করোনা মহামারিতে সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে ৭.৪ শতাংশ; বেড়েছে বৈষম্য

করোনা মহামারিতে বিশ্বব্যাপী সম্পদের পরিমাণ কমে নি, বরং বিশ্বে সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে ৭.৪ শতাংশ।

তবে অর্থনৈতিক বৈষম্য আরও বেড়েছে। চলমান মহামারিতে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অবস্থা নিম্ন থেকে আরও নিম্নগামী হলেও ক্রমেই বাড়ছে অতি-ধনীদের সংখ্যা।

গত বছর ২০২০ সালে বিশ্ব জুড়ে অর্ধ কোটির বেশি মানুষ নতুন করে মিলিওনিয়ার হয়েছেন।

ক্রেডিট সুইস নামের এক গবেষণায় এসব তথ্য বের হয়ে আসে।

এই সময়েই বিশ্বে কোটিপতিদের সংখ্যা আরও ৫২ লাখ বেড়ে পাঁচ কোটি ৬১ লাখে দাঁড়িয়েছে বলে ক্রেডিট সুইসের গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে।

আজ বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়।

ক্রেডিট সুইসের গবেষণায় বলা হচ্ছে, শেয়ার বাজারের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা এবং বিশেষ করে বাড়িঘরের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় তাদের কোটিপতি হয়ে ওঠার পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে।

গবেষকরা বলছেন, ধনসম্পদ বৃদ্ধির বিষয়টি দেখা গেছে মহামারির কারণে অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি থেকে যেন একেবারেই আলাদা একটা বিষয়।

বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে বলা হয়, অর্থনীতিবিদ এবং গ্লোবাল ওয়েলথ রিপোর্টের লেখক অ্যান্থনি শোরকস বলেছেন, ”মহামারির কারণে বিশ্ব বাজারের ওপর একটি স্বল্পমেয়াদী প্রভাব পড়েছিল, কিন্তু ২০২০ সালের শেষ নাগাদ তার বেশিরভাগ কাটিয়ে ওঠা গেছে।”

”বিশ্বের ধনীদের সম্পদ এই বিপদের মধ্যেও শুধু যে স্থিতাবস্থায় থেকেছে তাই নয়, বরং বছরের দ্বিতীয় ভাগে তা আরও বেড়েছে,” তিনি বলছেন।

তবে প্রাপ্তবয়স্ক মানুষদের মধ্যে সম্পদের পার্থক্য ২০২০ সালে আরও বেড়েছে।

একুশ শতকের শুরুতে যে পরিমাণ মানুষের কাছে অন্তত ১০ হাজার ডলার এবং এক লাখ ডলার ছিল, তাদের সংখ্যা এখন তিনগুণ বেড়েছে। ২০০০ সালে এরকম মানুষের সংখ্যা ছিল ৫০ কোটি ৭০ লাখ, ২০২০ সাল নাগাদ সেই সংখ্যা দাঁড়িয়ে ১৭০ কোটি।

গবেষকরা বলছেন, এই সম্পদ বৃদ্ধির কারণ হচ্ছে, উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর সমৃদ্ধি বেড়েই চলেছে, বিশেষ করে চীনের। এছাড়া উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যবিত্তদেরও বিকাশ হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.