ক্যাসিনো জুয়াড়ি ও তাদের মদতদাতাদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি

ক্যাসিনো জুয়াড়ি ও তাদের মদতদাতাদের গ্রেপ্তার, বিচার এবং সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার দাবিতে বিক্ষোভ-সমাবেশ করেছে বাম গণতান্ত্রিক।

বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৪ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

বাম গণগান্ত্রিক জোট কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের সদস্য, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সম্পাদক আবদুস সাত্তারের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিপিবির সাধারণ সম্পাদক কমরেড শাহ আলম, বাসদের বজলুর রশীদ ফিরোজ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির আকবর খান, গণসংহতি আন্দোলনের জুলহাস নাইন বাবু, বাসদ (মার্কসবাদী)র জহিরুল ইসলাম, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির মমিনুল ইসলাম, সমাজতান্তিক আন্দোলনের হামিদুল হক।

সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশব্যাপী যুবলীগ, ছাত্র লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতৃবৃন্দ ক্যাসিনোর মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা জনগণের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে। এই টাকা থেকে আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ, পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা মোটা অংকের ভাগ পেয়েছে। ইতিমধ্যে গ্রেপ্তারকৃত যুবলীগ নেতৃবৃন্দের তথ্যানুসারে ক্যাসিনোসহ অবৈধভাবে আয়ের সিংহভাগ টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিশেষ করে র‌্যাব ক্যাসিনো বাণিজ্যের সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের বাসা-বাড়ী, অফিসসহ অন্যান্য আস্তানা থেকে কোটি কোটি টাকা, স্বর্ণ, অস্ত্র, মাদক উদ্ধার করেছে। এ অভিযান অব্যাহত থাকলে আওয়ামী লীগের রাঘব বোয়ালদের প্রকৃত চেহারা উন্মোচিত হবে।

নেতৃবৃন্দ ক্যাসিনো বাণিজ্যসহ অবৈধ বাণিজ্যের সাথে যুক্ত অপরাধীদের গ্রেপ্তার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের দাবি করেছেন। যুব লীগের ঢাকা দক্ষিণ জেলার সভাপতি ক্যাসিনো দুর্বৃত্তদের মূল হোতা সম্রাটকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের দাবি জানান।

চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্পে পুনরায় বালিশ, বালিশের কাভার ক্রয়ের ২৭ হাজার ও ২৮ হাজার টাকাসহ অন্যান্য সরঞ্জাম ক্রয়ের সীমাহীন ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ভাবে সরকারের সকল মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তরে সরকারি টাকা হরিলুটের চিত্র বেরিয়ে আসছে। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে পিঁয়াজের দাম দ্বিগুণ বাড়িয়ে প্রশাসনের নাকের ডগায় জনগণের পকেট কেটে যাচ্ছে, অথচ সরকারের নজরদারীর অভাবে জনগণের পকেট কাটা হচ্ছে। ক্যাসিনো, টেন্ডারবাজি, দখলবাজি, চাঁদাবাজিসহ যোগাযোগ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অন্যান্য সেক্টররে যে অবিশ্বাস্য দুর্নীতি চলছে তার বিষয়ে সরকারের বর্তমান পরিচালিত অভিযান জনগণকে ধোকা দেয়ার শামিল বলে নেতৃবৃন্দ মনে করেন।
এর পাশাপাশি সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অপরাধের দায়মুক্তির বিষয়টি দেশের সংবিধানের সাথে এক দিকে সাংঘর্ষিক ও অন্যদিকে কর্মকর্তাদের দুর্নীতি ও অন্যান্য অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। এই কালাকানুন বাতিলের দাবি জানানো হয়।

নেতৃবৃন্দ জোরের সাথে বলেন যে ২০১৪ সালের একতরফা সংসদ নির্বাচন ও পরবর্তীতে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের ভোট ডাকাতির নির্বাচরে মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ তথা মহাজোট ক্ষমতাসীন হয়ে দেশে এক ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম করেছে। যার ফলশ্রুতিতে ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরা বেপরোয়া হয়ে জনগণের সম্পদ যথেচ্ছভাবে লুটপাট করছে। এর বিরুদ্ধে শ্রমিক, কৃষক, দিনমজুরসহ সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে প্রচন্ড ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বাম গণতান্ত্রিক জোট এই মুহূর্তে ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন অপসারণের জন্য দুর্বার গণআন্দোলনের আহ্বান জানাচ্ছে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, প্রায় দুই বছর ধরে বরিশালে ব্যাটারি চালিত রিকসার লাইসেন্স না দিয়ে নানাভাবে মালিক ও শ্রমিকদের অত্যাচার, গ্রেপ্তার ও গাড়ী ভাংচুর করছে। তার প্রতিবাদে গতকাল থেকে বাসদের জেলা সদস্য সচিব ডা. মনিষা চক্রবর্ত্তীর নেতৃত্বে গতকাল থেকে আমরণ অনশন করছে শ্রমিকেরা। বাসদের নেতৃত্বে পরিচালিত এ আন্দোলনের সাথে বাম গণতান্ত্রিক জোট একাত্মতা প্রকাশ করছে। অতি দ্রুত ব্যাটারি চালিত গাড়ীর লাইন্সে প্রদান, আটককৃত ব্যাটারি ফেরৎ, ভাংচুরে ক্ষতিগ্রস্ত রিক্সা চালকদের ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানানো হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.