কার স্বার্থে বাজেট-২ , কার গোয়ালে কে দেয় ধোঁয়া

মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম : সাধারণভাবে একটি দেশের রাষ্ট্রীয় বাজেট হয়ে থাকে সেদেশের জিডিপি-র একক বৃহত্তম অংশ। বাজেটের মাধ্যমে বর্তমানে আমাদের দেশের মোট বাৎসরিক আয়ের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সরকারের হাতে জমা করা হয়। এ বছর তা হলো জিডিপি-র ১৮.১ শতাংশ। এটিকেই ‘বড় বাজেট’ বলা হচ্ছে। আমি অবশ্য মনে করি যে বাজেটের পরিমাণ আরো বেশি, তথা জিডিপির এক-চতুর্থাংশের বেশি হওয়া উচিত। তা যাই হোক, বাজেটের মাধ্যমে আদায় করা এই অর্থ কার কাছ থেকে উঠিয়ে এনে কার জন্য তা খরচ করা হলো, সেটিই হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা। কারণ, তার ওপর নির্ভর করে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি ও অংশের মধ্যে পুরানো সম্পদ-বিন্যাস পরিবর্তন হবে কি হবে না। সে অর্থ যদি গরিবের কাছ থেকে তুলনামূলকভাবে বেশি উঠিয়ে এনে ধনীদের জন্য তুলনামূলকভাবে বেশি ব্যয় করা হয় তাহলে ‘গরিব আরো গরিব হবে, আর ধনী আরো ধনী হবে’। সমাজে আয়-বৈষম্য বাড়বে। আবার যদি উল্টোটি ঘটে, অর্থাৎ ধনীদের থেকে বেশি উঠিয়ে এনে গরিবদের জন্য তুলনামূলকভাবে বেশি ব্যয় করা হয়, তাহলে ‘গরিবের আপেক্ষিক দারিদ্র কমবে’ এবং তাদের অনুকূলে সম্পদের পুনর্বিন্যাস ঘটবে। সেকারণে বলা যায় যে, জনগণের বিভিন্ন অংশ ও শ্রেণির মধ্যে দেশের সম্পদের বণ্টন-বিন্যাস নির্ধারণের ক্ষেত্রে বাজেটের ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সামাজিক ন্যায়বিচারের মাত্রা বাড়ানো বা কমানোর একটা গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো বাজেটের আয়-ব্যয়ের উৎস ও চরিত্রের এই হিসাবটি। একইভাবে বাজেটের আয়-ব্যয়ের উৎস ও চরিত্রের ওপর গ্রাম ও শহরের মধ্যে আয়ের পুনর্বিন্যাসও বহুলাংশে নির্ভর করে। তবে একথাও ঠিক যে, শুধু বাজেট দ্বারাই আয় ও সম্পদের বণ্টন-বিন্যাস নির্ধারিত হয় না। বাজার-ব্যবস্থার ইচ্ছানিরপেক্ষ নিজস্ব ডাইনামিক্স, আন্তর্জাতিক প্রভাব, প্রযুক্তির প্রয়োগ নীতি, উৎপাদনশীলতার বিকাশের গতি, শিক্ষার বিস্তার ইত্যাদি নানা উপাদান দ্বারাও সমাজে সম্পদের বণ্টন-বিন্যাস নির্ধারিত হয়। এ বছরের বাজেটে রাজস্ব আয় কোথা থেকে এবং কার কাছ থেকে সংগ্রহ করার প্রস্তাব করা হয়েছে, এবার তাহলে সেদিকে প্রথমে নজর দেয়া যাক। তবে তার আগে গোড়াতেই দেশের দৃশ্যমান তথা ‘প্রদর্শিত’ অর্থনীতির বাইরে যে অদৃশ্য তথা ‘অপ্রদর্শিত’ অদৃশ্য কালো অর্থনীতি রয়েছে সে প্রসঙ্গে কিছু কথা বলে নেয়া প্রয়োজন। বর্তমানে দেশে যে দৃশ্যমান অর্থনীতি রয়েছে, তার বাইরে রয়েছে একটি বিশাল সমান্তরাল ‘হিসাব বহির্ভূত’ কালো অর্থনীতি। বিশেষজ্ঞদের মতে তার পরিমাণ জিডিপি-র প্রায় ৮০ শতাংশ। অর্থাৎ ২০ লক্ষ কোটি টাকার মতো। পরিমাণের দিক থেকে তা বাজেটের চেয়ে প্রায় ৩/৪ গুণ বেশি। এর সবটাই রয়েছে ব্যক্তিগত মালিকানায় মুষ্টিমেয় লুটেরা ধনীকদের হাতে। এই সমগ্র পরিমাণ টাকা ‘অপ্রদর্শিত আয়’ রূপে থাকায় তা সব ধরনের করের আওতার বাইরে থেকে যাচ্ছে। উল্লেখ্য, যে এর একটি প্রধান অংশ বিদেশে পাচার হয়ে গেছে ও যাচ্ছে। এদিকে, ‘প্রদর্শিত আয়ের’ ক্ষেত্রেও তার একটি বিশাল অংশ বিরাজ করছে ব্যাংকের ‘খেলাপি ঋণ’ হিসেবে। ব্যাংক থেকে হাজার-হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে তা ফেরৎ না দেয়ার এই ‘ডাকাতির কারবার’ ক্রমাগত স্ফীত ও প্রসারিত হচ্ছে। এবারের বাজেটে এসব ‘খেলাপি ঋণগ্রহীতাদেরকে’ তাদের অপরিশোধিত ঋণের ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট করে ১০ বছরের মধ্যে ৯ শতাংশ হারে সুদসহ তা পরিশোধের সুযোগ ও সুবিধা দেয়া হয়েছে। যারা খেলাপি না হয়ে সঠিকভাবে ঋণ পরিশোধ করে চলেছেন তাদের ক্ষেত্রে করের হার ডবল ডিজিট, অর্থাৎ ১২/১৩ শতাংশ অথবা আরও বেশি হয়ে আছে। এভাবে, ঋণ খেলাপি অথবা কালো টাকার মালিকদেরকে এধরনের বিশেষ ‘অনুগ্রহ’ ‘সুবিধা’ দেয়ার মাধ্যমে, বৈধ ঋণ গ্রহীতাদের জন্য কার্যত: এক ধরনের ‘শাস্তি বিধানের’ ব্যবস্থা করা হয়েছে। সময়মতো ঋণ পরিশোধ করার চেয়ে ঋণ খেলাপি হওয়াটাকেই এভাবে ‘লাভজনক’ করা হয়েছে। বলার অপেক্ষা রাখে না যে এর ফলে অর্থনীতিতে ‘খেলাপি সংস্কৃতি’ ও অর্থনীতিতে ‘কালো টাকা’ বানানোর প্রবণতাই বৃদ্ধি পাবে। এভাবে, জিডিপি-র তিন-চতুর্থাংশ পরিমাণ টাকাকে করের আওতার বাইরে ফেলে রেখে তার মালিকদেরকে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে অর্থ জমা দেয়ার বাধ্যবাধকতা থেকে ষোল আনা পরিমাণে রেহাই দেয়া হয়েছে। এ ধরনের নীতি বহু বছর ধরে অনুসরণ করা হচ্ছে। ফলে কালো টাকার লুটেরা মালিকরা অন্যায় পথে দেদারসে টাকা বানাচ্ছে, সেই আয় থেকে ১০০% কর রেয়াত পাচ্ছে, আবার জনগণের করের টাকা থেকে ষোল আনা সুবিধাও তারা নিচ্ছে। এই হলো ‘কালো টাকার’ মালিকদের জন্য ‘জামাই আদরের’ ব্যবস্থা। ফলে, এই একটি কারণেই, দেশের আয়-বিন্যাসের ক্ষেত্রে বৈষম্য আরো বৃদ্ধি পেয়ে ‘তেলা মাথায় তেল দেয়ার’ প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে। বামপন্থিদের প্রস্তাব মতো সব কালো টাকা বাজেয়াপ্ত করা হলে শুধু তা দিয়েই আড়াই বছরের বাজেটের টাকার সংস্থান হয়ে যেতো। এ ধরনের ‘র্যাডিকেল’ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে গরিবের পক্ষে আয়-বিন্যাস উন্নত করে বৈষম্যের মাত্রা নাটকীয়ভাবে কমিয়ে আনার পথ তৈরি করা যেতো। অর্থনীতির দৃশ্যমান অংশের প্রতি এবার দৃষ্টি দেয়া যাক্। একথা সকলেরই জানা আছে যে, সমাজের সাধারণ স্বার্থে কাজ করার জন্য অর্থের সংস্থান করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। রাষ্ট্রের পক্ষে সে দায়িত্ব পালন করে সরকার। সেক্ষেত্রে যদি সরকারের নিজস্ব মালিকানায় কল-কারখানা, খামার, ব্যবসা-বাণিজ্য ইত্যাদি যথেষ্ট পরিমাণে থাকতো এবং সেগুলো যদি দুর্নীতিমুক্তভাবে ও দক্ষতার সাথে পরিচালনা করা হতো, তাহলে সেটি হতে পারতো সরকারের জন্য আয়ের একটি বড় উৎস। ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের পর অর্থনীতিতে সে ধরনের রাষ্ট্রীয় মালিকানা ও বিনিয়োগ ছিল। অবশ্য ব্যাপক দুর্নীতির কারণে সেসব রাষ্ট্রায়াত্ত প্রতিষ্ঠান থেকে যতটুকু আয়ের সম্ভাবনা ছিল তার সবটা অর্জন করা সম্ভব হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে লোকসানও হয়েছে। দুর্নীতি, অদক্ষতা ও নানা ত্রুটি-বিচ্যুতি দূর করতে পারলে সেই অবস্থা বদলানো যেত। কিন্তু রাষ্ট্রায়াত্ত খাতকে প্রায় সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করার মাধ্যমে ‘মাথা ব্যথার কারণে মাথা কেটে ফেলার’ মতো ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল। রাষ্ট্রীয় খাতকে প্রায় সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিহ্ন করে ফেলা হয়েছিল। বিরাষ্ট্রীয়করণ, বিনিয়ন্ত্রণ, ব্যক্তিগতকরণ ইত্যাদি পদক্ষেপের মাধ্যমে তথাকথিত ‘নয়া-উদারবাদী বাজার অর্থনীতির’ পথ গ্রহণ করা হয়েছিল। গত সাড়ে চার দশক ধরে দেশ সেই ‘নয়া-উদারবাদী বাজার অর্থনীতির’ পথ ধরেই চলছে। ফলে বর্তমানে বাজেটে আয়ের উৎস হিসেবে কর বহির্ভূত রাষ্ট্রের নিজস্ব সরাসরি আয়ের পরিমাণ খুবই সামান্য। সরকারের অর্থের সংস্থান করতে হয় মূলত কর, শুল্ক ইত্যাদির মাধ্যমে। শাসক-শ্রেণি ‘গরিবকে আরো গরিব, ধনীকে আরো ধনী করার’ একটি প্রধান উপায় এক্ষেত্রে প্রয়োগ করে থাকে। সেটি কী? একজন নাগরিকের কী হারে ও কতটুকু কর দেয়া উচিত, তা নিয়ে নানা তত্ত্ব আছে। তার মধ্যে একটি হলো ‘দেওয়ার ক্ষমতা তত্ত্ব’। এই তত্ত্ব অনুযায়ী রাষ্ট্রের একটি অন্যতম কাজ হলো সর্বসাধারণের জন্য সাধারণ সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করা। এজন্য সব নাগরিকদেরই নিজস্ব সামর্থ্য অনুসারে রাষ্ট্রীয় তহবিলে অর্থ প্রদান করা উচিত। যার সামর্থ্য বেশি সে বেশি দিবে, যার কম সে কম দিবে। এই কম-বেশিটা শুধু মোট পরিমাণের ক্ষেত্রেই নয়, অনুপাতিক হারের ক্ষেত্রেও হওয়া বাঞ্ছনীয়। অর্থাৎ কম সামর্থ্যরে মানুষকে যদি তার আয়ের ১০% কর দিতে হয়, তাহলে বেশি সামর্থ্যরে মানুষকে তা দিতে হবে আরো বেশি অনুপাতে, হয়তো স্তর ভেদে ২০%, ৩০%, ৪০%, ৫০% হারে। ন্যায়বিচার সেটিই দাবি করে। এসবই হলো এই তত্ত্বের মূল যুক্তি-ধারা। এই নীতি প্রয়োগ করতে হলে বাজেটকে প্রধানতঃ আয়কর, সম্পত্তি কর প্রভৃতি ‘প্রত্যক্ষ করের’ ওপর নির্ভর করতে হবে। কারণ ভ্যাট, বিক্রয় কর, আমদানি শুল্ক ইত্যাদি ‘পরোক্ষ করের’ ক্ষেত্রে এই নীতি প্রয়োগ করা সম্ভব নয়। কেননা এক্ষেত্রে যার কাছ থেকে পরোক্ষ কর আদায় করা হয়, তিনি তার প্রদত্ত করের সবটাই পণ্যের দাম বাড়িয়ে ভোক্তার কাছ থেকে আদায় করে নেন। অর্থাৎ সামর্থ্য বেশি হোক বা কম হোক সব পরোক্ষ করই শেষ পর্যন্ত ধনী-গরিব নির্বিশেষে সব ভোক্তার কাছ থেকে সমান অনুপাতে ও পরিমাণে আদায় করা হয়। অন্যান্যবারের মতোই এবারের বাজেটেও পরোক্ষ কর প্রত্যক্ষ করের চেয়ে অনুপাতিকভাবে অনেক বেশি। প্রত্যক্ষ করের তুলনায় পরোক্ষ করের অনুপাত সচরাচর ৭০ এর নিচে রাখা হয়ে থাকে। কিন্তু এবার সেই অনুপাতকে কমিয়ে আনা তো দূরের কথা, তাকে আরো প্রতিকূল (২৯:৭১) করা হয়েছে। করের হার সম্পর্কে আরেকটি তত্ত্ব হলো ‘সুবিধা প্রাপ্তির অনুপাতে কর’-এর নীতি। এই তত্ত্বের মর্মকথা হলো– রাষ্ট্রের কাছ থেকে যে যতটুকু সাধারণ সুবিধা ভোগ করবে, সেই অনুপাতে তাকে করভার বহন করতে হবে। সুবিধা ভোগের হিসেব করাটি অবশ্য বেশ জটিল। তথাপি এক্ষেত্রে কতগুলো বিষয় নির্দিষ্ট করা সম্ভব। যেমন ধরা যাক, একটি পুঁজিবাদী সমাজে রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো ব্যক্তিগত সম্পত্তি পাহারা দেয়া। একজন ফুটপাতে থাকা মানুষ অথবা নিরন্ন ক্ষেতমজুরের ব্যক্তিগত সম্পত্তির পরিমাণ হয়তো মাত্র দশ হাজার টাকা। দেশের একজন বিত্তবান কোটিপতির সম্পদের পরিমাণ সেখানে হয়তো কয়েক হাজার অথবা কয়েক লক্ষ কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রথম জনের চেয়ে দ্বিতীয় জনের সম্পদ কয়েক লক্ষ গুণ বেশি। একথা যুক্তিসংগতভাবেই বলা যায় যে, সম্পদের পরিমাণ যতগুণ বেশি হবে, তা পাহারা দেয়ার খরচও ততগুণ বেশি হওয়া উচিৎ। এই বিবেচনায়, দশ হাজার কোটি টাকার বিত্তবান সম্পদের মালিক একজন ব্যক্তির কাছ থেকে যে কর আদায় করা উচিৎ তা একজন দশ হাজার টাকার মালিক দরিদ্র ব্যক্তির দেয়া করের চেয়ে এক কোটি গুণ বেশি হওয়াই এই নীতি অনুযায়ী যুক্তিসঙ্গত। কর হার নির্ধারণের তত্ত্বের মধ্যে আরেকটি হলো ‘সামাজিক ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে কর’-এর নীতি। এই নীতির মূল কথা হলো, এমন হারে কর নির্ধারণ করা উচিত যাতে করে দেশে সামাজিক ন্যায়বিচারের পরিস্থিতি আরো উন্নত হয়। একথা বুঝিয়ে বলার অপেক্ষা রাখে না যে এই নীতির প্রায়োগিক অর্থ হলো, এমনভাবে করভার আরোপ করা উচিৎ যাতে বিত্তবানদের বাড়তি সম্পদ হস্তান্তরিত হয়ে তা বিত্তহীনদের আয় বৃদ্ধি ঘটায়। এমনভাবে কর-হারের স্তর ভেদ যাতে, করা প্রয়োজন বাজেটের আয়-ব্যয়ের যোগ-বিয়োগের পর, তা সামাজিক ন্যায়বিচারের পরিস্থিতি উন্নত করতে সক্ষম হয়। কিন্তু বিত্তহীনসহ সাধারণ মানুষের ওপর বর্ধিত পরোক্ষ করের বোঝা (৭১%) চাপিয়ে দেয়ায় সামাজিক ন্যায়বিচারের পরিস্থিতি উন্নত না হয়ে তার আরো অবনতি ঘটার ভিত্তি রচনা করে রাখা হয়েছে। কারণ বাজেটের মাধ্যমে যে সম্পদ পুনর্বণ্টিত করার সুযোগ সৃষ্টি হয়, সেই সম্পদের দুই-তৃতীয়াংশই নেয়া হয়ে থাকে বিত্তবানদের বদলে গরিব মানুষদের থেকে। ফলে, পুনর্বণ্টিত হয় প্রধানত গরিবের সম্পদ। এবং সেটি যায় গরিব থেকে ধনীদের কাছে। প্রতিবারের মতো এবারের বাজেটেও করের বোঝার সিংহভাগ চাপিয়ে দেয়া হয়েছে দরিদ্র, বিত্তহীন, গরিব, মধ্যবিত্ত সাধারণ মানুষের ওপরে। যাদের কাছ থেকে বেশি কর আদায় করা হচ্ছে (মোটা দাগে বলা যায় ৭১%) তাদের জন্য যদি তিন-চতুর্থাংশ অর্থও ব্যয় করা হয়, তাহলেও ‘বৈষম্য’ চলতি মাত্রায়ই অব্যাহতই থাকবে। আর, যদি সেটুকুও না করে তাদের জন্য তিন-চতুর্থাংশের চেয়ে কম খরচ করা হয় তাহলে বলতে হবে যে, বাজেটের মাধ্যমে গরিব মানুষের কাছ থেকে সম্পদ নিয়ে ধনী মানুষকে দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বাস্তবে কী ঘটছে? সেজন্য দেখতে হবে যে বাজেটের অর্থ সমাজের কোন অংশের জন্য কিভাবে ও কি পরিমাণে খরচ করার ব্যবস্থা করা হয়েছে, তার প্রকৃত চিত্র। (পরবর্তী সংখ্যায় শেষ হবে)

Leave a Reply

Your email address will not be published.