কুমিল্লায় সাংবাদিক মহিউদ্দিন হত্যার বিচার ও ক্ষতিপূরণ দাবি

মাদক সন্ত্রাসীদের হত্যাকাণ্ডের শিকার সাংবাদিক মহিউদ্দিন সরকার নাঈমের হত্যাকারীদের বিচার, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবিতে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার শংকুচাইল বাজারে এক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল (১৯ এপ্রিল), মঙ্গলবার, সকাল ১১ টায় কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার শংকুচাইল বাজারে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া শাখার উদ্যোগে এ প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সিপিবি নেতা কমরেড জয়নাল আবেদীন খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিপিবি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন, কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সংগঠক কমরেড পরেশ কর, কমরডে বিকাশ দেব, জাসদ বুড়িচং উপজেলা সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ফরিদ আহমেদ, ক্ষেতমজুরনেতা কমরেড আব্দুর রব, নিহত সাংবাদিক মহিউদ্দিন নাঈমের নানা বাবুল হোসনে ছাত্রনেতা জহর লাল রায়, জুয়েল মিয়া। সভা পরিচালনা করেন সিপিবি বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া শাখা সম্পাদক কমরেড গণেশ ভট্টাচার্য।

সমাবেশ শেষে শংকুচাইল বাজার থেকে হত্যাকান্ডস্থল পাঁচোড়া হায়দারাবাদনগর পর্যন্ত একটি প্রতিবাদী মৌন মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে সিপিবিনেতা ও ২০১৮ সালে সিপিবির এমপি পদপ্রার্থী কমরেড আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন গত ১৩ এপ্রিল মাদকসন্ত্রাসীগোষ্ঠী কর্তৃক সাংবাদিক মহিউদ্দিন সরকার নাঈমের হত্যাকান্ডের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে বলেন, কুমিল্লার বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়ার সীমান্ত এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় মাদক চোরাচালানীর লীলাভূমি হয়ে ওঠেছে। সীমান্তের ওপার থেকে হিরোইন, ফেন্সিডিলসহ নানা জাতীয় মাদক বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পাচার করা হয়। রাজনৈতিক প্রভাবপুষ্ট গডফাদারদের প্রত্যক্ষ প্রশ্রয়ে মাদক চোরাচালানীর কাজ পরিচালিত হয়। চোরাচালানীর মাধ্যমে আমদানীকৃত মাদক ব্যবসার মুল লক্ষ্য হচ্ছে দেশের তরুণ সমাজ। অর্থের লোভ দেখিয়ে তরুণদের মাদক চোরাচালানীর ’ক্যারিয়ার’ বানানো হচ্ছে। মাদক ব্যবহার করে তরুণদের এবং দেশ ও জাতির ভবিষ্যত ধ্বংস করা হচ্ছে। মাদক ব্যবসা ও ব্যবহারের বিরুদ্ধে যারা প্রতিবাদ, প্রতিরোধ করার চেষ্টা করেছে ও করছে তাদেরকে হত্যাসহ নানারকম নির্যাতন নিপীড়নের শিকার হতে হয়। সাংবাদিক মহিউদ্দিন নাঈমের হত্যাকাণ্ড সে ধরনের অসংখ্য ঘটনার একটি মাত্র।

কমরেড ক্বাফী রতন অবিলম্বে সাংবাদিক মহিউদ্দিন নাঈম হত্যাকান্ডে প্রকাশ্য, অপ্রকাশ্যভাবে যুক্ত সকল হত্যাকারীকে গ্রেফতার ও বিচারের সম্মুখীন করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, আসামীকে ক্রস ফায়ারে হত্যা করা মানে হত্যাকাণ্ডের ক্ষতিগ্রস্তদের উপযুক্ত বিচার থেকে বঞ্চিত করার নামান্তর মাত্র। তিনি আরো বলেন, আইন-আদালতের উপর আমাদের আস্থা ও ভরসা রয়েছে। আইনকে তার নিজের গতিতে চলতে দেয়া উচিত। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষী ও মাদক ব্যবসার গড ফাদারদের খুঁজে বের করার দাবি জানান।

তিনি চিরুনী অভিযান চলিয়ে ভারতের ত্রিপুরা সংলগ্ন এলাকাকে মাদক চোরাচালানমুক্ত করার সরকার, প্রশাসন, আইন শৃংখলা ও সীমান্ত রক্ষা বাহিনীসমূহের প্রতি আহ্বান জানান। একইসাথে তিনি অবিলম্বে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেয়ার দাবি জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published.