গ্যাস-বিদ্যুৎ এর মূল্যবৃদ্ধি জনগণ বরদাস্ত করবে না- বাম জোট

গ্যাস-বিদ্যুৎ এর মূল্যবৃদ্ধির সরকারি নতুন পাঁয়তারা সম্পর্কে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছেন বাম নেতৃবৃন্দ।

বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকারের ভুল নীতি-কৌশলের বোঝা কোনভাবেই জনগণ বহন করতে পারেনা, জনগণ এই ধরনের হঠকারী তৎপরতা বরদাস্ত করবেনা।

জাতীয় নেতৃবৃন্দ প্রশ্ন করেন জ্বালানি খাতে লাগামহীন চুরি, দূর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার জন্য জনগণ কেন শাস্তি পাবে?

২১ জানুয়ারি, শুক্রবার বাম গণতান্ত্রিক জোটের কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের নেতৃবৃন এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন।

নেতৃবৃন্দ বলেন, ডিজেল ও কেরোসিনের মূল্যবৃদ্ধির বিশাল ধাক্কা মানুষ এখনো সামাল দিয়ে উঠতে পারেনি। এইমূল্য বৃদ্ধির কারণে ইতিমধ্যে সাধারণ মানুষের জীবনকে বিপর্যস্ত করে ফেলেছে। এর মধ্যে আবার যদি স্বেচ্ছাচারীভাবে গ্যাস-বিদ্যুৎ এর দাম বাড়ানো হয় তা হবে মরার উপর খাড়ার ঘা।আমলা ও গ্যাস-বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলোর এই ধরনের হঠকারী ও ষড়যন্ত্রমূলক তৎপরতা কোন ভাবেই মেনে নেয়া হবেনা।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, আমদানির ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি না করে স্পট মার্কেট থেকে বেশী দামে গ্যাস কেনা, দেশে গ্যাস অনুসন্ধানে কার্যকরি পদক্ষেপ না থাকা এবং এসবের ব্যবসা মুনাফালোভী একক প্রতিষ্ঠানের উপর ছেড়ে দেয়া, বসে থাকা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে অপ্রয়োজনীয় টাকার (ক্যাপাসিটি চার্জ) যোগান দিয়ে বিশাল অংকের অর্থ অপচয় করাসহ অসংখ্য ভূল ও আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত ও যাবতীয় পদক্ষেপের কারণে  এখন জ্বালানি খাতে লোকসান ও ভর্তুকীর কথা বলা হচ্ছে।আর এসব কারণেই জ্বালানি খাতের ব্যয় বাড়ছে।

তারা বলেন, এইসব অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, চুরি,দূর্নীতি,ভুল সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না করে সরকারী ব্যর্থতার দায় এখন ভোক্তাদের উপর চাপানো হচ্ছে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলো ভাল লাভজনক অবস্থায় রয়েছে। এই অবস্থায় মূল্যবৃদ্ধির যুক্তিসঙ্গত কোন কারণ নেই।

তারা উল্লেখ করেন, আর এক দফা মূল্য বৃদ্ধি করলে কৃষি, শিল্প,পরিবহন, সেবাখাতসহ ব্যক্তি ও পারিবারিক পর্যায়ে জনদুর্ভোগ সকল সীমা ছাড়িয়ে যাবে।

তারা বলেন, জনগণের প্র‍তি কোন দায় না থাকায় সরকার যা খুশী তাই করে চলেছে। তারা অবিলম্বে গ্যাস-বিদ্যুৎ এর মূল্যবৃদ্ধির হঠকারী তৎপরতা থেকে সরে আসার জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান।

বিবৃতি প্রদান করেন বাম জোটের সমন্বয়ক বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম,  বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান  গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, বাসদ ( মার্কসবাদী)’র  সাংগঠনিক সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহবায়ক মানস নন্দি, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন নান্নু, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশারেফা মিশু, ওয়ার্কার্স পার্টি (মার্কসবাদী)’র সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ ও সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের সভাপতি হামিদুল হক।

Leave a Reply

Your email address will not be published.