সিপিবি’র পদযাত্রা থেকে হামলার প্রতিবাদ

গাইবান্ধা প্রতিনিধি: জনগণের ভোটাধিকার, কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় দখলমুক্ত,সড়কে মৃত্যুর মিছিল বন্ধ, জাতীয় নূন্যতম মজুরী ১৬ হাজার টাকা,ভূমিহীন ক্ষেতমজুরসহ গ্রামীন মজুরদের রেজিষ্ট্রেশন কার্ড, ধর্মীয় সংখ্যালঘু,আদিবাসী প্রমূখের ওপর জুলুম-অত্যাচার বন্ধ, ভারতের সাথে জাতীয় স্বার্থবিরোধী অসমচুক্তি বাতিলসহ ১৭ দফা দাবিতে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পাটি (সিপিবি)’র ডাকে দেশব্যাপী পদযাত্রা কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।

এরই অংশ হিসেবে সিপিবি গাইবান্ধা জেলা কমিটির ১০০ কিলোমিটার পদযাত্রার ৮০ কিলোমিটার শনিবার (৩০ নভেম্বর) জেলা শহরের শহীদ মিনারে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্যে দিয়ে শেষ হয়েছে।

এসব পদযাত্রায় চলাকালে বিভিন্ন গ্রাম থেকে কমরেডরা কাস্তে হাতুড়ি খচিত লাল পতাকা আর ১৭দফা দাবিসহ স্থানীয় দাবি সম্বলিত ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে পদযাত্রায় অংশ নেয়। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে লাল পতাকার এই মিছিলে অনেক শুভাংখী ও সাধারণ মানুষকেও অংশ নিতে দেখা গেছে।

শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) সদর উপজেলার কাবিলের বাজার কামারজানি বন্দর,গিদারি, রুপারবাজারসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে দারিয়াপুর বন্দর মিলিত হয়। বেলা ১১টায় থেকে খোলাহাটি, হাশেমবাজার,মাঠবাজার হয়ে ১০ কিলোমিটার পদযাত্রায় ৩টি পথসভা করে শহরের শহীদ মিনার চত্বরে এসে শেষ হয়। পরে শহীদ মিনারে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে নেতৃবৃন্দ সিপিবি’র সাবেক সভাপত মঞ্জুরুল আহসান খানসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পার্টির নেতাকর্মীদের উপর ক্ষমতাসীন দলের সন্ত্রাসীদের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, ভোটার বিহীন নির্বাচনে জয়ী এই সরকার জনবিচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে, তাই এখন মানুষের মৌলিক অধকিার মিছিল,মিটিং দেখলেও সহ্য করতে পারছেনা।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন,রাতের অন্ধকারে ভোট ছিনতাই করে আওয়ামী লীগ সরকার এখন ফ্যাসিবাদী রুপ ধারণ করেছে। তার সহযোগি সংগঠন আওয়ামী যুবলীগ,ছাত্রলীগ ক্রাইম চক্র সিন্ডিকেট তৈরি করে ক্যাসিনো বানিজ্যসহ টেন্ডারবাজি,চাঁদাবাজি চালিয়ে দেশকে লুটপাটের রাজত্বে পরিনত করেছে।

গাইবান্ধায় ৮০ কিলোমিটার পদযাত্রায় স্থানীয় জনগণ নানা সমস্যার কথা সিপিবি’র কাছে তুলে ধরেছেন। সিপিবি গাইবান্ধার জনগণের এই দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে এসময় বক্তারা জেলায় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়,বালুয়া হাসপাতালকে ১০০ শয্যার হাসপাতালে রুপান্তর,লক্ষীপুর সড়ক সংস্কার, গিদারির কালির বাজার ব্রিজ নির্মাণ,আন্তঃনগর ট্রেন বৃদ্ধি, পুনরায় রামসাগর ট্রেন চালুসহ জেলার নদী ভাঙ্গন এলাকায় স্থায়ী ভাঙ্গন রোধ কল্পে ব্যবস্থা গ্রহণর দাবি জানান।

নেতৃবৃন্দ ভূমিহীন ক্ষেতমজুরসহ গ্রামীণ মজুরদের রেজিষ্ট্রেশন কার্ড সরবরাহ, জাতীয় নূন্যতম মজুরী ১৬ হাজার টাকাসহ দুর্নীতির বিরুদ্ধে যে অভিযান চলছে তা অব্যাহত রাখার জন্য জোর দাবি জানান।

ভারতের সাথে অসম চুক্তির বাতিলের জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন,তিস্তার পানির চুক্তি বাংলাদেশের জনগনের দীর্ঘদিন দাবি হলেও সরকার ভারতের সাথে সেই চুক্তি করতে পারেনি। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী ভারত সফর গিয়ে অসম চুক্তির মাধ্যমে উল্টা ফেনী নদীর পানি ভারতকে দিয়ে এসেছেন।  অবিলন্বে এই অসম চুক্তির বাতিল দাবি করেন নেতৃবৃন্দ।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য জেলা সভাপতি মিহির ঘোষ,সিপিবি জেলা সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল,সহ-সাধারণ সম্পাদক মুরাদ জামান রব্বানী, সদর উপজেলা শাখার সভাপতি ছাদেকুল ইসলাম প্রমূখ।

গত ১১ নভেম্বর সদর উপজেলার কাবিলের বাজার থেকে এই পদযাত্রার শুরু হয়। গত বিশ দিনে জেলা সাঘাটা,ফুলছড়ি ও সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় সমস্যা নিয়ে এই পদযাত্রা অব্যাহত আছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.