জাতীয় স্বার্থবিরোধী অসম চুক্তি বাতিল ও আবরার হত্যার দ্রুত বিচার দাবিতে বাম জোটের সমাবেশ

ভারতের সাথে সম্পাদিত জাতীয় স্বার্থবিরোধী অসম চুক্তিসমূহ বাতিল, নতজানু পররাষ্ট্র নীতি পরিহার এবং আববার হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার ও শিক্ষাঙ্গনে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বাম গণতান্ত্রিক জোট।

রোববার (১৩ অক্টোবর) বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ইউসিএলবি’র সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য নজরুল ইসলাম। বক্তব্য রাখেন সিপিবি’র সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহ আলম, বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বজলুর রশীদ ফিরোজ, বাসদ (মার্কসবাদী)’র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মানস নন্দী, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য বহ্নিশিখা জামালী, গণসংহতি আন্দোলনের সম্পাদকম-লীর সদস্য বাচ্চু ভূঁইয়া, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের হামিদুল হক। সভা পরিচালনা করেন বাসদ (মার্কসবাদী) নেতা মাসুদ রানা।

সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরকালে সম্পাদিত চুক্তি, সমঝোতা স্মারক ও যৌথ ঘোষণায় একতরফা ভাবে ভারতের স্বার্থকেই প্রাধান্য দেয়া হয়েছে এবং বাংলাদেশের স্বার্থ সম্পূর্ণরূপে উপেক্ষিত হয়েছে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, তিস্তাসহ অভিন্ন নদীসমূহের পানির ন্যায্য হিস্যার বিষয়টি ঝুলিয়ে রেখে ফেনী নদীর পানি ভারতকে প্রদান করার চুক্তি স্বাক্ষর করায় দেশের মানুষ ক্ষুব্ধ ও হতাশ হয়েছে। এটা দেশ ও জনগণের সাথে বিশ্বাসঘাতকতার সামিল।

নেতৃবৃন্দ বলেন, এবারের চুক্তিতে বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলীয় নিরাপত্তা ও নজরদারীর জন্য ভারতকে যে ২০টি রাডার স্টেশন করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে, তার মধ্য দিয়ে আমাদের দেশের সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়বে। এটা ভারত, আমেরিকার ভূ-রাজনৈতিক ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারের একটি কৌশলের অংশ এবং এতে চীনের সাথে আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অবনতি ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।

নেতৃবৃন্দ বিদেশ থেকে এলপিজি গ্যাস আমদানি করে ভারতে রপ্তানির বিষয়টিকে অনভিপ্রেত আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি দেশের স্বার্থের জন্য আত্মঘাতিমূলক। নেতৃবৃন্দ নিন্দা জানিয়ে বলেন, বিএসএফ কর্তৃক সীমান্তে আমাদের দেশের নিরীহ মানুষ হত্যা বন্ধের বিষয়টি যৌথ ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়নি। তারা বাংলাদেশ সরকারের দিক থেকে বাণিজ্য ঘাটতি নিরসনের বিষয়টি আলোচনায় উত্থাপন না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারত বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ায়নি। জাতিসংঘে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে আমাদের দেশের প্রস্তাবের পক্ষে ভারত ভোটদানে বিরত থেকেছে। যৌথ ঘোষণায়ও রোহিঙ্গা শব্দটির উল্লেখ পর্যন্ত নাই। তারা বাংলাদেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে ভারতের অবস্থানের তীব্র নিন্দা জানান। নেতৃবৃন্দ ভারতের নাগরিকপুঞ্জির বিষয়টি যৌথ বিবৃতিতে আনতে ব্যর্থ হওয়ায় সরকারের কূটনৈতিক অদক্ষতার সমালোচনা করেন।

নেতৃবৃন্দ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এবারের ভারত সফরে সম্পাদিত চুক্তি, সমঝোতা স্বাক্ষর ও যৌথ ঘোষণা বাংলাদেশ সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতির বহিঃপ্রকাশ।

নেতৃবৃন্দ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকান্ডের তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানান। তারা আবরার হত্যাকারী ও তাদের মদদদাতাদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

এদিকে নাটোরে বাম গণতান্ত্রিক জোটের জনসভায় হামলা চালায় ছাত্রলীগ। এতে আহত হন ছাত্র ইউনিয়ন জেলা কমিটির সভাপতি আদিত্য শুভ। সমাবেশ থেকে হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয় এবং ছাত্রলীগের হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.