জাতীয় বাজেটের ৫% কর্মসংস্থান খাতে বরাদ্দের দাবিতে যুব ইউনিয়নের সমাবেশ

করোনা ভাইরাস মহামারীর সময়ে বেকার ও কর্মহীন হয়ে পড়া যুবদের ঈদের আগে এককালীন অর্থ সহায়তা প্রদান এবং আসন্ন জাতীয় বাজেটের ৫% কর্মসংস্থান খাতে সুনির্দিষ্ট বরাদ্দের দাবিতে দূরবন্ধন সমাবেশ ও অর্থমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন।

এ দাবিতে যুব ইউনিয়িনের পক্ষকালব্যাপী কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনে আজ (১০ মে) বেলা ১২টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে প্ল্যাকার্ড/পোস্টার হাতে দূরবন্ধন সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সংগঠনের সভাপতি হাফিজ আদনান রিয়াদের সভাপতিত্বে সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে দেশের বিপুল বেকার যুবদের কাতারে নতুন করে কর্মহীন হয়ে পড়া আরো লক্ষ-কোটি যুব যুক্ত হয়েছে। সরকার এখন পর্যন্ত করোনা সংক্রমণ ও বিপর্যয় মোকাবেলায় কোন দৃঢ় সিদ্ধান্ত দিতে পাড়েনি। ফলে জনজীবনে সঙ্কা, অস্থিরতা বেড়েছে। মানুষ এখন আর লকডাউন মানছে না। দেশের এই বিপুল বেকার ও কর্মহীন জনগোষ্ঠীকে সরকার কোন স্বস্তিদায়ক বার্তাতো দেয়ইনি বরঞ্চ সাধারণ ছুটি, আংশিক খোলা, শর্ত সাপেক্ষে খোলা বা বন্ধ ইত্যাদি নানা কথা বলে আরো বিভ্রান্ত করেছে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের ১ কোটি ১০ লক্ষ প্রাতিষ্ঠানিক শ্রমিকরাতো বটেই এর বাইরের ২ কোটি ৩০ লক্ষ কৃষি শ্রমিক এবং আরো প্রায় ৩ কোটি ২০ লক্ষ অন্যান্য পেশার শ্রমজীবী মানুষদের কারো জন্যই স্বাস্থ্যগত, আর্থিক বা সামাজিক সুরক্ষা বর্তমান বরকার নিশ্চিত করতে পারে নাই। ফলে আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে জরুরিভিত্তিতে বেকার ও কর্মহীন হয়ে পড়া যুবদের এককালীন অর্থ সহায়তা প্রদান ও আসন্ন জাতীয় বাজেটে দেশের প্রধান সমস্যা হিসেবে কর্মসংস্থান সংকটকে চিহ্নিত করে জাতীয় বাজেটের ৫% কর্মসংস্থান খাতে সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ করতে হবে। তা দিয়ে দ্রুত কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বেকারদেরকে কাজে লাগাতে না পারলে জাতীয় বিপর্যয় অবশ্যম্ভাবী।

তারা বলেন, লক্ষ কোটি যুবদের কর্মশক্তিকে নিষ্ক্রিয় রেখে শুধুমাত্র লুটেরা ধনীক শ্রেণীর পৃষ্টপোষকতা করে শেষ রক্ষা হবে না। জাতীয় বাজেটে কর্মসংস্থান খাতে সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ ছাড়া প্রকৃত উন্নয়ন হতে পারে না। যুব ইউনিয়ন যুবদের এ দাবী আদায়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলতে প্রস্তুত আছে।

সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, আমরা যুব ইউনিয়ন যেমনি ভাবে আমাদের সামর্থ্য ও প্রচেষ্টা নিয়ে নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষের পাশে আছি, তাদেরকে খাদ্য সামগ্রী, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, মাস্ক, জীবানুনাশক স্প্রে, শিশু খাদ্য দিয়ে সহায়তা করছি তেমনি তাদের স্বাস্থ্য ও আর্থিক সুরক্ষার জন্য আন্দেলনেও আছি।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, সরকার বিগত ১১ বছর জাতীয় বাজেটে যুবদের বঞ্চিত করেছে, আর না। এবার জাতীয় বাজেটের ৫% কর্মসংস্থান খাতে সুস্পষ্ট বরাদ্দ দিতে হবে। যুব ইউনিয়ন এ দাবি আদায়ে সর্বাত্মক আন্দেলন গড়ে তুলবে।

সমাবেশে অন্যান্যর মাঝে বক্তব্য রাখেন, প্রেসিডিয়াম সদস্য ডা. সাজেদুল হক রুবেল, সাংগঠণিক সম্পাদক আশিকুল ইসলাম জুয়েল, সহ-সাধারণ সম্পাদক শরিফুল আনোয়ার সজ্জন, সমাজকল্যাণ সম্পাদক শাহীন ভুইয়া, ক্রীড়া সম্পাদক আসাদুজ্জামান আজিম, ঢাকা মহানগর কমিটির নেতা জাহিদ হোসন প্রমূখ।

এ সময় সংহতি জানিয়ে উপস্থিত ছিলেন হকার্স ইউনিয়নের কার্যকরী সভাপতি মুর্শিকুল ইষলাম শিমুল, ক্ষেতমজুর সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফুল ইসলাম নাদিম, ছাত্র ইউনিয়নের সহসভাপতি দীপক শীল প্রমূখ।

বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন এ দাবীতে আগামী ১৭মে রবিবার প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করবে। ঐদিন ঢাকায় কেন্দ্রীয় কমিটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্মারকলিপি প্রদান করবে। একইসাথে সকল জেলায় জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর ঐ স্মারকলিপি প্রদান করা হবে। সংক্রমণ এড়াতে সকল কর্মসূচি সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে পালন করা হবে বলে জানান নেতৃবৃন্দ।