ঘোষিত বাজেট: করোনা ও এসডিজি’র আলোকে উপেক্ষিত শিক্ষাখাত

আকমল হোসেন 

৩ জুন জাতীয় সংসদে ২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য দেশের ৫০তম এবং বড় অংকের বাজেট ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী। ৩, ৮৯, ০০০ কোটি টাকার আয় এবং ৬, ০৩, ৬৮১ কোটি টাকা ব্যয়, ঘাটতি বাজেট ২, ৪১, ৬৮১ কোটি টাকা। বাজেটের আকার জিডিপির ৭.২% এবং প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৮.২% । শিক্ষা ও প্রযক্তি খাতে বরাদ্দ ৯৪, ৮৭৫ কোটি টাকা, যা বাজেটের ১৫.৭% এবং শুধু শিক্ষাখাতে বরাদ্দ বাজেটের ১১.১%। মাথাপিছু বাজেট বরাদ্দ ৩৭, ৩৩৩ টাকা, যা ২০২০-২১ অর্থবছরে ছিলো ৩৬, ১২৬ টাকা। এই যখন অবস্থা তখন আমাদের প্রত্যেকের মাথায় ঋণের বোঝা ৮৫ হাজার টাকা।

বাজেটে মাথাপিছু বরাদ্দ বাড়ালেও ব্যক্তি করসীমা আগের মতই রয়েছে, অন্যদিকে করপোরেট কর কমানোর ফলে সুবিধা পাবে ব্যবসায়ীরা, এবারও কালো টাকা তথা অবৈধভাবে আয়ের টাকা সাদা করার সুবিধা রাখায় লাভবান হবে ধনীরা। ফলে মধ্যবিত্তরা সেই অর্থে সুবিধা পাবে না।

ইতোমধ্যেই সরকারি দলের পক্ষ থেকে বাজেটকে যেমন ধন্যবাদ জানানো হয়েছে তেমনি বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের স্বার্থের বিপক্ষে বলে মতামত ব্যক্ত করা হয়েছে। অর্থনীতি ও বাজেট নিয়ে কাজ করা বেসরকারি পর্যায়ের কিছু গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং অর্থনীতিবিদেরা বাজেটের নানামুখী সীমাবদ্ধতার কথা বলেছেন।

সংসদে আলোচনার পর এই বাজেট চূড়ান্ত হওয়ার কথা, সেখানে কিছু রদবদল হয়ে আসার একটা সুযোগ থাকলেও এবারের বাজেটে তেমন সুযোগ নেই, বিরোধীদল বিহীন সংসদে বাজেট পুনর্বিন্যাসের কোনো সুযোগ নেই, অতএব অর্থমন্ত্রী সংসদে বাজেট হিসেবে যেটি উত্থাপন করেছেন সরকারি দলের সাংসদরা বিনা বাক্যে সেটিতেই সমর্থন দেবেন এটাই বাস্তব।

জনসংখ্যা বৃদ্ধি দেশের প্রবৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফিতি সব মিলে টাকার অঙ্কে বাজেটের কলেবর প্রতিবছর বড় হলেও পূর্বের তুলনায় আনুপাতিক হারে খুব যে বেশি তেমন বলা যাবে না, কারণ ১৯৭২ সালে একজন প্রথম শ্রেণির কর্মচারীর মাসিক বেতন ছিল ৩৭৫ টাকা, সেখানে আজ সেই বেতন ২২, ০০০ টাকা। এক ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ৭০ টাকা আর আজ তার দাম ৫০, ০০০ টাকা। ১৯৭৩ সালে ১ জন হাইস্কুল শিক্ষকের বেতন ছিল ১২০ টাকা, ১ জন শ্রমিকের সর্বনিম্ন বেতন ছিল ১৬০ টাকা, তখন ১ মণ চাউলের দাম ছিল ৩০ টাকা। সাড়ে সাত কোটি মানুষের জায়গায় আজ সতেরো কোটি মানুষ, শুধু শিক্ষার্থীর সংখ্যায়ই চার কোটি। সেই দিক থেকে এই বাজেটগুলি একটি প্রবৃদ্ধিমূলক বাজেট, তবে কল্যাণমূলক রাষ্ট্রচিন্তা অথবা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অর্থনৈতিক বৈষম্যহীন আর শোষণমুক্তির জন্য এ বাজেটগুলি ইতিবাচক নয়।

করোনা কারণে স্বাস্থ্যখাতে ১০, ০০০ কোটি টাকার অতিরিক্ত বরাদ্দ, সামাজিক নিরাপত্তাখাতে বরাদ্দ কিছুটা বেড়েছে, এই বরাদ্দের মাধ্যমে ১২০টি উপজেলার ৮ লক্ষ নতুন লোককে নতুন করে বয়স্ক ভাতা প্রদানের আওতায় আনা হবে। বণ্টন ব্যবস্থায় পরিবর্তন এবং স্বচ্ছতা না আনলে দলীয়করণের কারণে বিগত বছরগুলির মতই অভাবগ্রস্ত লোক না পাওয়ার অবস্থা সৃষ্টি হতে পারে। স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়নখাতে বিগত বছরের তুলনায় বরাদ্দ না বাড়ায় বিরাট সংখ্যক গ্রাম পুলিশ, আনসার, ভিডিপির চাকুরি স্কেলভুক্তির দাবি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না। বহু সংখ্যক নকলনবীশের চাকুরির অস্থায়ীত্ব, ১৪ মাসের বেতন বকেয়া এবং তাদের চাকুরি স্থায়ীকরণের কাজও সম্ভব হবে না।

করোনার কারণে ১৫ মাস ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও অনলাইনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সংসদ টিভির মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম চলমান আছে। তবে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ নিয়ে এবারে বাজেটে তেমন উচ্চ-বাচ্চ্য নেই। দেশের ৪ কোটি শিক্ষার্থী ২০ লক্ষাধিক শিক্ষক-কর্মচারী নিয়ে গঠিত বৃহৎ শিক্ষা পরিবারের জন্য শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে বরাদ্দ হয়েছে ৯৪, ৮৭৫ কোটি টাকা, যা বাজেটের ১৫.৭ %, শুধুই শিক্ষাখাতে বরাদ্দ ১১.১%। অথচ ২০১৫ সালে ওয়ার্ল্ড এডেকেশন ফোরাম গৃহিত এসডিজিস বাস্তবায়নে সরকারের প্রতিশ্রুতি ছিলো, দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার ব্যয় বহন করবে সরকার। এসডিজি’র ১৭টি লক্ষ্যের মধ্যে চতুর্থ লক্ষ্যে “অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমতাভিত্তিক মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং সবার জন্য জীবনব্যাপী শিক্ষার সুযোগ তৈরি করা”। চতুর্থ লক্ষ্য বাস্তবায়নে ১০টি টার্গেটও নির্ধারণ করা হয়েছে, যা টার্গেটের মধ্যে প্রাক-প্রাথমিক, উচ্চতর শিক্ষা, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা তরুণ ও প্রাপ্ত বয়স্কদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, জনসাধারণের স্বাক্ষরতা ও গাণিতিক দক্ষতা শারীরিক ও মানসিকভাবে পিছিয়ে থাকা শিশুদের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে একীভূত ও সমতাভিত্তিক শিক্ষা, মানসম্মত শিক্ষা ও মানসম্মত শিক্ষকের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য বাজেটের ২০% এবং জিডিপির ৪% শিক্ষায় বরাদ্দ করবে।

২০২০-২১ বাজেটে শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে বরাদ্দ ছিলো ১৫.১%, তার মধ্যে রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্যই বরাদ্দ ছিলো ১৫ হাজার ৬৯১ কোটি টাকা, যা শিক্ষাখাতে দেখানো হয়েছিলো। সেই টাকার হরিলুট দেশবাসী দেখেছে। ৭ হাজার ১৪৪টি একাডেমিক স্বীকৃতি প্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৮০, ০০০ শিক্ষক-কর্মচারী এখনও এমপিওভুক্ত হয়নি। এদের ১০/১৫ বছর ধরে বেতনভাতা চালু না হওয়া, অনার্স-মাস্টার্স পর্যায়ের ৫০০০ শিক্ষকের বেতন ভাতা না হওয়া, এবারের বাজেটে নতুন প্রতিষ্ঠান এমপিও বাবদ ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হলেও অবসরে যাওয়া শিক্ষক-কর্মচারীর অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ট্রাস্টের ৪/৫ বছরের পানা টাকা পরিশোধের জন্য কোনো বরাদ্দ নেই। বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ১০০০ টাকার বাড়িভাড়া আর ৫০০ টাকার মেডিকেল ভাতা পরিবর্তনের আন্দোলন দীর্ঘ দিনের, এ খাতে কোনো কিছু বলা হয়নি। সরকার কোনো ধরণের নীতিমালা ছাড়াই প্রতি উপজেলায় একটি স্কুল ও একটি কলেজ সরকারিকরণ করেছে, এর আওতায় ২ শতাধিক পদায়ন ও বেতন-ভাতার জন্য কোনো বরাদ্দ রাখেনি।

২০১০ সালে ঘোষিত জাতীয় শিক্ষানীতি সরকার এখন পর্যন্ত বাস্তবায়ন করতে পারেনি। ২০১৮ সালে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য নতুন জনবল কাঠামো ঘোষণা করার পর সরকারি দল সমর্থিত গৃহপালিত শিক্ষক নেতারা বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা শতভাগ বোনাস পাচ্ছেন এ মর্মে সরকারকে ধন্যবাদ জানান, কিছু কিছু মিডিয়া সেটা প্রচারও করেছিল কিন্তু বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা শতভাগ বোনাস পাননি।

এবারের বাজেট দিয়েও মুক্তিযুদ্ধের আলোকে অসাম্প্রদায়িক বিজ্ঞানমনস্ক সর্বজনীন ও গুণগত শিক্ষা বাস্তবায়ন সহজ হবে না বলেই মনে হচ্ছে। সর্বজনীন মানবাধিকারের ২৬ ধারা মোতাবেক শিক্ষা জনগণের জন্য মৌলিক অধিকার এবং বাংলাদেশর সংবিধানের ১৫ ধারা মোতাবেক সব মানুষের জন্য অন্ন, বস্ত্র, আশ্রয়, শিক্ষাসহ জীবনধারনের ব্যবস্থা করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব, বিষয়টি মাথায় রেখে যে ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন, বিগত সময়ে তার প্রতিফলন ঘটেনি, এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। শিক্ষায় অর্থায়ন, শিক্ষার দর্শন আর শিক্ষা ব্যবস্থাপনা নিয়ে শাসকমহল বিভিন্ন সময়ে আন্তর্জাতিক ফোরামে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তার বাস্তবায়ন অধিকাংশ ক্ষেত্রেই হয়নি।

মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকার এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালনের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে এ বছরের বাজেটের হিসাব-নিকাশ করলে বাজেটের আঙ্গিকটা পরিবর্তন হওয়ার কথা ছিলো, কিন্তু তা হয়নি। শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির জন্য শিক্ষা প্রশাসনে দক্ষ, যোগ্য এবং অভিজ্ঞ লোকের প্রয়োজন। শিক্ষা কারিকুলামকে যুগোপযোগী করা, বিজ্ঞান ও কারিগরি বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করা, দক্ষ ও যোগ্য শিক্ষক নিয়োগের জন্য নিয়োগ ব্যবস্থাকে ত্রুটিমুক্ত করা, নিয়োগকৃত জনবলকে প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশিক্ষণ প্রদানের ব্যবস্থা করা, আধুনিক শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ নিশ্চিত করা, এই কাজগুলি করার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। সেইসাথে মহামারি করোনার কারণে শিক্ষার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে শিক্ষায় অতিরিক্ত অর্থের সংস্থান প্রয়োজন, বাজেটে এমনটা দৃশ্যমান নয়। তবে বাজেটে শিক্ষাখাতে বরাদ্দের চিত্র সরকারের পূর্ব প্রতিশ্রুতির সাথে মিল পাওয়া যাচ্ছে না।

দারিদ্র্যতা থেকে উঠে মধ্য আয়ের দেশে হওয়া সত্ত্বেও শিক্ষায় আমাদের যা বরাদ্দ তা পার্শ্ববর্তী এবং তৃতীয় বিশ্বের দেশে ভুটান, মালদ্বীপ ও নেপালের চেয়েও অনেক কম। যদিও অন্যখাতের টাকা শিক্ষার মধ্যে দেখিয়ে টাকার অংককে বাড়িয়ে দেখানো হয়। গত বছরের বাজেটে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ১৭ হাজার ৯৪৬ কোটি টাকা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের ১ হাজার ৪১৫ কোটি টাকা এবং রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের ১৫ হাজার ৬৯১ কোটি টাকা শিক্ষায় দেখিয়ে যেমন শিক্ষাখাতে টাকার অংক বাড়ানো হয়েছিলো, এবার ঠিক একই কাজ করা হয়েছে।

গত বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ধর্মীয় সম্প্রীতিও সচেতনতা বৃদ্ধি এবং হাওর এলাকায় জনগণের জীবনমানের উন্নয়ন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ইমামদের প্রশিক্ষণের প্রকল্প দেখানো হয়েছিল শিক্ষাখাতে। তবে সেই টাকার সঠিক ব্যবহার হলে কি নাসিরনগর শাল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মতো মৌলবাদী তাণ্ডব হতো? স্বাধীনতার পরে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ জিডিপির সর্বনিম্ন ১.৮ এবং সর্বোচ্চ ২.৫, আর বাজেটের সর্বোচ্চ ১৪%। যদিও বিভিন্ন সময়ের সরকারগুলি শিক্ষাখাতে জিডিপি ৭% (ইউনেস্কো) ৬% (ডাকার) ৫% (কুদরতই-খুদা শিক্ষা কমিশন) বরাদ্দের সুপারিশ ছিল কিন্তু সেটা না হয়ে ২% বা তার কম এ যাবৎ শিক্ষাখাতে বরাদ্দ হয়ে আসছে। বরাদ্দকৃত অর্থেরও ১টি অংশ প্রতি বছরই অব্যবহৃত থেকে যায়, একটি অংশ প্রতিরক্ষা খাতের ক্যাডেট শিক্ষায় চলে যায়, আরেকটি অংশ অপচয় হয়ে যায়, প্রকল্পের নামে হরিলুট হয়। ফলে শিক্ষাখাতে যেটি বরাদ্দ হয়, সেটিরও শতভাগ ব্যয় হয় না। বাজেটে টাকার অংকে শিক্ষাখাতে যেটি বরাদ্দ থাকে তারও একটি অংশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিখাতে চলে যায়, আরেকটি অংশ প্রতিরক্ষা খাতের ক্যাডেট শিক্ষায় চলে যায়।

এমনতর বাস্তবতায় এসডিজি’র ৪ নং ধারার “অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমতাভিত্তিক মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং সবার জন্য জীবনব্যাপী শিক্ষার” সুযোগ তৈরি কিভাবে সম্ভব সেটা বোঝা খুবই কঠিন। অন্যদিকে প্রকল্পের নামে বরাদ্দকৃত অর্থের অপচয় শিক্ষার উন্নয়নে আরেকটি অন্তরায়। সরকারের আন্তরিকতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আর মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গিকারের প্রতি দৃঢ় অবস্থানই শিক্ষাক্ষেত্রে শনির দশা কাটতে পারে বলে অনেকেরই বিশ্বাস। বাজেট এখনও চূড়ান্ত হয়নি ফলে রদবদলের সুযোগ আছে, দরকার শুধু সরকারের আন্তরিকতা। করোনার কারণে শিক্ষার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বাড়তি বরাদ্দ অন্যদিকে নিয়মিত গভর্নিং বডি গঠনের বিপরীতে ছয় মাস পরপর এডহক কামটির নামে ফিস এবং উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় (স্কুল অ্যান্ড কলেজ) এর একসাথে স্বীকৃতির নীতি বাতিল করে আলাদা আলাদাভাবে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে।

বিশ্বায়নের প্রতিযোগিতায় টিকার জন্য দক্ষ ও যোগ্য জনশক্তি গড়ে তুলতে শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি ছাড়া কোনো বিকল্প নেই, কারণ বিষযটি কোনো বিশেষ সম্প্রদায় বা গোষ্ঠীর নয়, বিষয়টি দেশের সতেরো কোটি মানুষের। জনগণের পাওয়া-না পাওয়ার বিষয়টি সরকারের ওপর নির্ভর করছে, সেইসাথে বিভিন্ন সময়ে সরকার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে শিক্ষাখাতে অর্থায়নের ঘোষণা বা প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসেছেন সে বিষয়টি বিবেচনায় রাখার প্রয়োজন। বিষয়টি বিবেচনা করে মাননীয় সংসদ সদস্যরা বাজেট অধিবেশনে সাধারণ মানুষের স্বার্থে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবেন বলে আশা করি।

লেখক: সাংগঠনিক সম্পাদক, বাকবিশিস, কেন্দ্রীয় কমিটি। 

Leave a Reply

Your email address will not be published.