গার্মেন্টস’ শ্রমিক-বিক্ষোভ: বকেয়া বেতন পরিশোধ ও কারখানা খোলার দাবি

জুলাই মাসের বকেয়া বেতন ও বে-আইনিভাবে বন্ধ ঘোষিত কারখানা খুলে দেওয়ার দাবিতে সিদ্ধিরগঞ্জের মুনলাক্স অ্যাপারেলস লিমিটেড গার্মেন্টসের শ্রমিকরা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ কর্মসূচি পালন করেছে।

শনিবার (১৩ আগস্ট) দুপুর ১২ টায় চাষাড়া শহীদ মিনারে জড়ো হয়ে এ বিক্ষোভ সমাবেশ ও শহরের বঙ্গবন্ধু সড়ক প্রদক্ষিণ করে মিছিল শেষে প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান নিয়ে দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন।

মুনলাক্স গার্মেন্টস’ শ্রমিকদের দাবির সাথে সংহতি জানিয়ে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য দুলাল সাহা, নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি এম এ শাহীন, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার দাস ও মুনলাক্স গার্মেন্টসের শ্রমিক আনোয়ার হোসেন, মাহাবুব আলম, সাহারা আক্তার প্রমুখ।

বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে নেতৃবৃন্দ বলেন, আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে বকেয়া পাওনা পরিশোধ করতে হবে। নয়তো নেতৃবৃন্দ তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলে দাবি আদায় করার ঘোষণা দিয়েছেন শ্রমিকবৃন্দ।

বিক্ষোভ সমাবেশে শ্রমিক নেতৃবৃন্দের বক্তব্য থেকে জানা যায় যে, মুনলাক্স অ্যাপারেলস লিমিটেড গার্মেন্টসের শ্রমিকদের জুলাই মাসের বেতন ও জুন মাসের আংশিক বেতন বকেয়া রেখে কারখানা বন্ধ ঘোষণা করেছেন কর্তৃপক্ষ।

কারখানা বন্ধ করার বিষয়ে মালিক কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদেরকে অবহিত না করে কোন প্রকার আলোচনা ছাড়াই সম্পুর্ন বে-আইনিভাবে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে বলেও জানান তারা।

সমাবেশ থেকে বলা হয়, শ্রমিকরা সকাল বেলা কাজে যোগদান করতে গিয়ে দেখে কারখানার মূল ফটকে তালা ঝুলছে। বেতন বকেয়া রেখে হঠাৎ করে কারখানা বন্ধ ঘোষণা করার কারণে শ্রমিকরা রাজপথে বিক্ষোভে নামতে বাধ্য হয়েছে।

এই গার্মেন্টসের মালিক প্রতি মাসেই শ্রমিকদের বেতন, ওভারটাইম ও নাইট বিল পরিশোধ করা নিয়ে গড়িমসি করেন দাবি করে বক্তারা বলেন, অর্জিত ছুটি কিংবা ছুটির টাকা দেয় না মালিকপক্ষ। শ্রমিকের পাওনা পরিশোধে তারিখের পর তারিখ দিয়ে যায়।

এসব বিষয়ে কথা বললে, শ্রমিকদের চাকুরিচ্যুত করাসহ হুমকি ধামকি দিয়ে ভয় দেখিয়ে চুপ করিয়ে রাখা হয় বলেও নেতৃবৃন্দ দাবি করেন।

জুন মাসে আংশিক বেতন ও জুলাই মাসের বেতন না দিয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানা বন্ধ ঘোষণা করেছে মালিকপক্ষ বলে দাবি শ্রমিকদের। শ্রমিক নেতৃবৃন্দ দাবি করেন, মালিকের এই বে-আইনি সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে অবিলম্বে কারখানা খুলে দিয়ে উৎপাদনের সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে।

প্রসঙ্গত, শ্রমিকরা জানান, আগস্টের মাজামাঝি সময়ে এসেও এখনো বেতন না পাওয়ায় শ্রমিকরা ঘর ভাড়ার টাকা ও মুদিদোকানির বাঁকি টাকা পরিশোধের চাপে পড়েছে। ঘরে কোন বাজার সদাই নেই। শ্রমিকদের এখন পরিবার নিয়ে না খেয়ে মরার অবস্থা তৈরি হয়েছে।

এই অবস্থা চলতে পারে না বলে শ্রমিকরা হুশিয়ারি উচ্চারণ কঠোর কর্মসূচি গ্রহণের কথাও জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published.