ছাত্রলীগের হামলা ‘গণঅভ্যুত্থান’ : জাবি ভিসি

জাবি প্রতিনিধি: আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপর হামলার ঘটনাকে ‘গণ অভ্যুত্থান’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ফারজানা ইসলাম। আন্দোলনকারীদের উপর হামলা করে তাকে মুক্ত করায় তিনি জাবি শাখা ছাত্রলীগকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনের কনফারেন্স রুমে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব কথা বলেন তিনি।

এসময় তিনি বলেন, আজ মানুষের জেগে ওঠা আমরা দেখেছি। আমার সহকর্মী কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সব ছাত্রছাত্রী বিশেষ করে ছাত্রলীগের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। কারণ তারা দায়িত্ব নিয়ে এ কাজটি করেছে। এখন সুষ্ঠুভাবে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার জন্য সবাই আমাকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবেন। তিনি আরো বলেন, আমাদের চিন্তা করতে হবে কারা, কেনো, কিভাবে ব্যক্তিগত পর্যায় থেকে বিশ্ববিদ্যালয়কে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যেতে চায়। মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে আমাকে অপমান অপদস্ত করা হচ্ছে। যদি কেউ প্রমাণ করতে পারে তাহলে যে বিচার হবে আমি তা মেনে নেব।

সাংবাদিকদের ব্রিফিং শেষে জরুরি সিন্ডিকেট সভায় অংশ নেন উপাচার্য। যেখানে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে দুর্নীতির অভিযোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের অপসারণ দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষক–শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেছে ছাত্রলীগ। এই হামলায় অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে। হামলার আহতদের বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে ১২ জন চিকিৎসা নিয়েছেন এবং বাকিদেরকে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আন্দোলনকারীরা জানান, মঙ্গলবার বেলা ১১টায় আন্দোলনকারীরা যখন উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছিলেন, তখন উপাচার্যপন্থী শিক্ষকেরা সেখানে যান। তারা আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের তুলে দিয়ে উপাচার্যের বাসভবনে ঢোকার চেষ্টা করেন। তবে আন্দোলনকারীদের বাধার মুখে তারা বাসভবনে ঢুকতে পারেননি। এর কিছুক্ষণ পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের একটি মিছিল সেখানে আসে। মিছিল থেকে হামলা করে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের সেখান থেকে সরিয়ে দিয়ে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেয়।

গতকাল সন্ধ্যা থেকে আন্দোলনকারীরা উপাচার্যের বাসভবন ঘেরাও করে রাখেন। যতদিন না উপাচার্যকে অপসারণ করা হবে, ততদিন অবরোধ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছিলেন আন্দোলনকারীরা।

এফএইচ/এসএ/০৫১১১৯

Leave a Reply

Your email address will not be published.