‘‘গরিবের টাকায় ধনীর সেবা’ করার বাজেট’

২০২০-২১ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘গরিবের টাকায় ধনীর সেবা’ করার বাজেট হিসেবে উল্লেখ করে তা প্রত্যাখ্যান করে গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের নেতৃবৃন্দ বলেছেন, ‘সরকার ধনিকগোষ্ঠির সেবক এবং শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের দুশমন।’

শুক্রবার (১২ জুন)এক বিবৃতিতে গার্মেন্ট টিইউসির সভাপতি শ্রমিকনেতা মন্টু ঘোষ এবং সাধারণ সম্পাদক শ্রমিকনেতা জলি তালুকদার বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট শুধু শ্রমিকবিরোধীই নয় চলমান মহামারী পরিস্থিতিতে সরকার একটি চরমভাবে গণবিরোধী জাতীয় বাজেট প্রস্তাব করেছে।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, বাজেটে একদিকে আয়ের ক্ষেত্রে ধনীক গোষ্ঠিকে বিশেষ রেয়াত দিয়ে সাধারণ মানুষের ওপর পরোক্ষ করের বোঝা চাপানো হয়েছে। অন্যদিকে ব্যয়ের ক্ষেত্রে ‘মহামারীর শিক্ষা’, ‘স্বাস্থ্য খাতে জরুরী কর্তব্য’, ‘নিম্ন আয়ের মানুষের সামাজিক নিরাপত্তা’, ‘কর্মসংস্থান রক্ষা’সহ জনসাধারণের জীবন ও জীবিকার সাথে নিবিড়ভাবে জড়িত খাত সমূহকে উপেক্ষা করা হয়েছে।

তারা বলেন, শ্রমিকরা দীর্ঘদিন ধরে রেশনিং ও আবাসনের জন্য অর্থ বরাদ্দ করার দাবি জানিয়ে আসলেও সরকার এই বাজেট প্রস্তাবনায় তা সামান্যও কর্ণপাত করেনি। অতি নিম্ন মজুরি এবং চলমান মহামারীর ধাক্কা এই দুই সংকটে আজ যখন শ্রমিকের রেশনিং ও বাসস্থানের জন্য রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ অতি অত্যাবশ্যকীয়, তখন বাজেটে দেশের আশি ভাগ রপ্তানী আয় করা শ্রমিকদের বিষয়ে সরকারের চরম উদাসীনতা সরকারের শ্রেণী চরিত্রকেই উন্মোচিত করেছে।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট চরিত্রগতভাবে ধনিক তোষণের বাজেট। এই বাজেটে ধনিক শ্রেণির জন্য সরাসরি ব্যক্তি পর্যায়ে এবং কর্পোরেট কর রেয়াতের পুরস্কার থাকলেও শ্রমজীবী মেহনতি মানুষের জন্য ন্যূনতম সান্তনা টুকুও নেই।

তারা বলেন, শ্রমিকদের রেশনিং ও বাসস্থানের জন্য বরাদ্দের দাবি অনেক পুরাতন। এই দাবিতে অনেক বছর ধরে শ্রমিকরা আন্দোলন করে আসছে, এবারও সর্বত্র এই দাবির সমর্থনে আবেদন জানানো হয়েছিল। কিন্তু দেখা যাচ্ছে সরকারের কাছে শ্রমিক-কৃষক-ক্ষেতমজুর ও মেহনতি মানুষের জন্য কোনো স্থান নেই।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, ব্যাংক ডাকাত ও ঋণখেলাপীদের মাফ করে দিতে দেশের শ্রমিক মেহনতি মানুষের কষ্টার্জিত অর্থ ব্যয় হবে। আর শ্রমিকরা রেশনিং, চিকিৎসা ও বাসস্থানের জন্য বরাদ্দ চেয়ে হয়রান হবে, এই অবস্থা চলতে দেয়া যায় না।

তারা এই বাজেটেই শ্রমিকের রেশনিং ও বাসস্থানের জন্য বরাদ্দ অন্তর্ভূক্ত করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।

বিবৃতিতে সরকারের গণবিরোধী ও শ্রমিকবিরোধী পদক্ষেপ রুখে দিতে শ্রমিক-কৃষক-মেহনতি জনতার ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।