জীবিকা ও মানবিকতার জন্য রিকশা শ্রমিকদের লড়াই

আরিফুল ইসলাম নাদিম  

বাংলাদেশে যে বাহনগুলোতে প্রায় সব মানুষের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা রয়েছে, সেগুলো হলো রিকশা, ভ্যান ও ইজি বাইক। রিকশা-ভ্যান আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য বাহন। লকডাউন, শাটডাউন আর অতিবৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায়ও রিকশা-ভ্যানের কী যে কদর, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। রিকশা-ভ্যান কেবলমাত্র বাহন নয়, এটি আমাদের আবহমান সংস্কৃতির অংশে পরিণত হয়েছে। লোকশিল্পের বিভিন্ন বিক্রয়কেন্দ্রে (দোকান) রিকশা, ভ্যান শো-পিস হিসেবে বিক্রি হয়, ঘরের সৌন্দর্যবর্ধক হিসেবে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উৎকর্ষের ফলে জলে-স্থলে-আকাশ পথে পরিবহনের ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। প্রযুক্তির ছোঁয়ায় ব্যাটারি ও মটর যুক্ত করা হয়েছে রিকশা ও ভ্যানে।

গত দেড় বছরে করোনাভাইরাস মহামারি ও টানা লকডাউনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশের শ্রমিকশ্রেণি। ক্ষতিগ্রস্ত, কর্মহীন, বেকার ও ছাঁটাই হওয়া এসকল শ্রমিকদের পাশে সরকার ও মালিকপক্ষ দাঁড়ায়নি; দেয়নি কোনো প্রণোদনা। নতুন করে ২.৫ কোটি মানুষসহ অর্ধেকের বেশি মানুষ যখন দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে, সেই সময়ে আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে কর্মরত আনুমানিক ৫০ লাখ রিকশা, ব্যাটারি রিকশা ও ভ্যান, ইজিবাইক চালককে বেকার ও কর্মহীন করার খবর আসলো। এই খবর শুনে মোহাম্মদপুরের ৬০ বছর বয়সী রিকশাচালক হানিফ ভাই বললেন–‘সরকার ডিজিটাল দেশ গড়তে সবকিছুতে ডিজিটাল করছে কয়, কিন্তু আমরা নিজেরা রিকশায় যখন মটর লাগায়া ডিজিটাল করছি তখন সরকার ডিজিটাল বাদ দিয়া কইতাছে প্যাডেল মারো’। গেন্ডারিয়ার রিকশা চালক রনি ভাই বলেন, ‘কাজ দেয়ার খবর নাই, উল্টা কাজ কাইড়া নিতে চায়। শালার সরকারের ভাত দেয়ার মুরোদ নাই, কিল দেয়ার হাউস হইছে’।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গত ২০ জুন এক বক্তব্যে ব্যাটারিচালিত রিকশা, ভ্যান ও ইজিবাইক বন্ধের কারণ হিসেবে সড়ক পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা জোরদারকরণ এবং দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণের যুক্তি দেন। তিনি বলতে চেয়েছেন, ৭০ ভাগ দুর্ঘটনা এই সকল যানবাহনের জন্য ঘটে এবং বিদ্যুৎও খরচ হয়। আন্দোলনের মুখে ২৩ জুন আগের বক্তব্যের বিপরীতে প্যাডেলচালিত যানবাহন রাখার বিবৃতি দিয়েছেন। সরকার অযৌক্তিকভাবে নিজের দুর্বলতা ও ব্যর্থতার দায় এই গরিব মানুষের ঘাড়ে চাপাতে চাচ্ছে। যানজটের পুরো দায় মূলত ট্রাফিক ম্যানেজমেন্টের।

পরিসংখ্যান বলছে, ব্যাটারিচালিত রিকশা, ভ্যান, ইজিবাইকের আয়ের সঙ্গে ৫০ লাখ মানুষের পরিবারের অন্ন, বস্ত্র ও বাসস্থানের মতো মৌলিক চাহিদার বিষয়গুলো ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। সারাদেশে এ ধরনের অন্তত ৫০ লক্ষ চালক প্রতিদিন ৫০ জন করে যাত্রী বহন করলেও দৈনিক ২৫ কোটি যাত্রী (একজন মানুষ স্থান পরিবর্তনের জন্য একাধিক বার পরিবহন ব্যবহার করেন, প্রতিবার ব্যবহারের জন্য ওই যাত্রীকে একজন যাত্রী হিসেবে গণনা করা হয়) পরিবহন করে। এরপরও রিকশাকে গণপরিবহনের স্বীকৃতি দেয়া হয় না, দেয়া হয় না পরিবহন শিল্পের মর্যাদা। হঠাৎ এ সকল বাহন বন্ধ করলে বিশাল সংখ্যক মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়বে, তাতে অনেকের জীবনে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসবে। করোনাকালে অনেক মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছে। বারবার লকডাউনে ক্ষতিগ্রস্ত নানা পেশার শ্রমিক চাকরি থেকে ছাঁটাই হওয়া, প্রবাস থেকে ফেরত আসা এবং কর্মহীন অনেকে রিকশা, ভ্যান, ইজিবাইক কিনে কোনও মতে জীবনযাপন করছেন। করোনা মানুষের শরীরের পাশাপাশি অর্থনীতির হৃদপি-কেও অচল করে দিয়েছে। এমন এক ভয়ংকর সময়ে সরকার সহযোগিতার হাত না বাড়িয়ে হুট করে ব্যাটারিচালিত রিকশা, ভ্যান বন্ধের উদ্যোগী হয়েছে। সরকারে এ সিদ্ধান্ত কতটা মানবিক ও বিবেচনাপ্রসূত? বিকল্প কর্মসংস্থান ছাড়া রিকশা-ভ্যান ধ্বংস করা তো জীবিকা ধ্বংস করার শামিল। জীবিকার উপায় ধ্বংস হলে জীবনের কী হবে? উদরের জ্বালা বড় জ্বালা। এই জ্বালা কেন সরকার বুঝে না, আক্ষেপ করে রিকশাচালক সিদ্দিক ভাই বলেন, ‘বুঝবো কেমনে, আমাগো তো মানুষ মনে করে না। মানুষের সম্মান কি আমাগো দেয়, মোড়ে মোড়ে ট্রাফিক পুলিশ, অনেক যাত্রী আমাগো গায়ে হাত দেয়, মারতে তেড়ে আসে, রিকশার সিট রাইখা দেয়, বাপ-মা নিয়া গালি দেয়, গাড়ির চাকা ফুটা কইরা দেয়–কই কোনদিন তো প্রাইভেটকারে একটা বাড়ি দিয়া দেখে না। ওগো কিছু কয় না, কারণ ওরা মানুষ আর আমরা রিকশাওয়ালা’।

দুর্ঘটনাই যদি কোনো যানবাহন নিষিদ্ধের কারণ হয় তা হলে তো বিমান, বাস, ট্রাক, সিএনজি অটোরিকশা, মোটরবাইক এসবও বন্ধ করতে হবে। কারণ ব্যাটারিচালিত রিকশা, ভ্যান, ইজিবাইকের চেয়ে এসব যানবাহনে দুর্ঘটনার হার অনেক বেশি। আর এসব দুর্ঘটনার অধিকাংশই প্রাণঘাতী।

শোনা যায়, ১৯১৯ সালে চট্টগ্রামে রিকশা আমদানি করা হয়। ১৯৩০ সাল নাগাদ পাট রপ্তানির সাথে যুক্ত ইংরেজ সাহেবরা নারায়ণগঞ্জ ও নেত্রকোনায় বাহন হিসেবে রিকশা চালু করে। ৫০ এর দশকে ঢাকায় ঘোড়ার গাড়ির প্রাধান্য ছিল। পরবর্তীতে রিকশা চালু হলে ঘোড়ার গাড়ি কমতে থাকে। ঘোড়ার গাড়ি জোর করে উচ্ছেদ করা হয়নি। রিকশা সুবিধাজনক বাহন হওয়ার কারণে রিকশা ঘোড়ার গাড়ির জায়গায় পরিবহন হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। রিকশা, ভ্যান, ইজিবাইকের চাহিদা না থাকলে এগুলো আপনা আপনিই বন্ধ-বিলুপ্ত হয়ে যেতো।

এই উপমহাদেশে মটরযান নিয়ন্ত্রণ আইন প্রথম হয় ১৯৩৯ সালে, পরে বাংলাদেশে ১৯৮৩ সালে সেই আইন সংশোধন করা হয়েছে। পরিবেশবান্ধব রিকশায় মটর ব্যবহারের প্রযুক্তি ২০০৭ সালে বাংলাদেশে আসে। আমাদের দেশে অযান্ত্রিক বাহনের লাইসেন্স দেয় সিটি কর্পোরেশন, স্থানীয় সরকার আর মটর যান লাইসেন্স দেয় বিআরটিএ। মান্ধাতার আমলের আইন হওয়ার কারণে আইনগতভাবে কোনো প্রতিষ্ঠান ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান বা বাহন লাইসেন্স দেয়ার এখতিয়ার রাখে না। আর এই আইন সংশোধন করে এসকল বাহনকে লাইসেন্স প্রদান না করে পুলিশ, সরকারি দলের লোক ও প্রভাবশালীদের হাতে এই গরিব মানুষগুলোর ভাগ্য তুলে দেয়া হয়েছে। কার্ড-টোকেনের নামে হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। যে টাকা রিকশাচালক ও মালিকরা রাষ্ট্রের কোষাগারে দিতে ইচ্ছুক।

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশে উষ্ণতা বেড়ে যাচ্ছে, সেইসঙ্গে বাড়ছে অসহনীয় গরম। এ অবস্থায় প্যাডেলচালিত রিকশা চালকের পক্ষে ২/৩ জনকে বহন করা খুবই কষ্টসাধ্য ও অমানবিক। এটি এক ধরনের শ্রমদাসত্বও বটে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির চরম অগ্রগতির এই যুগে এই দাসত্বকে আমরা কীভাবে মানতে পারি? এক সময় মানুষের কাঁধে চড়ে পালকিতে করে বিত্তবানরা এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যেত, তারপর টানা রিকশার প্রচলন হলো। একশ্রেণির মানুষ আরোহী হয়ে রিকশায় বসে থাকতো, আর আরেক শ্রেণির মানুষ ভারবাহী পশুর মতো তা টেনে নিয়ে যেতো। অমানবিকতা দূরে ঠেলে চালু হলো প্যাডেলচালিত রিকশা। প্যাডেলচালিত রিকশা চালাতে অনাহার-অর্ধাহার-অপুষ্টিতে ভোগা চালককে যে পরিমাণ শারীরিক কষ্ট করতে হয় তা বিজ্ঞানের এই যুগে মানবিক বলে বিবেচিত হওয়া কোনোভাবেই উচিত নয়।

প্যাডেল চালিত ভ্যান-রিকশা একদিকে অমানবিক, অন্যদিকে প্যাডেলে চালিয়ে আয়ের পরিমাণও খুব কম। প্যাডেল চালিত রিকশায় নগরীর বর্তমান গতিশীলতা কমে আসবে বহুলাংশে। কিছু একটা হলেই আমাদের আইন প্রণেতারা কথিত উন্নত রাষ্ট্রের উদাহরণ টানেন। যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় শহরগুলোতে যেখানে ইঞ্জিন চালিত তিন চাকার বাহন যানবাহন হিসেবে স্বীকৃত, সেখানে আমাদের শহরে কেন থাকবে না! রিকশা-ভ্যান বন্ধ করে দিলে বা ব্যাটারি খুলে নিলে এই মানুষগুলো যাবে কোথায়? প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর গ্রামে গিয়ে সপরিবারে ভ্যানে চড়বার দৃশ্য প্রচারকারীরা এর ভেতরেই ভুলে গেলেন রিকশা চালকের প্রতি দরদ?

বিগত আট বছর ধরে নকশার আধুনিকায়ন, নীতিমালা প্রণয়ন, ব্যাটারি চালিত রিকশা ও ইজিবাইকসহ যান্ত্রিক যানবাহনের লাইসেন্স প্রদানসহ তিন দফা দবিতে আন্দোলন করে আসছিলো শ্রমিকরা। সেদিকে তোয়াক্কা না করে বরং বিকল্প ব্যবস্থার আগে পূর্ব ঘোষণা ছাড়া গণবিরোধী সিদ্ধান্ত দিয়েছে সরকার। যদি ব্যাটারিচালিত ভ্যান রিকশা বন্ধ করে দিতেই হবে; তবে ব্যাটারি রিকশা যখন বিক্রি হল, যন্ত্রাংশ আমদানি হলো, তখন ব্যবস্থা নেয়া হলো না কেন? এই প্রসঙ্গে কামরাঙ্গীরচরের রিকশাচালক রহিম ভাইয়ের স্পষ্ট কথা, ‘আমদানির সময় ইমপোর্টারের থেকে কমিশন খাইছে তাই কিছু কয় নাই, এখন চীনের গাড়ি আনায়া এগো থেকে কমিশন খাইয়া আমাগো রাস্তা থেইকা তুলে দিব।’ এই জন্য অবশ্য রহিম ভাই মিছিলে সবচেয়ে জোরে যে স্লোগানটা দেন সেটা হলো– ‘কমিশন খাওয়া সরকার আর নাই দরকার’।

এসব রিকশা ভ্যান নিয়ে আরেকটা অভিযোগ হচ্ছে তারা ব্যাটারি চার্জ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎ অপচয় করছে। আপনি সাহেব কুতুব সকাল থেকে একটা দুই টনের এসি ছেড়ে অফিস করছেন, তাতে বিদ্যুৎ নিয়ে কথা উঠে না, কিন্তু এই ভাদ্র মাসের রোদে একজন রিকশাওয়ালা যদি প্যাডেল না মেরে ব্যাটারির সাহায্যে গাড়ি চালায়, আর ওই দুই টনের এসি এক ঘণ্টায় যে আড়াই ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ করে সেই বিদ্যুৎ দিয়ে তার রিকশার ব্যাটারি ফুলচার্জ করে জীবিকার ব্যাবস্থা করে, তাহলে বিদ্যুতের অপচয় নিয়ে কথা ওঠে? কী পরিমাণ ভণ্ডামিপূর্ণ এই যুক্তিবিদ্যা। দেশে ৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়ে এই সরকারের আমলে ২৫ হাজার মেগাওয়াট হয়েছে। এই বিদ্যুৎ বাংলাদেশ ব্যাংকে ফিক্সড ডিপোজিট করার জিনিস নয়, এই বিদ্যুৎ শিল্পায়নে লাগবে আর লাগবে মানুষের জীবনকে আরামদায়ক করতে। সেই আরাম শুধু এসি, ওয়াশিং মেশিন, ডিশওয়াশার, লিফটের আরাম নয়, এই আরাম যেতে হবে ক্ষেতে-খামারের কৃষকের সেচযন্ত্রে, যেতে হবে কুমোরের চাকা ঘুরানোর মোটরে, যেতে হবে কামারের ফার্নেসে, রিকশা-ভ্যানওয়ালার মটরচালিত যানবাহনে। এই বিদ্যুতে দেশের সব মানুষের অধিকার। সুতরাং রিকশা, ভ্যান অটোমেশনকে যারা বিদ্যুতের অপচয় বলে রায় দেয়, তারা হাতে পায়ে মানুষরূপী হলেও অমানুষিকতায় অমানবিক। আর এই রিকশাচালক-মালিকরা বিদ্যুৎ বিল নিয়মিত দেন। সরকারের বিদ্যুৎ বিভাগের মিটারম্যানসহ কর্মকর্তাদের লুটপাট চুরির লসের দায় কেন এই খেটে খাওয়া মানুষের ঘাড়ে চাপাচ্ছেন।

ব্যাটারিচালিত রিকশার ব্রেক পদ্ধতি এবং কাঠামোগত দুর্বলতায় বুয়েট প্রস্তাবিত আধুনিকায়ন না করে রাস্তা থেকে উচ্ছেদ করা মাথা ব্যথার জন্য মাথা কেটে ফেলার মতো। বাংলাদেশে ভ্যান রিকশার চাহিদা এখনো শেষ হয়ে যায়নি। সত্যি বলতে যারা গণবিরোধী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা গণপরিবহনে চড়েন না। আর তারা যে জনগণের জন্য সিদ্ধান্ত নেয় সেই জনগণের ভোটে তারা নির্বাচিতও নয়। ফলে জনগণের স্বার্থ সরকারের কাছে গৌণ, প্রধান হচ্ছে কমিশন আর বিদেশ তোষণ। তাই রিকশাচালকরা তাদের সমাবেশে বলছে – ‘তুমি সরকার যেই নির্বাচনে সরকার হইছো ওইটা ভোট ডাকাতির নির্বাচন, ওই নির্বাচন বৈধ না। অবৈধ উপায়ে নির্বাচিত সরকারের অবৈধ সিদ্ধান্ত আমরা জনগণ মানি না।’

একটি শহরের ২৫ শতাংশ রাস্তা থাকতে হয়, আমাদের শহরগুলোতে আছে মাত্র ৮ শতাংশ। ফলে অলিগলিতে ভরা নানা শহরের এই দেশে করের আওতায় থাকা এবং দেশীয়ভাবে নির্মিত হালকা যান্ত্রিক বাহনগুলোই ভবিষ্যৎ। মহাসড়কগুলোতেও এই হালকা বাহনগুলোর জন্য পার্শ্বরাস্তা থাকা অত্যাবশ্যক। আর এই অত্যাবশ্যক বিষয়টি যদি সরকার স্বীকার না করে মানুষকে বঞ্চিত করে, তবে বঞ্চিত মানুষেরা জীবন বাঁচাতে ও নিজেদের পেশাগত স্বীকৃতি আদায়ে বেপরোয়া হলে, তা বিদ্যমান রাষ্ট্র ও সরকারের জন্য সুখকর হবে না। ইংরেজিতে একটি প্রবাদ আছে, ‘অ যঁহমৎু সধহ রং ধহ ধহমৎু সধহ’ । আর পৃথিবীর ইতিহাস এইসব গতর খাটা মানুষেরই ইতিহাস।

লেখক: যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, রিকশা-ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.