জাবি শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনে ছাত্র ইউনিয়নের সংহতি

এক হাজার ৪৪৫ কোটি টাকার নির্মাণ প্রকল্পের জন্য জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) প্রায় ১ হাজার ১৩২টি গাছ কেটে ফেলার জন্য চিহ্নিত করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ইতিমধ্যে প্রায় ৫০০ গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। সেই সঙ্গে এই প্রকল্পে ছাত্রলীগ বাধা দিবে না এই প্রতিশ্রুতিতে ছাত্রলীগ নেতাদের দেওয়া হয়েছে ২ কোটি টাকা- এমন সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে বৃক্ষনিধন ও অপরিকল্পিত-অস্বচ্ছ প্রকল্প রুখে দিতে গত ২৩ আগস্ট থেকে আন্দোলনে নেমেছেন জাবির শিক্ষার্থীরা।

চলমান এই আন্দোলনের সাথে সংহতি জানিয়ে মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) এক বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন।

এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মেহেদী হাসান নোবেল এবং সাধারণ সম্পাদক অনিক রায় বলেন, অপরিকল্পিত, অস্বচ্ছ এবং অদূরদর্শী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শিক্ষার্থী সংশ্লিষ্ট সংগঠনসমূহ তথা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মতামত তোয়াক্কা না করেই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তড়িঘড়ি করে বাস্তবায়নের অপচেষ্টা করছে। সম্প্রতি সংবাদ মাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে যে, দুই কোটি টাকা ভাগ বাটোয়ারা করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মাঝে বণ্টন করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে সাংবাদিকরা উপচার্যকে প্রশ্ন করলে তিনি সাংবাদিকদের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ছাত্র শৃঙ্খলা অধ্যাদেশে বিতর্কিত ধারা মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণে হুমকি দেন। প্রশাসনের এই স্বৈরাচারী আচরণের বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যে আন্দোলন পরিচালনা করছে তাতে সর্বাত্মক সংহতি জানায় বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় সংসদ।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, জনগণের করের টাকায়, রাষ্ট্রের টাকায় এই অন্যায্য ব্যবহার ও নয় ছয় করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশকে একেবারে মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়া হচ্ছে। সম্প্রতি সরকার দলীয় ছাত্র সংগঠনকে দুই কোটি টাকার ভাগ বাটোয়ারার কথাও সংবাদ মাধ্যমে এসেছে। এ থেকে প্রমাণ পায় বাংলাদেশের সকল স্বাধীন ও স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান তার স্বকীয়তা হারিয়েছে এবং পরিণত হয়েছে দলীয় প্রতিষ্ঠানে। ফলে জনগণের করের টাকায় অপরিকল্পিত ও অস্বচ্ছ প্রকল্প রুখে দিতে জাহাঙ্গীরনগরের শিক্ষার্থীরা যে আন্দোলন পরিচালনা করছে তাতে আমাদের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে এবং আমরা মনে করি এই আন্দোলনের সফলতা সারা বাংলাদেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে গণতান্ত্রিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠার চলমান আন্দোলনকে আরও বেগবান করবে।

তারা আরও বলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের কর্তব্যরত সাংবাদিকদের সাথে ক্ষিপ্ত আচরণ এবং ছাত্র শৃঙ্খলা অধ্যাদেশে বিতর্কিত ধারা মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণের হুমকি প্রদানের ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং অবিলম্বে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেয়ার আহবান জানাই প্রশাসনকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.