‘চীনা বৈশিষ্ট্যপূর্ণ সমাজতন্ত্র’ ও ‘খোলা নীতি’র দেশে

রুহিন হোসেন প্রিন্স

(লেখাটি সাপ্তাহিক একতায় ২০১৮ সালের ১০ ও ২৪ জুন দুই পর্বে প্রকাশিত হয়েছিল)

চীনের কমিউনিস্ট পার্টি’র আন্তর্জাতিক বিভাগের আমন্ত্রণে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র প্রতিনিধিদলের সদস্য হিসেবে গত ২৫ মে থেকে ৩ জুন ২০১৮ পর্যন্ত চীন সফর এর সুযোগ হয়।

চীনকে বাস্তবে দেখার ইচ্ছে থাকলেও এর আগে সুযোগ হয়নি। তাই বিশেষ আগ্রহ নিয়ে যাত্রা শুরু করি। এ সময় বিশেষ নীতি ও পরিকল্পনায় গড়ে তোলা চীনের গোয়ানজো প্রদেশের বাণিজ্যিক শহর সেনজেন, রাজধানী বেইজিং, আরেক আরেক প্রদেশ আনহুই ও চীনের গ্রামীন সংস্কারের জন্মভূমি বলে খ্যাত ‘সেনগং গ্রাম’ (Xiogang village)-এ নানা কর্মসূচিতে আমরা যোগ দেই।

২৫ মে পোনে ৪ ঘণ্টা বিমান যাত্রা শেষে গোয়ানজো বিমানবন্দর-এ উষ্ণ অভ্যর্থনার পর জানতে পারি, এখান থেকে ২ ঘণ্টা বাস যাত্রায় যেতে হবে সেনজেন। চীনের দক্ষিণের প্রদেশ গোয়ানজো’র সেনজিন চীনের অন্যতম বাণিজ্যিক শহর। বলা হয় একে হংকং এর আদলে গড়ে তোলা হয়েছে। এটি চীনের অগ্রগতির এক নিদর্শন। সাজানো, দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা দেখতে দেখতে সেনজেন এ হোটেলে যাওয়ার পর হাতে পেলাম চীনে অবস্থানের দিনগুলোর কর্মসূচি। যাওয়ার আগে জেনেছিলাম দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাম রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিদের সাথে নানা কর্মসূচিতে অংশ নিতে হবে।

কিন্তু দেখলাম ইতোমধ্যে বিশ্বের সকল অঞ্চল থেকে বাম-প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিবৃন্দ আসতে শুরু করেছেন। এসব প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণেই সব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে বলে জানলাম। অভ্যর্থনাকারীদের কথোপকথন ও রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করে খোঁজ নেওয়া শুরু করলাম অন্যান্য দেশের পুরানা পরিচিত বন্ধুদের পাই কি না।

২৬ মে সকালটা শুরু হলো সেনজেন লাইব্রেরি পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে। জাপানি স্থাপত্যে তৈরি। সবধরনের পদ্ধতিতে, নানাভাবে বসে সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে পড়ার ব্যবস্থা। চীনের আদি মুদ্রণ পদ্ধতিরও দেখা মেলে এখানে। এছাড়া ৪০০ বই নিয়ে সিটি গেটে গড়ে তোলা হয়েছে ‘কার্ড পাঞ্চ’ করে সয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে লাইব্রেরির সিটি গেটের বুথ থেকে বই নেওয়া ও জমা দেওয়ার নিজস্ব প্লাটফরম’।

দুপুরের পর স্থানীয় পার্টি কার্যালয়ে। যাকে বলা হচ্ছে পার্টি গড়ে তোলার কেন্দ্র। পার্টি গড়ে তোলা, কর্মসূচি প্রচার, যারা পার্টির সদস্য হতে আগ্রহী তাদের মূল্যায়নসহ অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালিত হয় এখান থেকে। কম্পিউটার এ মূল্যায়নের পদ্ধতি ও সদস্যদের মান নির্ণয় হয়। সদস্যদের শপথ এর নির্ধারিত উন্মুক্ত স্থান। সদস্যদের ভিন্ন কোনো বক্তব্য, মতামত থাকলে তা পাশের নির্ধারিত স্থানে ছোট কক্ষে একা যেয়ে বলার নির্দিষ্ট স্থান। যে কথা বলা হবে তা রেকর্ড হয়ে থাকবে, যা পার্টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবে।

যুব স্বেচ্ছাসেবকরা পার্টি অফিস পরিচালনার প্রধান দায়িত্ব পালন করছে বলে জানা গেল। আমরা সিপিবি’র পক্ষ থেকে পার্টি সেন্টারকে কিছু শুভেচ্ছা স্মারক উপহার দিই।

বিকেলে সেনজেন-হংকং আধুনিক সার্ভিস শিল্প করপোরেশন ও সেনজেন এপোট্রনিক্স করপোরেশন এ যেয়ে শহর ও শহর গড়ে তোলা আদ্যোপান্ত জানা গেল। ১৯৭৯ সালে পরিকল্পনায় ‘খোলা নীতি’ (open up) নিয়েই সর্বাধুনিক শহর হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে এক সময়ের এই গ্রামকে। এক সময় জনসংখ্যা ছিল ২৫ হাজার। এখন এই সেনজেন এলাকায় ২ কোটি মানুষের বাস। বিভিন্ন এলাকার মানুষ আসছে এই শহরে। এসব সম্ভব হয়েছে চীনের ঐ সময়ের খোলা নীতির কারণে। একথা বারবারই আমাদের জানান হলো। সব স্থাপনা গড়ে তুলতে করপোরেশন এর অনুমতি নিতে হয়।

সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনায় সাজানো শহর গড়ে তুলতেই দায়িত্ব পালন করছে করপোরেশন। পরিকল্পনার বাইরে কিছু হয় না। আগামীতে একটি এলাকায় ৪ তলা শহর গড়ে তোলার পরিকল্পনার নকশাও দেখলাম আমরা।

২৭ মে সকালটা শুরু হলো চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের দক্ষিণ- এশিয়া’র দায়িত্বপ্রাপ্ত কমরেডদের সাথে কথোপকথন এর মাধ্যমে। নানা বিষয়ে মতবিনিময় হলো একান্তভাবে। এরপর সেনজেন এ প্রযুক্তি ও ব্যবসার অগ্রগতিতে পার্টির নেতৃত্বের ভূমিকা ও সফল ব্যক্তিবর্গদের নিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মিলিত হলাম। শুনলাম ‘সামাজিক বাজার অর্থনীতির উন্নয়ন’, ‘আইন এর শাসন’, ‘মনুষের স্বার্থের উন্নয়ন’ এর কথা। বলা হলো এসব শুধু শ্লোগান নয় – এটাই দর্শন। সফলরা বারবার বললেন ‘কর্মদক্ষতাই জীবন’, ‘এখনই অগ্রগতির সময়’, ‘যোগ্যতাই যোগাযোগ ও অগ্রগতির মূল কথা’।

‘সেনজেনের গতি ও সেনজেন এর মান সেনজেনকে এগিয়ে নিচ্ছে। মানুষ এগুচ্ছেন। এটিই ‘চীনা বৈশিষ্ট্যের সমাজতন্ত্র’। ‘চীনা বৈশিষ্ট্যের সমাজতন্ত্র’ ও ‘খোলা নীতি’ কথাটা বারবার উচ্চারিত হয়েছে। বলা হয়েছে ’৮০ এর দশকে এই নীতির ফলেই অগ্রগতি সাধন করা গেছে।

যোগ্যতরদের ও সর্বাধুনিক প্রযুক্তির উদ্ভাবকদের সুযোগ করে দেওয়ার কাজ চলছে পরিকল্পিতভাবে। সফলরাও এ কথাকেই মনে করিয়ে দিলেন। দুপুরের পর টেকনোলজি পার্ক এ আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের তৈরি নানা ধরনের উৎপাদিত পণ্যের প্রদর্শনী দেখা গেল।

রোবট, ড্রোন, কম্পিউরাইজড হাসপাতাল, কাগজবিহীন সব কর্মকাণ্ড, শিক্ষকের মার্কস দেওয়ার দায়িত্ব থেকে শুরু করে বিজ্ঞানের পরীক্ষাগারে কাজ চলবে কম্পিউটার এর মাধ্যমে। থ্রিডি’র (৩ডি) ব্যবহারের আকর্ষণীয় সব যন্ত্রপাতি আর লেজার এর ব্যবহার।

বিকেলে ভ্রমণ করা হলো: চীনের বিভিন্ন অঞ্চলের ঐতিহ্যের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল দিয়ে তৈরি গ্রামে। না এটি আমাদের জানা গ্রাম নয়, গ্রাম এর আবহাওয়ায় তৈরি নামের গ্রাম। পথে পথে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য দেখতে দেখতে যেন পুরো চীনা সাংস্কৃতিকে এক গ্রামে  দেখা গেল। চীনের বিভিন্ন এলাকার ঐতিহ্য দিয়ে সাজানো। দিনটা শেষ হলো ঐ ‘গ্রাম’-এ এক ঘণ্টার মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দেখে। সর্বাধুনিক সজ্জিত মঞ্চে হলো বিভিন্ন অঞ্চলের ঐতিহ্যের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। এর আগে দেখলাম খোলা মঞ্চে ৩০০০ বছরের পুরোনো নৃত্য। নৃত্যের তালে তালে নারকেল ছোলা, ভাংগা, নানা ভঙ্গিতে লাটিম খেলা।

২৮ মে সকালেই শুরু হলো কার্ল মার্কস এর ২০০তম জন্মদিন উপলক্ষে বিষয়ভিত্তিক আলোচনার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। সারা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ১০০টি দেশের ২০০ টি কমিউনিস্ট, বাম-প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলের ৫০০ প্রতিনিধি এই অধিবেশনে যোগ দেন। এর মধ্যে বিভিন্ন দেশের পার্টির শীর্ষ নেতারাও ছিলেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃবৃন্দ জোর দিয়েই বললেন, ‘কার্ল মার্কস বৈজ্ঞানিক তত্ত্বের উপর ভিত্তি করে দুনিয়া পাল্টানোর কথা বলেছেন। চীনের কমিউনিস্ট পার্টি ২১ শতকের বাস্তবতা বিবেচনা করে মার্কসবাদ এর সৃজনশীল প্রয়োগ এর মাধ্যমে এগুচ্ছে। আমরা সমৃদ্ধ বিশ্ব গড়তে চাই। এজন্য চীনা বৈশিষ্ট্যপূর্ণ কর্মপন্থা আমরা নির্ধারণ করেছি।’

উদ্বোধনীতে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী সং টও (Song Toa), চীনের রাষ্ট্রপতি ও পার্টির সাধারণ সম্পাদক সি চিন পিং (Xi Jinping) এর অভিনন্দন বার্তা পাঠ করেন। তিনি বলেন, “এই চিঠিই প্রমাণ করে যে, চীনের কমিউনিস্ট পার্টি মার্কসবাদ বাস্তবায়নে ও উন্নত করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। সি চিন পিং এর চিন্তায় চীনা বৈশিষ্ট্যের সমাজতন্ত্র মার্কসবাদের মৌলিক তত্ত্ব ও চীনের বাস্তবতার সমন্বয় ঘটিয়ে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছে। এটা মার্কসবাদের বৈজ্ঞানিক বার্তাকে ধারণ করে নতুন যুগের সাথে খাপ খাওয়াতে আরও উন্নয়ন ঘটাবে। চীন মার্কসবাদকে চীনা বৈশিষ্ট্য ও চীনের বাস্তবতাকে ধারণ করে, নতুন যুগের সাথে উপযোগী করে এগুচ্ছে, যা জনগণ কেন্দ্রীক মার্কসবাদ এর দর্শনকে বাস্তবায়ন করবে।”

এরপর অনুষ্ঠিত প্লেনারি অধিবেশনে ‘একুশ শতকে মার্কসবাদ ও বিশ্ব সমাজতন্ত্রের ভবিষ্যত’ বিষয়ে আলোচনা হয়। তারপর অনুষ্ঠিত হয় তিনটি প্যানেল অধিবেশন। বিষয়গুলো হলো: ১) ‘কার্ল মার্কস এর ঐতিহাসিক ভূমিকা ও সাম্প্রতিক সময়ে মার্কসবাদের প্রাসঙ্গিকতা।’২) ‘সি চিন পিং এর চিন্তায় নতুন যুগে চীনা বৈশিষ্ট্যের সমাজতন্ত্র এবং একুশ শতকের মার্কসবাদ।’৩) ‘চীনা বৈশিষ্ট্যে সমাজতন্ত্রের তত্ত্ব ও প্রয়োগ এবং বিশ্ব সমাজতন্ত্রের ভবিষ্যত’। একই সময়ে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে উপস্থিত প্রতিনিধিবৃন্দ বিভক্ত হয়ে আলোচনায় যোগ দেন।

এসব আলোচনায় যার যার দেশের বাস্তবতায় মার্কসবাদের প্রয়োগের মাধ্যমে সমাজতন্ত্রের প্রতিষ্ঠার কথা উঠে আসে। নানা প্রশ্ন তুললেও চীনের অগ্রগতির প্রশংসা করা হয়।

মার্কসবাদ কোনো অপ্তবাক্য নয় উল্লেখ করে বলা হয়- ‘আদর্শগত অবস্থান সমুন্নত রেখে এর বিকাশ ঘটাতে হবে’। আমরা যোগ দেই আমাদের জন্য নির্ধারিত, ‘কার্ল মার্কস-এর ঐতিহাসিক ভূমিকা ও সাম্প্রতিক সময়ে মার্কসবাদের প্রাসঙ্গিকতা’ বিষয়ক অনুষ্ঠানে।

নেপাল এর প্রতিনিধি এই অধিবেশনে তাঁর দেশের অভিজ্ঞতা, কমিউনিস্ট ঐক্য, মার্কসবাদ চর্চা, নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় যাওয়া, বহুদলীয় গণতন্ত্র, জনগণের অংশগ্রহণ, নতুন সংবিধান প্রণয়নের সময় ভারত এর অবরোধ ও নেপালের সংকটে চীন এর পাশে দাঁড়ানো নিয়ে আলোচনা করেন। এ অধিবেশনে অনেকের আগ্রহের কেন্দ্রতে ছিল নেপাল। প্রশ্ন করা হয়েছিল, নেপালের সামনে চ্যালেঞ্জ কি? এসব প্রশ্নের উত্তরে নেপালের কমিউনিস্ট নেতা জনগণের উন্নয়ন এর সাথে বললেন, চ্যালেঞ্জ ও সুযোগ হলো পার্শ্ববর্তী দুই দেশ ভারত ও চীন। দেশের স্বার্থ রক্ষা করে ভারত ও চীন এর সাথে সম্পর্ক উন্নয়নও বড় চ্যালেঞ্জ। বিভিন্ন প্যানেল অধিবেশন শেষে অনুষ্ঠিত হয় সমাপনী অধিবেশন। এই অধিবেশনে আমাদের থাকার সুযোগ হয়নি। কারণ দক্ষিণ-এশিয়ার প্রতিনিধিদের সাথে আমাদের বেরিয়ে পড়তে হলো সেনজিন বিমানবন্দর এর উদ্দেশে বেইজিং এর বিমান ধরতে।

২৯ মে ২০১৮, চীনের বেইজিং এ পার্টির হোটেলে (Wanshou Hotel) সকালটা শুরু হলো আমাদের জন্য রুমে রাখা দেশের রাষ্ট্রপতি ও চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক সি চিন পিং এর বিভিন্ন প্রবন্ধের গ্রন্থ ‘চীনের শাসন পদ্ধতির’ পাতা উল্টিয়ে। চীনের বিভিন্ন বিষয়ের আরও নয় খণ্ডের বইও পেলাম। সকালে একটা মার্কেট দেখে ও দুপুরের পর ‘চীনের মহাপ্রাচীর’ (গ্রেট ওয়াল) এ যেয়ে সময় কাটলো। প্রচণ্ড রোদের মধ্যে চীনের মহাপ্রাচীরে যতটুকু সম্ভব হেঁটে উঁচুতে উঠলাম আমরা কয়েকজন। চীন ও ইনার মঙ্গোলিয়ার সীমান্ত জুড়ে এই মহাপ্রাচীর ২১১৯৬ কিলোমিটার লম্বা। চীনের সীমান্ত জুড়ে মরুভূমি, নদী, পাহাড় সব কিছুর উপর দিয়ে নির্মিত হয়েছে এই প্রাচীর। ইতিহাসে জানা যায়, খ্রিষ্টপূর্ব সপ্তদশ শতাব্দীতে এর নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিল খণ্ড খণ্ডভাবে বিভিন্ন স্থান থেকে।

যাযাবরদের হামলা থেকে জনপদের মানুষকে বাঁচাতে তৈরি এসব খণ্ড প্রাচীরকে জোড়া দিয়ে নির্মাণ কাজ হয় খ্রিষ্টপূর্ব ২০২-২০৬ সালে। পরবর্তীকালে এর সংস্কার ও নতুন নতুন এলাকায় প্রাচীর নির্মিত হয়েছে। সাগরে গিয়ে শেষ হয়েছে এই প্রাচীর।

৩০ মে সকালে যোগ দিলাম ‘চীনা পার্টি ভিত্তি গড়ে তোলা’ বিষয়ক সেমিনারে, যেখানে চীনা পার্টির নেতৃবৃন্দসহ বিশেষজ্ঞরা বক্তব্য রাখলেন। শুরুতে আমাদের বলা হলো, ‘আমরা পরিবার। সেই হিসেবে বসেছি। যে কোন প্রশ্ন থাকলে আমরা যেন বলি’। পার্টির নেতারা বলেন, ‘চীনের কমিউনিস্ট পার্টি মার্কসবাদ-লেনিনবাদের ভিত্তিতে গঠিত। চেয়ারম্যান মাও সেতুং, দেং জিয়াও পিং পার্টি গড়ে তোলায় বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন। ১৮তম পার্টি কংগ্রেস থেকে বর্তমান সাধারণ সম্পাদক সি চিন পিং বিশেষ ভূমিকা রাখছেন’।

নেতারা বললেন, ‘দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় পার্টি কঠোর অবস্থান নিয়েছে। পার্টি সদস্যদের নিয়ে পার্টি সংগঠন। এই সংগঠন এর জন্য পার্টির মধ্যেও সুশাসন প্রতিষ্ঠা জরুরি। প্রত্যেক পার্টি সদস্য তার নিজস্ব কাজের বিষয়ে জবাবদিহি করতে বাধ্য। পার্টি সভায় সদস্যদের সমালোচনা, আত্মসমালোচনা হয় পরস্পরের উন্নয়নের জন্য। পার্টির কাজ ও গঠনতন্ত্র অনুসরণের জন্যও একাজ গুরুত্বপূর্ণ। পার্টি সভায় সকলে খোলামেলা আলোচনা করেন, মতামত দেন, আবার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করেন।’

নেতারা আরও বলেন, ‘কাজের জন্য প্রধান ব্যক্তি, সিনিয়র নেতা, গুরুত্বপূর্ণ। তাদের অভিজ্ঞতা সামাজিক অগ্রগতিতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। প্রচারও অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ। এক সময় চীনে উৎপাদন কমে গিয়েছিল, বন্ধ্যাত্ব ছিল, ছিল মানুষের মধ্যে অসন্তোষ। ৮০’র দশকে ‘খোলা নীতি’ নেওয়ায় উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হয়।

১৯৯৮ থেকে আবার নতুন ধারার সূচনা হয়। দুর্নীতিবিরোধী অভিযান চলছে। এটা জরুরী হয়ে পড়েছিল। ‘চীনের জনগণই প্রধান’ -এটাই আমাদের প্রধান প্রচার। এটা নিয়ে আমরা এগুচ্ছি’।

সভায় পার্টি সদস্য ও পার্টি কমিটির কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য তুলে ধরে বলা হয়, প্রায় ৯ কোটি পার্টি সদস্যের মধ্যে ২২ থেকে ৪২ বছর বয়সের সদস্য সংখ্যা বেশি। চীনে কার্ল মার্কস জনপ্রিয়, বিশেষত তরুণদের মধ্যে। মানুষ অগ্রগতি চায়। এটা বাস্তবায়নে আমরা ভূমিকা রাখছি। তারা বলেন, সোভিয়েত ইউনিয়ন ‘খোলা নীতি’ নেয়নি।

আমরা তাদের কাছ থেকে শিখেছি। আমাদের দেশের বাস্তবতা বিবেচনা করে এই নীতির বাস্তবায়ন করছি। আমাদের নিয়ে অনেকে সন্দেহ করে, কিন্তু আমরা মার্কসবাদকে চীনের উপযোগী করেই এগিয়ে যাচ্ছি। আমরা মনে করি, চীনের একটাই আলো আছে, তা হলো সমাজতন্ত্র। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন এর এর পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের কমিউনিস্ট পার্টি সংকটে পড়েছিল। ঐ সময় বলা হতো সমাজতন্ত্রের দিন শেষ। আমরা বলেছি সমাজতন্ত্র, মার্কসবাদের ভবিষ্যত আছে।’

সভায় প্রশ্ন উত্তর পর্বে বিভিন্ন বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়। দুপুরে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সাথে সেমিনারে মিলিত হন চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের ব্যুরো-১ এর পরিচালক। সেখানে আন্তর্জাতিক বিভাগের অন্যান্য সংগঠকবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন। তিনি জানান, ৭০০ স্টাফ নিয়ে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের এই অফিস পরিচালিত হয়। ১৪টি ব্যুরোতে ভাগ হয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ৪৫০টি পার্টির সাথে যোগাযোগ রাখা হয়।

পার্টি সংগঠন ও সুশাসন নিয়ে বিভিন্ন সময় তাদের সাথে আলোচনা হয়, তাদের কাছ থেকে আমরা শিখি। তিনি বলেন, বিশ্বে সাম্রাজ্যবাদ ও সমাজতন্ত্রের দ্বন্দ্ব চলছে। আমরা সমাজতন্ত্র বিকাশে কাজ করে যাচ্ছি। দক্ষিণ এশিয়ার বাম দলগুলোর কাছ থেকেও আমরা শিখছি।

কার্ল মার্কস এর ২০০ বছরের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের আধুনিক সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের পথ খুঁজে বের করতে হবে এবং এগুতে হবে। মার্কসবাদকে আমাদের সময় উপযোগী করতে হবে এবং প্রতিটি দেশের বাস্তবতা অনুযায়ী প্রযোগের কৌশল নিতে হবে। এজন্য আমাদের পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘চীনে সমাজতন্ত্র, শেখার পথেই আছে। এখানে দর্শনই প্রধান। পৃথিবীর অনেক দেশে প্রতিক্রিয়াশীলরা শক্তিশালী। এটাকে হিসেবে রাখতে হবে। কমিউনিস্টরা তাদের কাজ গোপন রাখে না বা ‘হাইট’ করে না। বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গী দিয়ে পরিচালিত মার্কসবাদ এর ধারায় আমরা এগিয়ে যাবো।’

তিনি আরও বলেন, ‘সাম্রাজ্যবাদ, সমাজতান্ত্রিক চীনের বিষয়ে নেতিবাচক হচ্ছে। এ সময়ে আমাদের সংহতি জরুরি। আমরা চীনের সমালোচনা গ্রহণ করি। আমরা দৃঢ়ভাবে মনে করি প্রত্যেকটি দেশের বাস্তবতা বিবেচনা করে বিকশিত ভাবে মার্কসবাদের চর্চা ও পথ নির্ধারণ করতে হবে।’

এখানে জানান হয় চীনে কমিউনিস্ট পার্টি ছাড়াও আরও ৮টি রাজনৈতিক দল আইনিভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তাদের সহযোগিতা ও পরামর্শ নিয়ে সরকার পরিচালনা করা হয়। এই সেমিনারেও নানা মতামত, পরামর্শ উঠে আসে। এর পর সন্ধ্যায় কর্মসূচি ছিল ‘অ্যাকরোবেটিক শো’ দেখার। হাতে বেশ কিছু সময়। আয়োজকরা জানতে চাইলেন, কি করবেন। হোটেলে বিশ্রাম, না মার্কেট। আমরা বললাম ‘তিয়েন আন মেন’ স্কয়ার এ যেতে চাই।

বিকেলটা কাটলো তিয়েন মান স্কয়ার ও পাশের পুরানা ঐতিহ্যবাহী দোকান দেখে। স্কয়ারে ঢুকতে কড়াকড়ি টের পেলাম। প্রচণ্ড রোদের মধ্যেও মানুষের কমতি নেই। পাশের চীনের ঐতিহ্যবাহী মার্কেট, মাঠ, পার্ক পুরো এলাকাকে বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত করেছে। সন্ধ্যায় ১ ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর ‘অ্যাকরোবেটিক শো’ দেখা হলো।

৩১ মে সকালে বেরুতে হলো বিমানবন্দর এর উদ্দেশ্যে আনহুই যেতে বিমান ধরতে। চীনের পূর্বাঞ্চলের আরেক প্রদেশ আনহুই। আরেক সাজানো, সমৃদ্ধ শহর। দুপুরেই বেরিয়ে পড়তে হলো, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ইনস্টিটিউট দেখতে। এখানে তৈরি সরঞ্জামের প্রদর্শনী দেখলাম। রোবট, ড্রোন, কম্পিউরাইজড হাসপাতাল, কাগজবিহীন সব কর্মকাণ্ড। পড়াশুনা থেকে শুরু করে শিক্ষকের মূল্যায়নের (মার্কস দেওয়ার) দায়িত্ব, বিজ্ঞানের পরীক্ষাগারের কাজ চলবে কম্পিউটারের মাধ্যমে। জ্বালানি বিহীন ছোট প্লেন, গাড়ি। এর পর আনহুই প্রদেশিক মিউজিয়াম দেখা।

চীনা সভ্যতার অতীত নিদর্শন দেখতে দেখতে মানব সভ্যতার ক্রম বিবর্তনের ইতিহাসই দেখা হোল। সন্ধ্যায় স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এ অঞ্চলের অগ্রগতির বর্ণনা দিলেন। সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের মধ্য দিয়ে পুরো চীনের মানুষকে এগিয়ে নেওয়ার কথা বললেন।

১ জুন সকালে আবার যাত্রা শুরু হলো ফেনগুইয়ান শহর (Fengyang) এর উদ্দেশ্যে। দুপুরে আবার যাত্রা ‘সেন গং’ গ্রাম (Xiogang Village) ও সেনহু মিউজিয়াম ও গ্রামের বাড়ি দেখতে।

সেনগং গ্রাম কে বলা হয়, চীনের গ্রামীণ সংস্কারে ‘জন্মভূমি’। পূর্ব চীনের আনহুই প্রদেশের সেনগং গ্রাম দেশের অনেক অঞ্চলের মত একসময় ছিল দুর্ভিক্ষ পীড়িত। ১৯৭৮ সালে ঐ গ্রামের ১৮ জন কৃষক নিজেদের একত্র করে সমবায়ের মাধ্যমে চাষবাসের জন্য গোপনে চুক্তিবদ্ধ হন। স্থানীয় পার্টি নেতা সেনহু ঐ কৃষকদের সংগঠিত করতে ও নিজে গ্রাম উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখেন।

এ জন্য: (১) জমিতে কৃষি’র ব্যাপক উন্নয়নের জন্য পরিকল্পিত উদ্যোগ। (২) পর্যটন শিল্পের প্রসার (৩) ব্যবসায়ীদের ব্যবসায় আমন্ত্রণ জানান হয়। নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে স্থানীয় নেতৃত্বের দৃঢ় ভূমিকা পালন এর মাধ্যমে ঐ গ্রামের ও জনগোষ্ঠী ব্যাপক উন্নয়ন হয়। যেটিকে অনুসরণ করে চীনের বিভিন্ন এলাকায় উন্নয়ন হয়েছে, হচ্ছে। এটি একটি মডেল গ্রাম। এখানে মানুষ আসেন, দেখেন, শেখেন। এই গ্রামে আদি সময়ের ঘর বাড়ির কিছু নিদর্শন রাখা হয়েছে। যা আমাদের মাটির ঘরের দরিদ্র গ্রামের প্রতিচ্ছবিই। এসব দেখা শেষে বিকেলে উন্মুক্ত মঞ্চে ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠনের বর্ণাঢ্য আয়োজন।

২ জুন সেন গং গ্রামের অডিটরিয়ামে দিনভর অনুষ্ঠিত ১৯তম ওয়ানসু ফোরাম (Wanshou Forum) এর সেমিনারে আমরা যোগ দেই।“পুনঃগঠন, উন্নয়ন এবং স্থানীয় সরকারের আধুনিকায়ন”বিষয়ক সেমিনারে ৪টি বিষয়ে পৃথক আলোচনা হয়। এগুলো হলো: (১) অনুশীলন ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এগুনো (২) পুনর্গঠনকে আরও গভীরতর করা এবং শাসন পদ্ধতির আধুনিকায়ন (৩) উন্নয়নের নতুন তত্ত্ব ও গ্রামীণ উন্নয়ন (৪) আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং বিশ্ব ব্যবসার মূল্যায়ন। চীনের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এসব বিষয়ে কথা বলা হয়। বিভিন্ন দেশের ও পার্টির প্রতিনিধিরা এসব বিষয়ে নির্ধারিত সময়ে সামান্য মন্তব্য করেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় ও সংলাপ- আলোচনার জন্য ২০১৬ সালে ওয়ানসু ফোরাম গঠন করে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগ। এরপর থেকে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচলনা করছে এই ফোরাম।

এই সেমিনারে পার্টির নেতৃবৃন্দ ও বিশেষজ্ঞরা চীনের ‘খোলা নীতি’তে চীনে জনগণের উন্নয়ন, দারিদ্র্য দূরীকরণ, গ্রাম ও আঞ্চলিক উন্নয়ন, বিশ্ব অর্থনীতিতে চীনের অবস্থান তুলে ধরেন। তারা চীনা বৈশিষ্ট্যপূর্ণ সমাজতন্ত্রের কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘চীন অভিজ্ঞতা মধ্য দিয়ে এগুচ্ছে চীনের জনগণের পাশাপাশি ভাল-সমৃদ্ধ বিশ্ব ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য।’

রাতে খাবারের আগে সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে চীন এর কর্মসূচি আনুষ্ঠানিক ভাবে শেষ করা হয়। এছাড়া প্রতিদিন অনুষ্ঠানের মাঝে, খাবার টেবিলে, রাতে নানা বিষয়ে আলোচনা হয় বিভিন্ন দেশের পার্টি নেতৃবন্দের সাথে। সুযোগ পেলে স্থানীয় চীনাদের সাথেও কথা বলি আমরা। তবে সময় ও ভাষার ব্যবধান এর কারনে এ কাজে আমরা খুব একটা সফল হইনি। রাতে রুমে ফিরে চীনা রাষ্ট্রপতি ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক সি চিন পিং এর লেখা উল্টালাম। দেখলাম তিনি বলছেন, ‘সমৃদ্ধ বিশ্ব ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজন হলো ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ।’সি চিন পিং এর ভাষায়, আমরা অবশ্যই ভয় যুক্ত নিরাপদ বিশ্ব গড়ার লক্ষ্য বাস্তবায়নে অগ্রসর হবো। ‘আমাদের দারিদ্র্য থেকে মুক্ত সমৃদ্ধির একটি পৃথিবী গড়ে তোলার প্রচেষ্টা নিতে হবে।’‘আমদের একটা খোলা এবং বিচ্ছিন্নতা থেকে মুক্ত পৃথিবী গড়তে হবে।’‘আমাদের সবুজ, পরিচ্ছন্ন সুন্দর একটি বিশ্ব গড়তে হবে।’এজন্য আমরা: ‘প্রথমত: বিশ্ব শান্তি ও সমৃদ্ধি বজায় রাখবো। দ্বিতীয়ত: আমরা সবার উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাব। তৃতীয়ত: আমরা সকল সংস্কৃতি, সভ্যতার মাঝে পারস্পরিক সমৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করে যাব।”

এছাড়া চীনের বিভিন্ন তথ্য থেকে জানা যায়, “১৪০ কোটি জনসংখ্যার চীনে এখনও সাড়ে ৫ কোটি মানুষ দারিদ্রসীমার নীচেয় বাস করছে। এদের মাথাপিছু ভোগের পরিমাণ দৈনিক ১ ডলারেরও কম।

চীনে আঞ্চলিক বৈষম্যও দূর হয়নি। অন্যদিকে ধনীদের সংখ্যাও বেড়ে চলছে। চীনের ৩ জন শীর্ষ ধনীর প্রত্যেকের সম্পদের পরিমাণ ৩ হাজার কোটি ডলারেরও বেশি। সামগ্রিক উন্নয়নে গত ৫ বছরে ৬ কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার উপরে উঠে এসেছে।

চীনের কমিউনিস্ট পার্টি বলছে, ২০২০ সালে চীনের কোনো মানুষ দারিদ্র্যসীমার নীচে থাকবে না। আর তখন চীন হবে মাঝারি মানের সমৃদ্ধ দেশ। পার্টি বলছে, চীন এখনও সমাজতন্ত্রের প্রাথমিক ধাপে আছে। ২০৩৫ সালের মধ্যে ‘চীনা বৈশিষ্ট্যপূর্ণ সমাজতন্ত্রের’ আধুনিকায়ন ঘটবে। আর ২০৫০ সালের মধ্যে হবে আধুনিক সমাজতান্ত্রিক দেশ। বিজ্ঞান-প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে বৈষয়িক সম্পদের বৃদ্ধি ও সম্পদের সুষম বণ্টনই হবে অন্যতম লক্ষ্য।”

পরদিন ৩ জুন প্রিয় মাতৃভূমিতে ফেরার চিন্তা, ১০ দিন চীনে অবস্থানের স্মৃতি, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বন্ধুপ্রতিম রাজনৈতিক দলগুলোর নেতৃবন্দের সাথে কথোপকথন, সারা বিশ্বে সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের কিছু কথা, চীনে আয় ও সম্পদ বৈষম্য, দেশ-বিদেশে চীনের কর্মকাণ্ড, কমিউনিস্ট আন্তর্জাতিকতাবাদী ভূমিকাসহ চীনকে নিয়ে নানা ধরনের প্রশ্ন নিয়েই এ পর্বের চীন সফরের সমাপ্তি ঘটলো।

লেখক: সম্পাদক, সিপিবি, কেন্দ্রীয় কমিটি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.