‘গুরুতর অসদাচরনে’ লিপ্ত নির্বাচন কমিশন

বাংলাদেশের বর্তমান নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ‘গুরুতর অসদাচারনের’ অভিযোগ করেছেন ৪২ জন বিশিষ্ট নাগরিক৷ পাশাপাশি অনিয়ম, দুর্নীতি এবং নিয়োগ বাণিজ্যেরও অভিযোগ এনেছেন তারা৷

৪২ জন বিশিষ্ট নাগরিকের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী শাহদীন মালিক চিঠিটি পাঠিয়েছেন৷ রাষ্ট্রপতিকে এসব অনিয়ম ও দুর্নীতি তদন্তে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠনের অনুরোধ করেছেন তারা৷ পাশাপাশি অভিযোগের সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত তাদের দায়িত্ব পালনে বিরত থাকারও অনুরোধ করা হয়েছে৷

প্রতিক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশনার অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাহাদাত হোসেন চৌধুরী বিশিষ্ট নাগরিকদের অভিযোগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মন্তব্য করেছেন।

শাহাদাত হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘দেশের ৪২ জন বিশিষ্ট নাগরিকের তোলা অভিযোগ হয়তো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কোনোটার ভিত্তি আছে বলে আমি মনে করি না। তাদের অভিযোগ রাষ্ট্রপতির কাছে গিয়েছে। তিনি কী করবেন সেটা রাষ্ট্রপতির ব্যাপার’।

আজ (২০ ডিসেম্বর) রোববার দুপুরে সোয়া ৩টার দিকে নির্বাচন ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

‘অভিশংসনযোগ্য অপরাধ’

গতকাল (১৯ ডিসেম্বর) শনিবার সাংবাদিক সম্মেলনে নিজেদের অভিযোগের বিষয় তুলে ধরেছেন শাহদীন মালিকসহ কয়েকজন৷

শাহদীন মালিক বলেন, ‘‘আমরা সবাই মনে করেছি দায়িত্ব গ্রহণ করার পর নির্বাচন কমিশন যেসব কার্যকলাপ করেছে, সেগুলো গুরুতর অসদাচরণ৷ সাংবিধানিক পদে যারা আছেন তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করার কথা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের৷ দুদক বা পুলিশ এটা করতে পারবে না৷ রাষ্ট্রপতি এ নির্দেশ দিতে পারেন৷ এই প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রপতিকে অভিযোগ জানিয়েছি৷ সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করে তদন্ত হওয়া উচিত৷ আমরা আশা করছি, গুরুতর অসদাচরণের দায়ে তারা দোষী হবেন৷ সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের সুপারিশ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি তাদের অপসারণ করবেন”।

গত ১৪ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো চিঠিতে অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, এম হাফিজউদ্দিন খান, ড. আকবর আলী খান, সুলতানা কামাল, রাশেদা কে চৌধুরী, ড. হামিদা হোসেন, আলী ইমাম মজুমদার, খুশী কবির, অধ্যাপক পারভীন হাসান, ড. বদিউল আলম মজুমদার, ড. ইফতেখারুজ্জামান, অধ্যাপক আসিফ নজরুল, অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, ড. আহসান মনসুর, স্থপতি মোবাশ্বের হাসান, শামসুল হুদা, অধ্যাপক সি. আর আবরার, ব্যারিস্টার সারা হোসেন, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানসহ ৪২ জন স্বাক্ষর করেছেন৷

চিঠিতে বলা হয়েছে, কে এম নুরুল হুদার নেতৃত্বে বর্তমান নির্বাচন কমিশনের সদস্যরা ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বিভিন্নভাবে গুরুতর অসদাচারণে লিপ্ত হয়েছেন৷ কমিশনের সদস্যগণ একদিকে গুরুতর আর্থিক দুর্নীতি ও অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন, যা অভিশংসনযোগ্য অপরাধ৷ একইভাবে তারা বিভিন্নভাবে আইন ও বিধিবিধানের লঙ্ঘন করে গুরুতর অসদাচরণ করে চলেছেন৷ ‘‘আমরা আর্থিক দুর্নীতি ও অনিয়মসহ কমিশনের গুরুতর অসদাচরণের অন্য কয়েকটি ক্ষেত্রে আপনার সদয় অবগতির জন্য চিহ্নিত করছি”।

অভিযোগসমূহ-  

অভিযোগের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, ‘বিশেষ বক্তা’ হিসেবে বক্তৃতা দেওয়ার নামে দুই কোটি টাকার মতো আর্থিক অসদাচরণ ও অনিয়ম৷

নির্বাচন কমিশনের কর্মচারী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় চার কোটি আট লাখ টাকার অসদাচরণ ও অনিয়ম৷

নিয়ম বহির্ভূতভাবে তিনজন কমিশনারের তিনটি গাড়ি ব্যবহারজনিত আর্থিক অসদাচরণ ও অনিয়ম৷

এছাড়া ইভিএম ক্রয় ও ব্যবহারে গুরুতর অসদাচরণ ও অনিয়ম, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানে গুরুতর অসদাচরণ ও অনিয়ম এবং ঢাকা (উত্তর ও দক্ষিণ), খুলনা, গাজীপুর, সিলেট, বরিশাল ও রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে গুরুতর অসদাচরণ ও অনিয়মের কথা উল্লেখ করা হয়েছে৷