জার্মানি-বেলজিয়ামে ভয়াবহ বন্যা; মৃত অন্তত ১৮৩

অর্ধ শতাব্দীর ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যার সম্মুখীন হয়েছে জার্মানি।

টানা বৃষ্টি ও ভারী বৃষ্টি থেকে সৃষ্ট বন্যায় জার্মানিতে এখন পর্যন্ত ১৫৬ জন ও দক্ষিণ বেলজিয়ামে ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এর মধ্যে কোলন শহরের দক্ষিণে আভাইলা জেলাতেই প্রায় ১১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

সব মিলিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে আজ এসব তথ্য জানানো হয়।

এদিকে বন্যায় নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে জার্মানির সরকারি স্থাপনায় জাতীয় পতাকা আজ রোববার পর্যন্ত অর্ধনমিত রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বন্যায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া বেশ কয়েকটি এলাকার কয়েকশ লোক এখনও নিখোঁজ রয়েছেন অথবা তাদের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। কিছু এলাকার সঙ্গে টেলিযোগাযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে রয়েছে।

বলা হচ্ছে, নতুন করে অতিবৃষ্টির কারণে দক্ষিণ জার্মানির অস্ট্রিয়া ও সুইজারল্যান্ড সীমান্তের নদীগুলোর পানি বাড়ছে। সেখানকার কিছু এলাকায় বন্যা দেখা দিয়েছে। তবে জার্মানির পশ্চিমাঞ্চলে কয়েকটি অঞ্চলের পানি ধীরে ধীরে কমছে।

সবশেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, রোববার সকালে দক্ষিণ জার্মানির বাভারিয়া প্রদেশের একটি জেলায় অতিবৃষ্টিতে মাটিধস হয়েছে। দেখা দিয়েছে বন্যা। সেখানে একজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।

জার্মানির দুর্যোগ প্রতিরোধ ও সমন্বয়সংক্রান্ত মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নর্থ রাইন ভেস্টফ্যালিয়ার ২৩ জেলায় বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রাইনল্যান্ড-ফ্যালৎস রাজ্যের শুল্ড ও অহরওয়েলার জেলাটি সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানকার ৭০০ বাসিন্দা এখন অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছে।

শনিবার সকালে হেইনসবার্গ জেলার রুর বাঁধ ভেঙে গেলে এলাকার একটি গ্রাম থেকে ৭০০ বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। বন্যায় আইফেল ও ট্রিয়ার-সারবর্গ জেলায়ও যথেষ্ট ক্ষতি হয়েছে।

জার্মানির চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল বিপর্যস্ত অঞ্চলে সহযোগিতার জন্য আজ দুই প্রদেশের স্থানীয় সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন বলে তাঁর মুখপাত্র জানিয়েছেন। গতকাল জার্মানির প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্ক ভাল্টার স্টাইনমায়ার উপদ্রুত এলাকা পরিদর্শন করেন।

বন্যা থেকে সৃষ্ট বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে অনেক সময় লাগবে বলে জানিয়েছে জার্মান সরকার।

Leave a Reply

Your email address will not be published.