জার্মানিতে মধ্য বামপন্থী দলের কাছে মের্কেলের দলের হার

জার্মানিতে অ্যাঙ্গেলা মের্কেলের দল ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন (সিডিইউ)-কে ০.৮ শতাংশ ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে নির্বাচনে জিতেছে মধ্য বামপন্থী দল হিসেবে পরিচিত সোশাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এসপিডি)।

দলটি ২৫.৭ শতাংশ ভোট পেয়েছে। অন্যদিকে ২৪.১ শতাংশ ভোট পেয়েছে অ্যাঙ্গেলা মের্কেলের ডেমোক্র্যাটিক ইউনিয়ন অফ জার্মানি বা সিডিইউ ও তার শরীক দল।

এদিকে সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি রবিবার জার্মানির দুটি রাজ্যে –ওয়েস্টার্ন পমেরানিয়া ও বার্লিন –অনুষ্ঠিত নির্বাচনে এসপিডি দল সরকার গড়তে চলেছে৷ ফলে সংসদের উচ্চ রক্ষে দলের শক্তি অক্ষত রইলো৷

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে আজ এসব খবর প্রদান করা হয়।

এদিকে গ্রিনস পার্টি তৃতীয় অবস্থানে থাকলেও দলগতভাবে ভোটে সবচেয়ে ভাল করেছে। তারা পেয়েছে ১৪.৮ শতাংশ ভোট যা দলটির ইতিহাসে এযাবতকালের সবচেয়ে বেশি। এছাড়া ১১.৫ শতাংশ ভোট পেয়েছে এফডিপি।

এখন সরকার গঠন করতে হলে একটি জোট করতে হবে।

যে দলের নেতৃত্বেই নতুন সরকার গঠন করা হোক না কেন, ক্ষমতার নিরিখে এসপিডি দল সুবিধাজনক অবস্থান নিশ্চিত করেছে৷ জার্মানির সংসদের উচ্চ কক্ষ বুন্ডেসরাট ১৬টি রাজ্যের প্রতিনিধিদের মঞ্চ৷ সব গুরুত্বপূর্ণ আইন সেখানেও অনুমোদন করাতে হয়৷ ফলে যে দলের হাতে বেশিরভাগ রাজ্যের রাশ রয়েছে, সেই দলের জোর যথেষ্ট বেশি৷

রোববার উত্তর পশ্চিমের জনবিরল রাজ্য মেকলেনবুর্গ ওয়েস্টার্ন পমেরানিয়া এবং বার্লিনে এসপিডির জয়ের পর বুন্ডেসরাটে এসপিডি দলের ক্ষমতা অক্ষুণ্ণ রইলো৷

এসপিডি দলের নেতা ওলাফ শলৎজ অবশ্য এর আগে বলেছেন, সরকার গঠনে তার দল ভোটে স্পষ্ট রায় পেয়েছে।

সমর্থকরা ব্যাপক উচ্ছ্বাসের সাথে ওলাফ শলৎজকে অভ্যর্থনা জানিয়েছে। পরে এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ভোটাররা একটি ‘বাস্তবধর্মী সরকার’ গঠনে তাকে দায়িত্ব দিয়েছে।

অন্যদিকে অ্যাঙ্গেলা মের্কেলের আশীর্বাদপুষ্ট সম্ভাব্য উত্তরসূরি আরমিন লাশেট বলেছেন, সবচেয়ে বেশি ভোট পেলেই জয়ী হওয়া যাবে না। পুরো বিষয়টা এখন অংকের হিসেব।

বুথফেরত জরীপে দুই দলই সমান ভোট পাচ্ছে বলে মনে হচ্ছিল। কিন্তু শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অপ্রত্যাশিত পূর্বাভাস আসছিল এবং এই ফলাফলই যে শেষ নয় এমন ইঙ্গিত আগই পাওয়া যাচ্ছিল।

এখন একটি জোট সরকার গঠনের চাবিকাঠি রয়েছে গ্রিনস এবং এফডিপি’র হাতে।

দুটি দলের কেউই আলাদা করে চমক না দেখালেও তাদের দুই দলের ভোট একসাথে করলে একটি জোট সরকার গঠনে বড় দুই দলের যে কারোর জন্য সেটি চমক হতে পারে।

তবে তাদেরকে এক ছাদের নিচে আনতে পারাই এখন বড় দুটি দলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

জোট সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ছোট এই দল দুটিই ৩০ বছর বয়সের নিচে জার্মান নাগরিকদের পছন্দ।

সব মিলিয়ে এখন জটিল আকার ধারণ করেছে এই নির্বাচনের ফল।

তবে এটা পরিষ্কার যে একটি জোট সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত কোথাও যাচ্ছেন না বিদায়ী চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মের্কেল।

প্রসঙ্গত, ২০২২ সালে জার্মানির চারটি রাজ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে৷ সিডিইউ নেতা আরমিন লাশেটের নর্থরাইন ওয়েস্টফেলিয়াও তার মধ্যে রয়েছে৷ এসপিডি দলের জয়যাত্রা অব্যাহত থাকলে এই রাজ্যও সিডিইউ-র হাতছাড়া হতে পারে৷ রবিবারের সংসদ নির্বাচনে এসিপিডি নর্থরাইন ওয়েস্টফেলিয়ায় সবচেয়ে শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করেছে৷ ২০০৫ সালের পর এসপিডি এমন সাফল্য অর্জন করলো৷ উত্তরের শ্লেসভিক হলস্টাইন ও দক্ষিণের সারলান্ড রাজ্যেও ২০২২ সালে সিডিইউ পরাজয়ের মুখ দেখলে এসপিডি সংসদের উচ্চ কক্ষে নিজস্ব ক্ষমতা আরও জোরদার করতে পারবে৷

Leave a Reply

Your email address will not be published.