কল্পনা চাকমা অপহরণের ২৫ বছর, মেলেনি বিচার

১২ জুন ১৯৯৬। আজ থেকে পঁচিশ বছর আগে এই দিনে হিল উইমেন্স ফেডারেশনের নেত্রী কল্পনা চাকমা অপহৃত হন।

আজ দীর্ঘ পঁচিশ বছরেও খোঁজ মেলেনি কল্পনা চাকমার। মেলেনি বিচার।

উপরন্তু এ অপহরণ ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে চিহ্নিত অপহরণকারীদের রক্ষায় নানা চক্রান্ত এখনো অব্যাহত রয়েছে বলে দাবি পাহাড়িদের। কারণ অপহরণটি ছিল পরিকল্পিত এবং রাজনৈতিক।

হিল উইমেন্স ফেডারেশনের দাবি অনুযায়ী, ১৯৯৬ সালের ১২ জুন রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার নিউ লাল্যাঘোনা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে সেনা কর্মকর্তা লে. ফেরদৌস, ভিডিপি কমাণ্ডার নুরুল হক ও পিসি সালেহ আহম্মদ’র নেতৃত্বে অপহৃত হয়েছিলেন হিল উইমেন্স ফেডারেশনের তৎকালীন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক কল্পনা চাকমা।

কল্পনা চাকমার অপহরণ হবার দিনটিকে স্মরণ করে, হিল উইমেন্স ফেডারেশন কেন্দ্রীয়ভাবে ‌‘পাহাড়-সমতলে নারীর ওপর নিপীড়ন ও রাষ্ট্রীয় সহিংসতা’শীর্ষক এক অনলাইন আলোচনা সভার আয়োজন করেছে।

আজ সন্ধ্যা ৬টায় এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে বলে সংগঠনের সূত্রে জানা গেছে। এছাড়া স্থানীয়ভাবেও বিভিন্ন জায়গায় কর্মসূচি রয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সাল। শান্তি চুক্তি তখনও হয়নি। কল্পনা ছিলেন অবিভক্ত হিল উইমেন ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক। এই সময় দেশের ৭ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ৭ ঘন্টা পূর্বে সংঘটিত এ অপহরণ ঘটনাটি পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশে-বিদেশে ব্যাপক আলোচিত হয় এবং প্রতিবাদ-বিক্ষোভের ঝড় তুলে।

হিল উইমেন্স ফেডারেশনসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন, প্রগতিশীল ব্যক্তি ও নাগরিক সমাজ বিচার বিভাগীয় তদন্তপূর্বক এ ঘটনার বিচারের দাবি জানায়।

ব্যাপক প্রতিবাদ-বিক্ষোভের মুখে ঘটনার প্রায় দেড় মাসের পর সরকার অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি আব্দুল জলিলের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কিন্তু ওই তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন সরকারের নিকট জমা দিলেও তা আজো জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি।

পরবর্তীতে মামলা হলেও থানা কর্তৃপক্ষ পরিকল্পিতভাবে অভিযুক্তদের নাম বাদ দিয়ে মামলা রুজু করে বলে জানা যায়। অতঃপর কয়েকদফা সাজানো প্রতিবেদন দাখিল করা হলেও কল্পনা চাকমার অপহরণের রহস্য আজও উদ্ঘাটিত হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.