবিলম্বে পোষাক শ্রমিকদের মজুরি পুণঃনির্ধারণের জন্য নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করতে হবে এবং তারপূর্ব পর্যন্ত মহার্ঘ্যভাতা এবং ভর্তুকি মূল্যে রেশনের মাধ্যমে নিত্যপণ্য সরবরাহের ব্যবস্থা করতে হবে।

মজুরির দাবিতে শ্রমিকদের আন্দোলনকে যারা হটকারি বলেন তাদের প্রতি ধিক্কার জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নের জন্য মজুরি বৃদ্ধির প্রয়োজনিয়তা যারা বুঝতে পারছেননা তারাই প্রকৃতপক্ষে শিল্পের সুষম বিকাশের পরিবর্তে মালিকদের সুদৃষ্টি প্রত্যাশা করছেন।

নেতৃবৃন্দ শ্রমিকদের জীবনের সোনালী সময়কে ব্যায় করার মধ্যে দিয়ে চাকরির অবসানে ক্ষতিপুরণ বাবদ প্রাপ্য পাওনা আত্মসাৎ করার সুযোগ দেয়ার জন্য সরকারের ভুমিকার নিন্দা জানিয়ে বলেন শ্রমিকদের পাওনার ৬৫ শতাংশ আর কর্মচারীদের পাওনার ৭৫ শতাংশ আত্মসাৎ করার সুযোগ দেওয়া ওপেক্স সিনহার নজির প্রতিষ্ঠা করতে দেওয়া হবে না।

অবিলম্বে বেকা, কুনতং, ওপেক্স সিনহাসহ বন্ধ কারখানার শ্রমিকদের আইনানুগ প্রাপ্য পাওনা পরিশোধ করার দাবি জানিয়ে বলেন, সকল সুযোগসন্ধানিদের চিহ্নিত করে সঠিক শক্তির নেতৃত্বে শ্রমিকদের মজুরি আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.