চীনের কমিউনিস্ট পার্টির শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষ্যে শি জিনপিং –এর বক্তৃতা

(চীনের কমিউনিস্ট পার্টির শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষ্যে গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং -এর বক্তৃতা। অনুবাদ করেছেন বিপ্লব রঞ্জন সাহা। তিন কিস্তিতে পুরো বক্তৃতা প্রকাশিত হচ্ছে। আজ বক্তৃতার তৃতীয় ও শেষ কিস্তি প্রকাশিত হল।)

(শেষ কিস্তি) 

কমরেডস ও বন্ধুরা,

আমরা ‘এক দেশ দুই ব্যবস্থা’-র পত্র ও নীতির প্রতি বিশ্বস্ত থাকবো, যার অধীনে হংকংয়ের জনগণ হংকংকে এবং ম‍্যাকাওয়ের জনগণ ম‍্যাকাওকে উচ্চ মাত্রার স্বায়ত্বশাসনের ভিত্তিতে পরিচালনা করে।

আমরা নিশ্চিত করবো যে কেন্দ্রীয় সরকার হংকং ও ম‍্যাকাওয়ের উপর সামগ্রিক আইনগত অধিকার প্রয়োগ করে এবং জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা করতে দুটি বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চলে আইনগত বিষয় ও তার ক্ষমতার প্রায়োগিক পদ্ধতির উপর অধিকার বলবৎ করে।

চীনের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা উন্নয়ন স্বার্থ রক্ষা করার সময়ে, আমরা হংকং ও ম‍্যাকাওয়ে সামাজিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবো এবং এই দুই বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চলে স্থায়ী সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা রক্ষা করবো। তাইওয়ান প্রশ্নের সমাধান এবং চীনের সাথে তার পূর্ণ পুনরেকত্রীকরণ বাস্তবায়ন হলো চীনের কমিউনিস্ট পার্টির একটি ঐতিহাসিক লক্ষ‍্য এবং অটল অঙ্গীকার। এটা সকল চীনা ছেলেমেয়ের অংশীদারীত্বমূলক প্রত‍্যাশাও বটে।

আমরা এক চীন নীতি ও ১৯৯২ সালের ঐক‍্যমত‍্যের নীতি অনুসরণ করবো এবং শান্তিপূর্ণ জাতীয় ঐক‍্যকে অগ্রসর করে নিবো। তাইওয়ান প্রণালীর উভয় পাশের মানুষ আমরা সবাই স্বদেশবাসী অবশ্যই ঐক‍্যবদ্ধ হবে এবং সংহতির পথে একসাথে এগিয়ে যাবে।

আমরা অবশ্যই ‘তাইওয়ানের স্বাধীনতা’ বিষয়ক যেকোন উদ‍্যোগকে পরাজিত করতে শক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করবো এবং জাতীয় পুনরুজ্জীবনের জন‍্য উজ্জল ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে একসাথে কাজ করবো। এই সিদ্ধান্ত এবং চীনা জনগণের স্বদেশের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষা করার সক্ষমতাকে অবমূল্যায়ন করা কারোরই উচিত হবে না।

কমরেডস ও বন্ধুগণ,

যুবসমাজের হাতেই ভবিষ্যৎ এবং আমাদের আশাও তাদের কাছেই। শত বছর আগে একদল প্রগতিশীল যুবক মার্ক্সবাদের আলোকবর্তিকা ঊর্ধ্বে তুলে ধরেছিলো এবং সেই অন্ধকারের বছরগুলোতে এভাবেই চীনা জাতির পুনরুজ্জীবনের পথ খুঁজেছিলো।

তারপর থেকে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির পতাকাতলে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে যুবসমাজ পার্টির কাজে, জনগণের কাজে তাদের যৌবনকে সপে দিয়েছে এবং জাতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে অগ্রদূতের ভূমিকা পালন করেছে।

এই নতুন যুগে আমাদের যুবসমাজের জাতীয় পুনরুজ্জীবনে অবদান রাখাকেই তাদের জীবনের উদ্দেশ্য করা উচিত এবং এই আকাঙ্ক্ষা ধারণ করে চীনা জনগণের পরিচয় বহন করায় গর্বিত, দৃঢ়চিত্ত ও নিশ্চিত বোধ করা উচিত, যাতে তারা তাদের যৌবনের প্রতিশ্রুতি মোতাবেক ও আমাদের সময়ের, আমাদের পার্টির ও আমাদের জনগণের প্রত‍্যাশা অনুপাতে জীবনযাপন করতে পারে।

কমরেডস ও বন্ধুরা,

শত বছর আগে প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির ছিলো মাত্র ৫০ জন সদস‍্য। আজ ১,৪ বিলিয়ন মানুষের দেশে ৯৫ মিলিয়ন সদস‍্য নিয়ে এটিই পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় ক্ষমতাসীন পার্টি এবং ভোগ করছে ব‍্যাপক আন্তর্জাতিক প্রভাব।

এক শত বছর আগে চীন ছিলো অধোগতিমুখী এবং সারা পৃথিবীর চোখে ঝরে পড়ার মতো একটি দেশ। আজ যে ভাবমূর্তি সে পৃথিবীতে ধারণ করে তা হলো পৃথিবীর অন‍্যতম বর্ধনশীল দেশ যেটি পুনরুজ্জীবনের অদম‍্য গতি নিয়ে এগিয়ে চলেছে।

বিগত শত বর্ষ জুড়ে কমিউনিস্ট পার্টি জনগণের পক্ষ থেকে অসাধারণ সব ঐতিহাসিক অর্জন নিশ্চিত করেছে। আজ এটা দ্বিতীয় শত বর্ষের লক্ষ‍্য বাস্তবায়নের এক নতুন যাত্রাপথে এগিয়ে যাচ্ছে এবং চীনা জনগণকে নেতৃত্ব দিচ্ছে।

সকল পার্টি সদস‍্যবৃন্দ,

কেন্দ্রীয় কমিটি আপনাদের প্রত‍্যেককে পার্টির প্রতিষ্ঠাকালীন লক্ষ‍্যের প্রতি বিশ্বস্ত থাকার এবং আপনাদের চেতনা ও প্রত‍্যয়ের প্রতি দৃঢ়ভাবে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে।

পার্টির উদ্দেশ্যের পক্ষে কাজ করতে আপনারা সবসময় জনগণের সাথে ঘনিষ্ঠ বন্ধনে আবদ্ধ থাকবেন, তাদের প্রতি সদয় থেকে তাদেরকে নিয়ে কাজ করবেন, সুদিন ও দুর্দিনে তাদের পাশে দাঁড়াবেন এবং তাদের প্রত‍্যাশা পূরণের লক্ষ‍্যে নিরলসভাবে কাজ অব‍্যাহত রাখবেন এবং এভাবেই পার্টি ও জনগণের জন‍্য বৃহত্তর গৌরব বয়ে আনবেন।

কমরেডস ও বন্ধুরা,

আজ প্রতিষ্ঠার পর থেকে একশ বছর পার হলো আর কমিউনিস্ট পার্টি এখনও তার প্রাধান‍্য ধরে রেখেছে এবং ততটাই দৃঢ়সংকল্প রয়েছে যতটা চীনা জনগণের জন‍্য তাদের দীর্ঘায়ত মহত্ব অর্জন করেছে।

আমরা বিগত সময়ে যে পথটা পার হয়েছি এবং যে পথটা সামনে রয়েছে তার দিকে তাকালে, এটা নিশ্চিত যে পার্টির দৃঢ় নেতৃত্ব ও সকল জাতি গোষ্ঠীর চীনা জনগণের মহান ঐক‍্যের দ্বারা আমরা সকল দিক বিবেচনায় একটি আধুনিক সমাজতান্ত্রিক দেশ গড়ে তোলার লক্ষ‍্য অর্জন করবো এবং জাতীয় পুনরুজ্জীবনের চীন বাসীর স্বপ্ন পূরণ করবে।

আমাদের মহান, গর্বিত এবং সঠিক পার্টি দীর্ঘজীবী হোক! আমাদের মহান, গর্বিত এবং নায়কোচিত জনগণ দীর্ঘজীবী হোক!

লেখক: সহযোগী অধ্যাপক, ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ, ঢাকা মহানগর মহিলা কলেজ; সদস্য, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট কর্মী সংঘ।

ইমেইল: bipi1963@gmail.com

Leave a Reply

Your email address will not be published.