চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন: সংঘর্ষ-গুলি, নিহত ১

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ভোটের দিন সকালে সহিংস সংঘাত হয়েছে পৃথক পৃথক স্থানে। অন্তত একটি জায়গায় সংঘাতে একজনের প্রানহানী হয়েছে।

১৩ নম্বর পাহাড়তলী ওয়ার্ডে ভোটকেন্দ্রের বাইরে গুলিতে একজন মারা গেছেন৷ এছাড়া সহিংসতায় এখন পর্যন্ত ২৮ জনকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে৷

আজ (২৭ জানুয়ারি) বুধবার চমেক মেডিক্যাল পুলিশ ফাঁড়ির সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

২৭ বছরে ১ম মৃত্যু

এর আগে ১৯৯৪ সালে প্রথম চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচন ঘিরে কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ২৭ বছরের ইতিহাসে এবার ভোটের দিন মৃত্যুর ঘটল। 

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে নির্বাচন ঘিরে উত্তপ্ত অবস্থা আগের নির্বাচনগুলোতে ছিল। ভোটের দিন ‘ভোট উৎসবের’ মধ্যে মৃত্যুর ঘটনা আগে কবে ঘটেছিল, সে কথা মনে করতে পারেন না অনেকেই।

বিশেষ করে ২০১০ ও ২০১৫ সালের দুটি নির্বাচনে কোনো ধরনের রক্তক্ষয়ের মতো ঘটনা ঘটেনি। ২০০৫ সালের নির্বাচনে ভোটের আগের দিন নিহত হয়েছিলেন শ্রমিক লীগের এক কর্মী।

নিহত আলাউদ্দিন ওরফে আলম

সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ১৩ নম্বর পাহাড়তলি ওয়ার্ডের ফ্লোরাপাস রোডে রেললাইনের পাশে ইউসেফ আমবাগান টেকনিক্যাল স্কুল কেন্দ্রের সামনে গুলিতে মারা যান আলাউদ্দিন ওরফে আলম (২৮)।  

রেললাইনের যে পাশে ভোটকেন্দ্র তার উল্টো দিকে আমবাগান ছিন্নমূল কলোনির বাসিন্দা তিনি। তার স্ত্রী ও এক বছর বয়সী মেয়েটি থাকে গ্রামের বাড়িতে।

ওই কলোনিতে মা, ভাই, বড় বোন আর বোনের তিন মেয়ে ও এক ছেলের সঙ্গে থাকতেন আলাউদ্দিন।

নিহত মো. আলাউদ্দিন আলমকে (২৮) নিজের সমর্থক বলে দাবি করেছেন ১৩ নম্বর পাহাড়তলি ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মো. মাহমুদুর রহমান৷

ঐ ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী হলেন মো. ওয়াসিম উদ্দিন চৌধুরী৷

বুধবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে ১৩ নম্বর পাহাড়তলী ওয়ার্ডের আমবাগান এলাকায় ইউসেপ স্কুল কেন্দ্রের বাইরে গুলিতে নিহত হন আলাউদ্দিন৷ ওই সময় এক নারীসহ ছয়জন আহত হন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন৷

সংঘর্ষ, আহত ২৮

লালখান বাজার ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও বিদ্রোহী প্রার্থীর অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে৷ এছাড়াও বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষে প্রায় ২৮ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

আহতরা হলেন ১৩ নম্বর দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডে সংঘর্ষে আহত বিএনপির প্রার্থীর এজেন্ট মো. হোসেন (৩৫), আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সমর্থক ইমরান (২৫), রাকিব মাহমুদ, মো. রাজু, বাবু (৪০), আবু তাহের (৪২), রাজু, হৃদয় (১৬), বহিরাগত জামশেদ (২৬), আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থক ফারুক (২০), মাহমুদুল হাসান।

এছাড়াও লালখান বাজার এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনায় আহত অবস্থায় আনা হয়েছে মো. হোসেন (৩৫), মহসিন (২৪), আনসার সদস কামাল (২২), বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থক সেলিনা (৫৫), আওয়ামী লীগের সমর্থিত কাউন্সিল প্রার্থীর সমর্থক তারেক (২১), মোক্তার হোসেন (৩৫), অভিজিৎ চৌধুরী অভি (৫০), লুজক লুক (৩১), রাকিব ও দেলোয়ার (২৬)।

এছাড়াও চান্দগাঁও ওয়ার্ডে বিএনপির কর্মীদের হামলায় আহত হয়েছেন সাইফ উদ্দীন (৩৪), ইলিয়াস (২৮), আবু সাঈদ (২৮) ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মোবারক আলীর অনুসারী আলমগীর (৪০)।

৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি সমর্থক কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থক আবু তাহের (৩০), চকবাজার ওয়ার্ডের ইদ্রিস হোসেন (৪৫)।

মেয়র ও কাউন্সিলর নির্বাচন

নির্বাচনের মাধ্যমে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নতুন মেয়র, ৩৯ জন ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবং সংরক্ষিত ওয়ার্ডের ১৪ জন নারী কাউন্সিলর নির্বাচিত হবে৷ ভোটার সংখ্যা ১৯ লাখ ৩৮ হাজার ৭০৬ জন৷

মেয়র পদে সাতজন প্রার্থী থাকলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে আওয়ামী লীগ প্রার্থী এম রেজাউল করিম চৌধুরী এবং বিএনপির শাহাদাত হোসেনের মধ্যে৷

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ২৯ মার্চ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ষষ্ঠ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও করোনাভাইরাসের প্রকোপ বাড়তে থাকায় নির্বাচনের আট দিন আগে তা স্থগিত করা হয়। এরপর পরিস্থিতির উন্নতি বিবেচনায় ২৭ জানুয়ারি ভোটের দিন ঠিক করে নির্বাচন কমিশন। এবার মেয়র নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিএনপির দুই প্রার্থীর বাইরে আরও ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্য প্রার্থীরা হলেন এনপিপি’র আবুল মনজুর (আম), বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের এম এ মতিন (মোমবাতি), স্বতন্ত্র প্রার্থী খোকন চৌধুরী (হাতি), ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মুহাম্মদ ওয়াহেদ মুরাদ (চেয়ার) এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. জান্নাতুল ইসলাম (হাতপাখা)।