করোনায় গার্মেন্টস শ্রমিকদের মৃত্যু হলে দায় সরকার ও মালিকদের

করোনা মহামারীর সাধারণ ছুটির মাঝে গার্মেন্ট কারখানা খুলে দেয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)।

শনিবার (৪ এপ্রিল) রাতে এক বিবৃতিতে জানানো হয়- করোনা মহাবিপর্যয়ের জন্য সরকার কর্তৃক ঘোষিত দেশে চলমান সাধারণ ছুটির মাঝে সরকারেরই প্রশ্রয়ে গার্মেন্ট মালিকদের কারখানা খুলে দিয়ে শ্রমিকদের কাজে যোগদানের নোটিশ প্রদানে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সভাপতি কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক কমরেড মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, করোনা সংক্রমণে শ্রমিকদের জীবনহানি ঘটলে সরকার ও মালিকদের এই দায় বহন করতে হবে।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, করোনা মহাবিপর্যয়ের কারণে সরকার ১১ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষনা করে দেশের সব নাগরিককে ‘বাসায় থাকতে’ বলেছে। রাস্তায় বের হলে গরীব রিকশাচালককে পিটিয়ে তার রিকশা ভেঙে দেয়া হচ্ছে, বৃদ্ধ দিনমজুরকে কান ধরে উঠবস করানো হচ্ছে। অপরদিকে সরকারের গার্মেন্ট ব্যবসায়ি বাণিজ্যমন্ত্রীর প্রশ্রয়ে গার্মেন্ট মালিকরা গার্মেন্ট শ্রমিকদের ৫ এপ্রিল থেকে কাজে যোগদানের জন্য এসএমএস’র মাধ্যমে নির্দেশ প্রদান করেছে। সাধারণ ছুটি চলা অবস্থায় গার্মেন্ট কারখানা খুলে দেয়ায় গ্রামে চলে যাওয়া শ্রমিকদেরকে এখন পায়ে হেঁটে কর্মস্থলে ফিরতে হচ্ছে। তাদেরকে এখন গাদাগাদি করে থাকতে হবে, ভীড় করে কারখানায় যেতে হবে, সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াই ডিউটি করতে হবে। ফলে করোনা মহামারি আকারে ছড়িয়ে পরার বিপদ মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে শ্রমিকদের জীবনের পাশাপাশি অগণিত দেশবাসীর জীবনাশঙ্কা সৃষ্টি হবে। এর দায় সরকার ও গার্মেন্ট কারখানা মালিকদের নিতে হবে যারা গার্মেন্ট কারখানা খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশ্যে প্রদত্ত ভাষণে গার্মেন্টসহ রপ্তানীমুখি শিল্পের শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-মজুরি বাবদ ৫,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ ঘোষণা করেছেন। তারপরও কারখানা খুলে দিয়ে ৫০ লাখ শ্রমিকসহ ১৭ কোটি মানুষকে করোনা মহাবিপর্যয়ে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়া হলো কার স্বার্থে তা দেশবাসী জানতে চায়।