ক্ষমতা কেন্দ্রিক রাজনীতি খেসারত দিচ্ছে জাতি

মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম

‘রাষ্ট্রক্ষমতার’ বিষয়টি হলো রাজনীতির একটি অপরিহার্য উপাদান। তবে, ‘নীতি-আদর্শের’ বিষয়টি তারচেয়েও গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। কিন্তু ‘ক্ষমতা কেন্দ্রিক’ রাজনীতির ক্ষেত্রে এক নম্বরে উঠে আসে ‘রাষ্ট্রক্ষমতা’ এবং ‘নীতি-আদর্শ’ হয়ে পড়ে দুই নম্বরের বিবেচ্য বিষয়, ‘গদির’ লোভে যা হয়ে ওঠে পরিত্যাগযোগ্য।

মওলানা ভাসানী বলতেন, ‘নীল নদের পানি যেমন নীল নয়, জামায়াতে ইসলামও ইসলাম নয়’। তেমনি বলা যায় যে ‘একতরফা’ অথবা ‘নৈশকালীন’ নির্বাচনও নির্বাচন নয়। কারণ, সেটি হলো বিপক্ষ দলকে পরিকল্পিত কৌশলের মাধ্যমে খেলা থেকে বিরত রেখে ফাঁকতালে ‘ওয়াক ওভার’-এর মাধ্যমে বিজয়ী হওয়ার মতো একটি প্রতারণামূলক পাঁয়তারার ব্যাপার। একইভাবে একথাও বলা যায় যে ৯৯% মানুষের দারিদ্রের বিনিময়ে ১%-এর হাতে সম্পদের মজুদ বাড়ানোর প্রক্রিয়া মোটেও কোনো ‘উন্নয়ন’ নয়। তা উন্নয়নের নামে স্রফে ‘লুটপাটের’ আয়োজন মাত্র। গণতন্ত্রহীনতা, সাম্প্রদায়িকতা, লুটপাটতন্ত্র, সাম্রাজ্যবাদ- এসবই বর্তমানে হয়ে উঠেছে দেশ ও জনগণের জন্য বড় ধরনের বিপজ্জনক পরিণতির উৎস।

জামায়াতে ইসলামী দলটি শুরু থেকেই বাংলাদেশের অস্তিত্বের মূল ভিত্তিকে উপড়ে ফেলার নীলনকশা বাস্তবায়নে তৎপর রয়েছে। পাকিস্তানের সাম্প্রদায়িক দ্বি-জাতিতত্ত্বের যে ভিত্তিকে নাকচ করে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠা, সেই পরিত্যক্ত প্রতিক্রিয়াশীল ভিত্তিকে এদেশে আবার পুনঃস্থাপন করতে চায় দলটি। শুধু তাই নয়, সে চায় বাংলাদেশকে একটি ‘থিয়োক্র্যাটিক’ বা ধর্মীয় রাষ্ট্র বানাতে। পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করার মধ্যদিয়ে যে রাজনৈতিক পট পরিবর্তন সাধিত হয়েছিল, তা তাদেরকে সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের আয়োজন এগিয়ে নেয়ার অনুকূল ক্ষেত্র তৈরি করে দিয়েছিল। জিয়াউর রহমানের সামরিক সরকার তার অধীনে রাষ্ট্রক্ষমতা সংহত করার প্রয়োজনে এটি করেছিল। একদিকে আওয়ামী লীগের ক্ষমতা ‘পুনরুদ্ধারের’ চেষ্টা এবং অন্যদিকে এয়ার মার্শাল তোয়াবের ‘উগ্র-ইসলামবাদের’ দিক থেকে ‘গদি দখলের’ প্রতিযোগিতা মোকাবেলা করার জন্য জিয়া জামায়াতে ইসলামীকে কাজে লাগানোর পদক্ষেপ নিয়েছিল। এই সুযোগে জামায়াতে ইসলামী আন্তর্জাতিক শক্তির বিপুল আর্থিক ও অন্যান্য সব ধরনের সহায়তায় দক্ষতার সাথে তার শক্তি বাড়াতে পেরেছিল। জিয়াউর রহমানের নবগঠিত বিএনপির ‘বাংলাদেশি’ জাতীয়তাবাদের ইসলাম-ঘেঁষা মতাদর্শিক ভিত্তির বাতাবরণের সুযোগও জামায়াতে ইসলামী পরিপূর্ণভাবে কাজে লাগিয়েছিল।

এরশাদ-বিরোধী আন্দোলনের সময় জামায়াতে ইসলামী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পাশে স্থান করে নেয়ার কৌশল গ্রহণ করেছিল। তার এই কৌশলী অবস্থানের বিপজ্জনক পরিণতির আশংকা সম্পর্কে সিপিবিসহ কয়েকটি বামপন্থি দলের সতর্কবাণীকে দেশের প্রভাবশালী বুর্জোয়া দল বিএনপি ও আওয়ামী লীগ তখন আমলে নেয়নি। এই দল দু’টি জামায়াতে ইসলামীকে তাদের জোটে স্থান না দিলেও তখন থেকেই তার সাথে যোগসূত্র রেখে চলার পথ নিয়েছিল। এক্ষেত্রে তাদের দৃষ্টিভঙ্গী ও যুক্তি ছিল, ক্ষমতাসীন স্বৈরাচারকে একঘরে করে তাকে আঘাত করতে হবে এবং সেজন্য সব রকম শক্তি-অপশক্তি, তার নীতি-আদর্শ যতো খারাপই হোক না কেন, তাকে কাজে লাগাতে হবে। ‘এ’ টু ‘জেড’ ঐক্য (A to Z unity) করতে হবে। এটি ছিল, আদর্শগত বিবেচনাকে দূরে ঠেলে দিয়ে যেন-তেনভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার ‘আশু লক্ষ্যভিত্তিক’ নীতি-কৌশলের দৃষ্টিভঙ্গি প্রসূত ভাবনা। এরশাদ স্বৈরাচার সকলের সাধারণ শত্রু বটে, কিন্তু জামায়াতে ইসলামী এরশাদবিরোধী হলেও সে যে আরো বড় শত্রু, সেই প্রাজ্ঞ বিবেচনাকে তারা মূল্য দেয়নি। বুর্জোয়া দল দু’টির এরূপ ভ্রান্তির সুযোগ নিয়ে জামায়াতে ইসলামী এরশাদ-উত্তর রাজনৈতিক অঙ্গনে স্থান করে নিতে সক্ষম হইয়েছিল।

এরশাদ-উত্তর বাংলাদেশে ক্ষমতার প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রধান দুই প্লেয়ার হয়ে উঠেছিল বিএনপি ও আওয়ামী লীগ। জামায়াতে ইসলামী এবার এই দুই দলের বিরোধকে কাজে লাগিয়ে তার শক্তি বাড়িয়ে তোলার কৌশল গ্রহণ করেছিল। এই নব-পর্যায়েও বুর্জোয়া দলগুলো আদর্শগত অবস্থানের চেয়ে ক্ষমতার প্রশ্নে প্রতিযোগিতাকে প্রাধান্য দিয়েছিল। জামায়াতে ইসলামী প্রধান বিপদ ও শত্রু এবং তার বিরুদ্ধে সম্ভাব্য বৃহত্তম শক্তি সমাবেশ গড়ে তোলা যেখানে ছিল একটি প্রধান কর্তব্য, সেই জরুরি কাজটিকে অগ্রাহ্য করে তারা পরস্পরকে প্রধান শত্রু বিবেচনা করার পথ নিয়েছিল। সে অনুসারে তারা একে অপরের বিরুদ্ধ সব ধরনের শক্তিকে (জামায়াতে ইসলামীসহ) আপন বলয়ে নিয়ে আসার কৌশল অবলম্বন করেছিল। জামায়াতে ইসলামীকে পক্ষে রাখার জন্য দু’দলের মধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছিল।

এই অবস্থার সুযোগ নিয়ে জামায়াতে ইসলামী তার শক্তি ও অবস্থানকে নতুন স্তরে নিয়ে যাওয়ার জন্য কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী গোলাম আজমকে দলের আমির ঘোষণা করেছিল। সময়টা ছিল খালেদা জিয়ার প্রথম শাসনামল। জামায়াতে ইসলামীর এই ঔদ্ধত্যপূর্ণ পদক্ষেপের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিল দেশবাসী। জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে ব্যাপক গণ-আন্দোলন গড়ে ওঠেছিল, গঠিত হয়েছিল গণআদালত। আওয়ামী লীগ তখন বিরোধী দলে ছিল এবং সেই আন্দোলনে শরিক হয়েছিল। বিএনপি ছিল ক্ষমতায় এবং সে সেই আন্দোলনের বিরোধিতা করেছিল। সেসময় জাতীয় নির্বাচনের সময় এগিয়ে আসলে আওয়ামী লীগ ‘নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের’ দাবিতে তুমুল আন্দোলনে গড়ে তুলেছিল। ক্ষমতাসীন বিএনপিকে কোণঠাসা করার জন্য আওয়ামী লীগ তার মূল আদর্শগত শত্রু জামায়াতে ইসলামীর সাথে ‘কৌশলগত ঐক্য’ করেছিল। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সেই দাবি আদায়ও হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে ক্ষমতায় গিয়ে সেই আওয়ামী লীগই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান বাতিল করেছিল। আওয়ামী লীগের কাছে মূল বিবেচ্য বিষয় যে তার ‘নীতি-আদর্শ’ ছিল না, সবসময়ই তা যে ছিল ‘আদর্শ’ বিসর্জন দিয়ে হলেও ‘যেন-তেন উপায়ে গদিতে যাওয়া’ তা প্রকাশ হয়ে পড়েছিল। ‘নীতি-আদর্শের’ বিবেচনাকে প্রাধান্য না দিয়ে ‘ক্ষমতা-কেন্দ্রিক’ বিবেচনাকে প্রাধান্য দিয়ে রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণের এরূপ ভ্রান্তির পরিণতিতে জামায়াতে ইসলামী দু’দলের কাঁধে বন্দুক রেখে ফায়দা উঠিয়ে নিয়েছিল। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় যেতে পারলেও সর্বনাশ হয়েছিল দেশের।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর জামায়াতে ইসলামীকে পক্ষে আনার জন্য বিএনপি উতলা হয়ে উঠেছিল। তাকে নিয়ে ৪-দলীয় জোট গঠন করেছিল। আওয়ামী লীগের প্রশ্রয় পাওয়া জামায়াতে ইসলামী এবার পুরোপুরি বিএনপির আশ্রয়প্রাপ্ত হয়েছিল। ক্ষমতার খেলায় বিএনপির ‘পার্টনার’ হওয়ায় বিজয়ের ফসলের ভাগীদার হয়ে জামায়াতে ইসলামী মন্ত্রীসভাতে স্থান করে নিয়েছিল। এর মাধ্যমে সে রাষ্ট্রীয় প্রশাসনযন্ত্রে ব্যাপক অনুপ্রবেশের সুযোগ পেয়েছিল। দেশে সে নতুন নতুন সাম্প্রদায়িক জঙ্গি প্লাটফর্ম গড়ে তুলতে স্বক্ষম হয়েছিল। তালেবান ও আল-কায়েদা কানেকশনের শক্তিকে সমন্বিত করার কাজেও সে হাত দিয়েছিল। এভাবে সে তার শক্তিকে এক বিপজ্জনক মাত্রায় নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিল।

২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফিরে আসার জন্য যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে যুব সমাজের ব্যাপক সমর্থন অর্জনে স্বক্ষম হয়েছিল। এই প্রতিশ্রুতি দিতে এবার আওয়ামী লীগ দ্বিধান্বিত ছিল না। কারণ ‘ক্ষমতা-কেন্দ্রিক মেরুকরণে’ জামায়াতে ইসলামী ৪-দলের মাধ্যমে বিএনপির সাথে এ পর্যায়ে গাঁটছড়া বাঁধা ছিল। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রশ্নে ক্ষমতার ইস্যু ও আদর্শিক ইস্যু এক্ষেত্রে এক জায়গায় চলে আসায় আওয়ামী লীগের পক্ষে সে বিষয়ে পদক্ষেপ সূচনা করা সম্ভব হয়েছিল।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রক্রিয়া শুরু হওয়া, একের পর এক মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষিত ও কার্যকর হতে থাকা- ইত্যাদি আঘাত মোকাবেলার জন্য জামাতীসহ উগ্র ও প্রতিক্রিয়াশীল সাম্প্রদায়িক শক্তি পাল্টা অভিযান চালানোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল। হেফাজতের প্লাটফর্মকে সামনে এনে সেটিকে সে কাজে লাগানোর পথ নিয়েছিল। বিএনপি তাকে আশ্রয় করে সরকার বিরোধী ‘শক্তি সমাবেশ’ গড়ার জন্য উঠেপড়ে লেগেছিল। কিন্তু আওয়ামী সরকার ক্ষমতা-কেন্দ্রিক বিবেচনা থেকে সেরূপ ‘শক্তি সমাবেশ’ গড়ার প্রয়াসকে অসম্ভব করার জন্য নিজেই নীতি আদর্শ বিসর্জন দিয়ে হেফাজতকে হাত করতে সক্ষম হয়েছিল।

এরকম একটি প্রেক্ষাপটেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রশ্নে সৃষ্টি করা হয়েছিল গুরুতর অনিশ্চয়তা। কোন ধরনের সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে সে বিষয়ে ’৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তনের মধ্যদিয়ে বিতর্কের মীমাংসা হয়ে থাকলেও, তা নিয়ে নতুন করে মতবিরোধ সৃষ্টি করে এক বিপজ্জনক অচলাবস্থার জন্ম দেয়া হয়েছিল। আওয়ামী লীগ সরকার একতরফাভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান বাতিল করার মাধ্যমে বুঝে-শুনেই এই ‘অচলাবস্থা ও সংকট’ সৃষ্টি করেছিল। এভাবে ‘নির্বাচন বয়কটের’ ফাঁদ তৈরি করে তারা একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে ‘ফাঁকা মাঠে গোল দেয়া’র সুযোগ তৈরি করে নিয়েছিল।

ছল-চাতুরীর মাধ্যমে ক্ষমতায় যেতে স্বক্ষম হলেও দ্বিতীয় মেয়াদের আওয়ামী লীগ সরকারের দুঃশাসনের কারণে তার জনসমর্থনে ধ্বস নামা অব্যাহত ছিল। এ অবস্থায় ৪ বছর পর আবার জাতীয় নির্বাচন এলে তাকে আবার যেন-তেন উপায়ে গদি আঁকড়ে থাকার পথ নিতে হয়েছিল। এবার নেয়া হয়েছিল নতুন পন্থা। এবার অবৈধভাবে রাষ্ট্রীয় প্রশাসনকে ব্যবহার করে নির্বাচনের জন্য নির্ধারিত দিনের আগের রাতেই ‘ভোটের তামাশা’ মঞ্চায়িত করা হয়েছিল।

‘ক্ষমতা-কেন্দ্রিক’ বিবেচনা থেকে অনুসরণ করা কূট-কৌশল দেশের সাংবিধানিক-গণতান্ত্রিক শাসনকে সংহত করার বদলে তাকে ধ্বংস করতে উদ্যত হয়েছে। জনগণকে অধিকারহীন করে তুলেছে। গণতন্ত্রকে খর্ব করেছে। যা কিনা সাম্প্রদায়িক বিপদ মোকাবেলার প্রধান অস্ত্র ও অবলম্বন। ইহলৌকিক জীবনের সমস্যা নিরসনের গণতান্ত্রিক পথের নিশানা জনগণ যে দেখতে পারছে না, সেই শুন্যতার সুযোগ সাম্প্রদায়িক শক্তি নিয়ে চলেছে। অসৎ পন্থায় কখনো কোনো সৎ উদ্দেশ্য যে শেষ পর্যন্ত হাসিল করা যায় না সেটি ইতিহাসের শিক্ষা। সাম্প্রদায়িকতার বিপদ মোকাবেলা করতে হলে গণতন্ত্রের স্বচ্ছ পথ (এক্ষেত্রে সকলের অংশগ্রহণে নির্বাচন অনুষ্ঠান) পরিত্যাগ করা যে চরম আত্মঘাতি পদক্ষেপ, ‘গদি রক্ষার’ আশু স্বার্থে ক্ষমতাসীনরা তা ভুলে বসে আছে। অথচ, অসৎ পন্থায় কখনো কোনো সৎ উদ্দেশ্য যে শেষ পর্যন্ত হাসিল করা যায় না, সেটিই ইতিহাসের শিক্ষা।

এদিকে, শাসককূল রাষ্ট্রক্ষমতাকে লুটপাটের সহজ পথ ও পন্থায় পরিণত করেছে। তারা ‘তাদের’ রাজনীতিকে ‘ব্যবসাতে’ পরিণত করেছে। দেশের দুটো বুর্জোয়া ‘বড় দল’ ‘রাষ্ট্রক্ষমতাকে’ লুটপাটের সহজ পথ বানিয়ে ফেলেছে। সেখানে লুটেরাদের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ কায়েম করেছে। লুটপাটের স্বার্থে পরিচালিত তাদের এহেন ‘রাজনীতিতে’ নীতি-নৈতিকতা-আদর্শের কোনো মূল্য নেই। ‘লুটপাটকে’ তাদের কর্মকাণ্ডের মূল উদ্দেশ্যে পরিণত করেছে।

‘মতাদর্শ-কেন্দ্রিক’ বিবেচনাকে প্রাধান্য না দিয়ে নিছক ‘ক্ষমতা-কেন্দ্রিক’ এই রুগ্ন রাজনীতির খেসারত দিতে হচ্ছে জাতি ও জনগণকে। দেশের ওপর নতুন করে চেপে বসছে ‘পাকিস্তানের ভূত’। চেপে বসেছে ভোটাধিকার-বর্জিত, জবরদস্তিমূলক, গণতন্ত্রহীন, ফ্যাসিস্ট ধারার শাসন-শোষণ ব্যবস্থা। ৯৯% দেশবাসির জীবনে চেপে বসেছে শোষণ-বঞ্চনা- বৈষম্যের নিষ্ঠুর ও অমানবিক এক ‘অস্তিত্ব’। এরকম অবস্থা চলতে দেয়া যায়না। এই অবস্থা বদলে দিতে হবে। ‘জাতীয়তাবাদ-সমাজতন্ত্র-গণতন্ত্র-ধর্মনিরপেক্ষতার’ নীতির ভিত্তিতে দেশ পরিচালনার জন্য গড়ে তুলতে হবে উত্তাল গণজাগরণ, রচনা করতে হবে সর্বাত্মক গণঅভ্যূত্থান। সেজন্য দেশে বামপন্থি-প্রগতিশীল-প্রকৃত গণতান্ত্রিক, সৎ ও দেশপ্রেমিকদের ঐক্যবদ্ধ ‘বিকল্প শক্তি-সমাবেশের’ উত্থান ঘটাতে হবে। রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ‘আদর্শিক’ বিবেচনাকে অগ্রাধিকার না দিয়ে নিছক ‘ক্ষমতা-কেন্দ্রিক’ বিবেচনা দ্বারা পরিচালিত হওয়ার মতো ক্ষমার অযোগ্য ভুল আর করতে দেয়া যাবে না।

লেখক: সভাপতি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)।