ক্ষমতার দাপটে লংমার্চে হামলা, নারীপক্ষ হতাশ ও ক্ষুব্ধ

সরকার একদিকে মৃত্যুদন্ডকে ধর্ষণ দমনের উপায় করে জনপ্রিয়তা অর্জনের চেষ্টা করছে, অন্যদিকে সরকারের পোষ্য বাহিনী ধর্ষণের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের ওপরে হামলা করে বাকরুদ্ধ করে দেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে নারীপক্ষ এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি প্রদান করেছে।

সেইসাথে এই হামলাকারী ও তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দানকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে নারীপক্ষ।

বিবৃতিতে নারীপক্ষ নেতৃবৃন্দ বলেন, “বিভিন্ন সংবাদসূত্রে প্রকাশ, দেশব্যাপী অব্যাহতভাবে ঘটে যাওয়া ধর্ষণ ও যৌননির্যাতন এবং বিচারহীনতার প্রতিবাদে নানা কর্মসূচির মধ্যে ১৬-১৭ অক্টোবর ২০২০ ‘ধর্ষণ ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ’ এর লংমার্চটি নোয়াখালিতে সমাবেশ শেষে পথে কুমিল্লায় বাসে ওঠার সময় পুলিশের উপস্থিতিতে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীরা তাদের উপর লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়; নারীদেরকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এই হামলায় লংমার্চকারীদের অন্ততঃ ১৫ জন আহত হন। কয়েকজন মারাত্মকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।”

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, “ধর্ষণ ও যৌননির্যাতনের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী আন্দোলনকারীরা যেখানে প্রতিবাদমুখর সেখানে পুলিশের ছত্রছায়ায় এই ধরনের হামলা পক্ষান্তরে অপরাধীর পক্ষে রাষ্ট্রের অবস্থানের নামান্তর। নারীপক্ষ ভীষণভাবে উদ্বিগ্ন এবং হতাশ। আমাদের স্বপ্নের বাংলাদেশটা কি ধর্ষকের দেশে পরিণত হলো? আমরা কি এই বাংলাদেশ দেখার জন্য মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম?”

নারীপক্ষ’র দাবি, “মৃত্যুদন্ড নয় বরং ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনসহ নারীর বিরুদ্ধে সংঘটিত সকল অপরাধ দমনে চুলচেরা বিশ্লেষণ এবং বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে আইন সংশোধন করে যুগোপযোগী করুন ও এর কার্যকর বাস্তবায়নের ব্যবস্থা নিতে হবে। নারীসহ দেশের প্রতিটি নাগরিকের জীবনের নিরাপত্তা বিধান করতে হবে। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।”