ঘূর্ণিঝড় ইয়াস: আঘাত হেনেছে উড়িষ্যায়; ঝুঁকিমুক্ত বাংলাদেশ

অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ইয়াস ভারতের উড়িষ্যায় আঘাত করেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তর।

বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সাইক্লোনটির কেন্দ্র আনুমানিক দুপুর ১২টার দিকে উড়িষ্যার ধামরা অঞ্চল দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছে।

উড়িষ্যা রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডব ৩ থেকে চার ঘণ্টা পর্যন্ত চলতে পারে।

এদিকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশ ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের ঝুঁকিতে নেই। এটি বাংলাদেশে আঘাত করেনি। ঘূর্ণিঝড়টি দুর্বল হয়েছে উড়িষ্যায় আঘাত করেছে।

আজ বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন। তিনি বলেন, পূর্ণিমার কারণে জোয়ারের পানি বেশি ছিল। এ কারণে উপকূলীয় এলাকাগুলোতে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের কারণে উপকূলীয় ২৭ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। ১৪টি জেলায় বেড়িবাঁধ ও বিভিন্ন স্থাপনায় জোয়ারের পানি ঢুকেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁধের ক্ষয়ক্ষতি কাটাতে কাজ করছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ’৬০ এর দশকের এসব বাঁধ জলোচ্ছ্বাস প্রতিরোধে কার্যকর নয়। এ জন্য বাঁধ পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

উল্লেখ্য, পূর্বাভাস অনুযায়ী ঘূর্ণিঝড়টি বালেশ্বরের দক্ষিণ এবং ধামরার উত্তরাঞ্চল দিয়ে উড়িষ্যায় আঘাত হেনেছে। ঘূর্ণিঝড়ের সাথে জলোচ্ছাসের প্রভাবে উড়িষ্যা ও পূর্ব মেদিনীপুর এলাকার ব্যাপক অংশ পানির নিচে চলে গেছে বলে জানা যাচ্ছে।

বাংলাদেশের চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, পায়রা ও মোংলা সমুদ্রবন্দরকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে মঙ্গলবার থেকেই বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে ঝড়-বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। অনেক এলাকাতেই নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশ কয়েক ফুট উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

আজ দুপুরে ঘূর্ণিঝড় অতিক্রমের সময় খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, ভোলা, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেলী, চাঁদপুর ও চট্টগ্রাম জেলায় ও এর অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোতে ভারী ও অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে বলে আবহাওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.