গণমানুষের শিল্পী ফকির আলমগীরের মৃত্যুতে সিপিবির শোক

গণমানুষের শিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠক, ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক নেতা ফকির আলমগীরের মৃত্যুতে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) এক বিবৃতিতে গভীর শোক জানিয়েছে।

সংগঠনের প্রেরিত এক বিবৃতিতে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সভাপতি কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক কমরেড মোহাম্মদ শাহ আলম শোক প্রকাশ করে বলেন, গণমানুষের শিল্পী ফকির আলমগীর এ দেশের গণসংগীত চর্চা ও বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। গণসংগীতের উজ্জীবনী শক্তিতে মানুষকে উজ্জীবিত করেছেন। ৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান, ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচার ও সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী আন্দোলনসহ বিভিন্ন আন্দোলনে ফকির আলমগীর শামিল হয়েছেন তাঁর গান নিয়ে। মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের তিনি ছিলেন শিল্পী ও সংগঠক। শুধু শিল্পী হিসেবে নয়, একজন সংগঠক হিসেবেও তিনি দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। ষাটের দশকে তিনি ছিলেন ছাত্র ইউনিয়নের নেতা। ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন তিনি। এছাড়া বাংলাদেশ গণসংগীত সমন্বয় পরিষদের সভাপতি, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সহ-সভাপতি হিসেবে এ দেশের সাংস্কৃতিক আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, প্রগতিশীল আন্দোলনের যোদ্ধা ফকির আলমগীর সিপিবির একজন শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে বিভিন্ন সময়ে সিপিবির পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর মৃত্যুতে প্রগতিশীল আন্দোলন একজন লড়াকু যোদ্ধাকে হারালো। দেশ হারালো একজন প্রতিভাবান শিল্পী ও সংগঠককে। তাঁর অবদান দেশবাসী শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

প্রসঙ্গত, প্রখ্যাত এই গণসঙ্গীত শিল্পী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গুলশানের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার (২৩ জুলাই) রাত ১০টা ৫৬ মিনিটে তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন।

দেশের কিংবদন্তি এই গণসংগীতশিল্পীর মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন ছেলে মাশুক আলমগীর রাজীব।

মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। তিনি স্ত্রী, তিন ছেলে ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

উল্লেখ্য, ফকির আলমগীর ১৯৫০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানার কালামৃধা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মো. হাচেন উদ্দিন ফকির, মা বেগম হাবিবুন্নেছা। ফকির আলমগীর কালামৃধা গোবিন্দ হাই স্কুল থেকে ১৯৬৬ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে জগন্নাথ কলেজে ভর্তি হন।

জগন্নাথ কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রী নিয়ে পরবর্তী পর্যায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় এমএ পাস করেন। ১৯৬৬ সালে ছাত্র ইউনিয়ন মেনন গ্রুপের সদস্য হিসেবে ছাত্র রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় ক্রান্তি শিল্পী গোষ্ঠী ও গণশিল্পী গোষ্ঠীর সদস্য হিসেবে ষাটের দশকে বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে সঙ্গীত বলয়ে প্রবেশ করেন। ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে এক বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে শিল্পী একজন শব্দ সৈনিক হিসেবে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে যোগ দেন। অবশ্য এর আগে ষাটের দশক থেকেই গণসংগীত গেয়ে আসছিলেন তিনি। ক্রান্তি শিল্পী গোষ্ঠী ও গণশিল্পী গোষ্ঠীর সদস্য হিসেবে ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে অসামান্য ভূমিকা রাখেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.