‘চিকিৎসা খাতটি ব্যবস্যা প্রতিষ্ঠানের পণ্যে পরিণত হয়েছে’

‘স্বাধীনতার পরে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার উল্লেখ করার মত কোন উন্নতি হয়নি। বর্তমানে চিকিৎসা খাতটি ব্যবস্যা প্রতিষ্ঠানের পণ্য হিসেবে পরিনত হয়েছে’।

ডক্টরস ফর হেলথ এন্ড এনভায়রনমেন্টের উদ্যোগে ‘চিকিৎসায় অবহেলা আইন-চিকিৎসক হয়রানি এবং জনসাধারণের ধারণা: প্রেক্ষাপট বাংলাদেশ’ বিষয়ে এক ওয়েবিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

গতকাল (৪ ডিসেম্বর) শুক্রবার বিকাল ৪.০০টায় এ ওয়েবিনার অনুষ্ঠিত হয়।

ডক্টরস ফর হেলথ এন্ড এনভায়রনমেন্টের সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম আবু সাঈদ এর সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. কাজী রকিবুল ইসলাম এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, ডক্টরস ফর হেলথ এন্ড এনভায়রনমেন্ট কার্যনির্বাহী সদস্য অধ্যাপক ডা. ফিরোজ আহমেদ খান।

ওয়েবিনারে প্যানেলিস্ট হিসেবে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ, সভাপতি, বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি), অধ্যাপক ডা. রশিদ-ই-মাহবুব, সাবেক সভাপতি বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) এবং আহ্বায়ক ডক্টরস প্লাটফর্ম ফর পিপল’স হেলথ, ড. শাহদীন মালিক, আইনজীবী বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, ড. এম শামসুল আলম, উপদেষ্টা, কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব), মিজানুর রহমান খান, যুগ্ম সম্পাদক, প্রথম আলো অধ্যাপক ডা. নাজমুন নাহার বিশিষ্ট শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ও সাবেক সভাপতি ডক্টরস ফর হেলথ এন্ড এনভায়রনমেন্ট, ডা. মো. এহতেশামুল হক চৌধুরী, মহাসচিব, মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ), ডা. এম আবুল হাসনাত মিল্টন, চেয়ারম্যান, ফাউেন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি রাইটস এন্ড রেসপনসেবিলিটিস। এছাড়াও চিকিৎসক, বিভিন্ন পেশাজীবী, সাংবাদিকসহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থেকে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।

মূল প্রবন্ধে অধ্যাপক ডা. ফিরোজ আহমেদ খান উল্লেখ করেন যে, চিকিৎসায় অবহেলা হ্রাস করতে বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি আইন রয়েছে তবে এগুলির কার্যকর কোন প্রয়োগ নেই। টর্টের আইনটি উপলভ্য হলেও এর কোন প্রকৃত অনুশীলন নেই। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পুলিশ ফৌজদারি মামলা দায়ের করে এবং অবহেলার কোনও প্রমাণ ছাড়াই ডাক্তারদের গ্রেপ্তার করছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হল প্রায় সকল আইনজীবী এবং নিম্ন আদালতের বিচারকরা মেডিকেল অবহেলা মামলা পরিচালনার জন্য প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বিএমডিসির ভূমিকা তেমন দৃশ্যমান এবং কার্যকর নয়, চিকিৎসকরা বাংলাদেশের আইন সম্পর্কে সচেতন নন এবং চিকিৎসা অবহেলার মামলাগুলি পরিচালনা করতে নতুন আইন প্রতিষ্ঠার জন্য ডাক্তারদের সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে কোন দাবিও তোলা হয় না।

তিনি তার প্রবন্ধে বিএমডিসি’র নিকট নিম্নলিখিত পরামর্শগুলো উল্লেখ করেনঃ

১. বিএমডিসির ট্রাইব্যুনাল সক্রিয় করা  

২. বিএমডিসিকে তাদের আইন জোরদার করতে হবে এবং  

৩. চিকিৎসা সংক্রান্ত অসদাচরণ রোধে তাদের তদারকি বাড়াতে হবে।  

অধ্যাপক ডা. রশিদ-ই-মাহবুব বলেন, স্বাধীনতার পরে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার উল্লেখ করার মত কোন উন্নতি হয়নি। বর্তমানে চিকিৎসা খাতটি ব্যবস্যা প্রতিষ্ঠানের পণ্য হিসেবে পরিনত হয়েছে।

ড. শাহদীন মালিক বলেন, চিকিৎসায় অবহেলা আইন বিষয়ে আইনজ্ঞদের যথেষ্ট কোন ধারনা না থাকায় আইনজ্ঞরা অতি সহজে রোগীর লোকজনকে পুলিশি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পরামর্শ প্রদান করেন। যার ফলে ডাক্তারদেরকে ঠুনকো বিষয়ে হেরাজমেন্ট এর শিকার হতে হয়। তিনি ডাক্তারদের মধ্য থেকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী করার পরামর্শ দেন পাশাপাশি চিকিৎসায় অবহেলা আইন বিষয়ে সবার মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিএমএর প্রতি আহ্বান জনান।

ডা. মো. এহতেশামুল হক চৌধুরী বলেন, সরকার এবং গনমাধ্যম যদি সৎ না হয় তাহলে জাতীর ধ্বংস অবসম্ভাবী। দেশে যখন আমলাতান্ত্রিকতার দৌরাত্ম বৃদ্ধির ফলে দেশে সুষ্ট চিকিৎস্যা পাওয়া সম্ভব নয়। যার ফলে দেশের রোগীরা ছোট-খাটো সমস্যা নিয়েও বিদেশে যেতে বাধ্য হয়।

অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, আইও বা বিচারকদে চিকিৎসায় অবহেলা আইন বিষয়ে যথেষ্ট ভালো জ্ঞান না থাকলে সুষ্ঠু বিচার পাওয়া যায় না। সুতরাং এ আইনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের জ্ঞান থাকতে হবে।

ডা. এম আবুল হাসনাত মিল্টন বলেন, ডাক্তারদে আতœসমালোচনার যায়গা তৈরী করতে হবে। তিনি ডাক্তারদের কর্মস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করনের প্রতি গুরুত্ব বলেন কারন হিসেবে উল্লেখ করেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা ডাক্তারদের উপর কারনে অকারনে স্থানীয় ডাক্তারদেরকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করে। যা একজন ডাক্তারকে উপজেলা পর্যায়ে যেতে নিরিুৎসাহিত করে।

ড. এম শামসুল আলম বলেন, ভোক্তা অধিকার নিশ্চিতে ভোক্তাদের সচেতনতা বৃদ্ধি, পারস্পরিক সহমর্মিতা ও মর্যাদা বাড়াতে হবে।

মিজানুর রহমান খান বলেন, চিকিৎসা ব্যবস্থায় চিকিৎসক ও সেবাগ্রহিতা এবং সাংবাদিক সকলকেই তথ্য সংগ্রহ ও সরবরাহে যথেষ্ট সাবধানে পথ চলতে হবে।

অনুষ্ঠানে চিকিৎসক, বিভিন্ন পেশাজীবী, সাংবাদিকসহ অন্যরা আলোচনায় অংশ নেন।