জনগণের টাকায় স্বৈরাচারী অহমিকা আর কত দিন: ছাত্র ইউনিয়ন

বিগত কয়েক দিন ধরে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান আন্দোলন ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে অবিবেচকের মতো মন্তব্য করে চলেছেন। যা সারা বাংলাদেশের ছাত্র সমাজকে হতাশ ও ক্ষুব্ধ করেছে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন।

এক যৌথ বিবৃতিতে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মেহেদী হাসান নোবেল ও সাধারণ সম্পাদক অনিক রায় বলেন, ৭৩’র অধ্যাদেশ অনুযায়ী পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো স্বায়ত্ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান। স্বায়ত্ত্বশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়সহ বাংলাদেশে সকল সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে জনগণের অর্থ সুষম বণ্টন করা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব। কিন্তু সরকার এই অর্থ পায় দেশের কৃষক, শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের দেওয়া ভ্যাট, ট্যাক্স ও রাজস্ব আদায়ের মাধ্যমে। গত কয়েক দিন ধরে প্রধানমন্ত্রী বারংবার ‘সরকার টাকা দেয়, আমরা টাকা দেই’ এ ধরনের বক্তব্য প্রদান করছেন, যা খুবই আপত্তিজনক। যেকোনো স্বায়ত্ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানে সরকার জনগণের টাকা দেয় দক্ষ মানবশক্তি তৈরির জন্য। জনগণের টাকায় পরিচালিত একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন দুর্নীতি ও ঈদ সেলামির নামে টাকার ভাগ বাটোয়ারা চলে এবং দায়িত্বে থাকা একজন সরকারপ্রধান অভিযোগ খতিয়ে না দেখে বরং অভিযোগকারীদের হয়রানির করার লক্ষ্যে নানারকম অযৌক্তিক বক্তব্য ও আন্দোলনকারীদের পরিবারকে হয়রানি করে দুর্নীতির মতো অভিযোগকে আড়াল করার চেষ্টা করছেন তা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক।

এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, বিশ্বের আর কোথাও বাংলাদেশের মতো এত স্বল্প খরচে উচ্চ শিক্ষার সুযোগ নেই। বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ এই প্রেক্ষিতে বলেন জার্মানি, সুইডেন, ফিনল্যান্ড, নরওয়ে, ফ্রান্স, সোভেনিয়াসহ বিশ্বের আরও অনেক দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে কোনো ফি লাগে না। শিক্ষা যেখানে বাংলাদেশের নাগরিকের মৌলিক অধিকার সেখানে জনগণের টাকায় পরিচালিত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অর্থের বরাদ্দ নিয়ে প্রশ্ন করা নিতান্তই বোকার মতো কাজ।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, জনগণের টাকায় প্রধানমন্ত্রীর স্বৈরাচারী অহমিকা আর কত দিন? আমরা তাঁকে মনে করিয়ে দিতে চাই এরকম দাম্ভিকতা নিয়ে আইয়ুব-ইয়াহিয়ারাও বাংলাদেশের ছাত্র সমাজকে নিয়ে কটাক্ষ করেছিল এবং এর খেসারত তাদেরকে দিতে হয়েছে। তাই আমরা প্রধানমন্ত্রীকে এ ধরনের বক্তব্য ও চিন্তা থেকে সরে আসার এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান আন্দোলনকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানাচ্ছি।

প্রেস বিজ্ঞপ্তি/১০১১১৯

Leave a Reply

Your email address will not be published.