গর্ভপাত নিষিদ্ধের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে নারীরা

গর্ভপাত নিষিদ্ধ করে পোল্যান্ডের নতুন আইনের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে এসেছে হাজার হাজার নারী। দেশটির অনেক শহরে এ বিক্ষোভ হয়। এখনো টানা সপ্তমদিনের মতো বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়াদের মধ্যে বেশিরভাগই নারী। রাজধানী ওয়ারশোসহ পোজনান, রোকলো, ক্রাকো শহরে বিক্ষোভে নামে নারীরা। নিষেধাজ্ঞা ভেঙে হাজার হাজার নারী রাস্তায় নেমে পুলিশের বাধার মুখে পড়ে। পোলিশ উপ-প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভকারীরা জড়ো হলে তাদের সরিয়ে দেয় পুলিশ।

এমন পরিস্থিতিতে দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, তাদের দিকে কিছু বিক্ষোভকারী পাথর ছুড়লে তারা পিপার স্প্রে ব্যবহার করে।

২৩ অক্টোবর গর্ভপাত নিষিদ্ধ করে নির্দেশ জাতি করে পোল্যান্ডের একটি আদালত। শুধু ধর্ষণের ক্ষেত্রে এবং মায়ের স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকলে গর্ভপাতের অনুমতি পাবে নারীরা। পাস হওয়া এ আইন অনুযায়ী, ধর্ষণ কারণে গর্ভধারণ, মায়ের স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে কিংবা এ ধরনের কোনো গুরুতর কারণ ছাড়া দেশটিতে গর্ভপাত করানো যাবে না। পোল্যান্ডের পার্লামেন্টে সাংসদরা এ আইনকে ‘লজ্জা’ বলে অভিহিত করে প্রতিবাদ জানান।

এ সময় অনেক নারী এমপির হাতে প্রতিবাদী স্লোগান সংবলিত প্ল্যাকার্ড ছিল। তবে দেশটির ক্ষমতাসীন দলের এক নেতা জানিয়েছেন, এ আইন পাল্টে ফেলার আর কোনো সুযোগ নেই। ৩৪ বছর বয়সী বিক্ষোভকারী মাগদা বলেন, ‘এই দেশের নারীদের সম্মান নেই। কেউই আমাদের কথা শুনছে না।’ দেশটির ফেডারেশন ফর উইম্যান অ্যান্ড ফ্যামিলি প্ল্যানিংয়ের প্রধান ক্রিস্টিনা কাকপুরা বার্তা সংস্থা এএফপিকে, ‘দেশের অর্ধেক জনসংখ্যা নারীদের জন্য এটা অমর্যাদাকর। আমরা এটি ভুলব না।’

ক্যাথলিক প্রধান দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী জারসলাউ ক্যাসজিনস্কি বলেছেন, গর্ভপাতবিরোধী আইন পাসের কারণে চলমান বিক্ষোভ পোল্যান্ডকে ‘ধংস’ করার প্রচেষ্টা। তিনি সবাইকে পোলিশ জাতি এবং ক্যাথোলিক চার্চের সুরক্ষা নিশ্চিতের আহ্বান জানান। ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে পোল্যান্ডেই গর্ভপাত নিয়ে কঠোর আইন আছে।

গত বছর ভ্রূণ নষ্ট করার ঘটনার ৯৮ শতাংশই আইনিভাবে নিষ্পত্তি হয়েছিল। নতুন আইনে গর্ভপাত নিষিদ্ধ হওয়ায় সে সুযোগ আর থাকছে না। গর্ভপাত নিয়ে প্রতি বছর দুই হাজারের কিছু কম আইনি নিষ্পত্তির মধ্যে যেতে হয় পোল্যান্ডে।

তবে নারী বিক্ষোভকারীদের দাবি, প্রতি বছর অন্তত দুই লাখের মতো গর্ভপাতের ঘটনা ঘটে, যা অবৈধভাবে বা দেশের বাইরে গিয়ে করা হয়।