করোনা পরবর্তী অর্থনীতি

সুতপা বেদজ্ঞ:

করোনাভাইরাস সৃষ্ট মহামারির সময় দীর্ঘায়িত হচ্ছে। বাংলাদেশের জনগণকে একইসাথে মোকাবিলা করতে হচ্ছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও মহামারির বিপদ। মহামারি শুরুর কিছুদিন পরেই দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় আম্ফান। সেই ক্ষত এখনও দগদগে। এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বন্যায় প্রায় ৫৬ লাখ মানুষের পানিবন্দীত্বের দুর্ভোগ অবস্থাকে আরও বিপদজনক করে তুলেছে। প্রাকৃতিক দুযোর্গ আর মহামারির মধ্যেই কেটে গেছে এবারের বাংলা নববর্ষ ও দু’টি ঈদ উৎসব। কোনো উৎসবই এ বছরে সবার জন্য আনন্দ বয়ে আনতে পারেনি। মহামারি আর প্রাকৃতিক দুর্যোগের জেরে বেড়েছে অর্থনৈতিক সংকট। বদলেছে মানুষের জীবনাচরণ, কমেছে অর্থনৈতিক প্রবাহ।

করোনা পরবর্তী বিশ্বে অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাব বাংলাদেশকেও স্পর্শ করবে। এটা এমন এক ভিন্ন পরিস্থিতি যা মোকাবিলা করতে দরকার সঠিক রাজনীতি ও অর্থনীতি। সমাজ ও রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক পরিবর্তন ছাড়া কোনো অর্থনীতিই টেকসই হয় না। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের অর্থনীতিবিদেরা করোনা পরবর্তী অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে তিনটি চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করেছেন। প্রথমত, বৈষম্য হ্রাস ও সামাজিক গতিশীলতা বাড়াতে অর্থনৈতিক নীতিগুলো পুনর্বিবেচনা করা। দ্বিতীয়ত, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির নতুন উৎস চিহ্নিত করা এবং তৃতীয়ত অর্থনৈতিক কর্মক্ষমতা বাড়াতে নতুন লক্ষ্যের ওপর মনোযোগ দেয়া।

কৃষক-শ্রমিক-মেহনতি মানুষের শ্রমে-ঘামে আর উদ্ভাবকদের প্রচেষ্টায় আমাদের দেশ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নতি সাধন করেছে। আবার একই সাথে বেড়েছে বৈষম্য-বিভেদ আর দুর্নীতি। এই মহামারিতেও থেমে নেই শাহেদ-সাবরিনা অথবা পাপুল-বরকত-রুবেলরা। মানুষের জীবন এদের কাছে মূল্যহীন। দুর্নীতি আর ক্ষমতার অন্ধ উন্মত্ত নেশা এদের বিবেকবোধকে ধ্বংস করে ফেলেছে। দুনীর্তি গ্রাস করেছে দেশের প্রত্যেকটি সরকারি খাতের সেবাকে।

করোনার কারণে উন্মুক্ত হয়ে যাওয়া বৈষম্যের বিষয়টি সারা বিশ্বেই এখন আলোচিত হচ্ছে। সামাজিক বৈষম্য করোনা মোকাবিলার সংকটকে আরও গভীর করে তুলেছে। আমাদের দেশের উন্নয়নকে একতরফাভাবে জিডিপি দিয়ে মাপার ফলে দরিদ্র, খেটে খাওয়া মানুষের আশা-আকাঙ্খা, তাদের জীবন নির্বাহের অনুসঙ্গ অর্থাৎ তাদের কাজ পাওয়ার নিশ্চয়তা ক্রমেই প্রাধান্যহীন হয়ে পড়েছে। সারা পৃথিবীতে পুঁজিবাদ মানুষকে প্রাণ-প্রকৃতি বিনাশী উন্নয়ন ও ভোগের সংস্কৃতির মধ্যে নিয়ে গেছে। পুঁজিবাদের প্রাধান্যশীল এই সংস্কৃতি সব স্তরের মানুষকেই স্পর্শ করছে। আমাদের দেশের সাধারণ নিম্ন আয়ের মানুষও এই প্রবণতায় আছন্ন হয়ে পড়েছে। একদিকে ঋণ নিয়ে বা কিস্তিতে ক্রয় করা মোবাইল-টিভি-ফ্রিজের ব্যবহার বেড়েছে, অন্যদিকে সঞ্চয়ের হার সীমিত হয়েছে। এর প্রভাব দেখা গেল করোনা শুরু হওয়ার সাথে সাথে। নিম্ন আয়ের মানুষের একমাস চলার মত সঞ্চয়ও হাতে ছিল না। একদিকে সরকার ঢিলে ঢালা লকডাউন দিয়েছে, অন্যদিকে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের কাছে চাহিদা অনুযায়ী খাদ্য পৌঁছে দিতে না পারায় মানুষকে ঘরের মধ্যে রাখা যায়নি।

এ সকল বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই করোনার সময় ও পরবর্তীকালে ঘুষ-দুর্নীতি-অপচয়-আমলাতান্ত্রিক স্বেচ্ছাচারিতা-অব্যবস্থা প্রভৃতি কঠোরভাবে দমন করার দরকার হবে। গণতন্ত্রহীনতা ও রাজনীতিতে দুর্বৃত্তায়নের ধারার অবসান ঘটাতে হবে। অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে সুষ্ঠু-স্বচ্ছ ও কার্যকর আইন কানুনের ভিত্তিতে সচল করতে হবে এ সময়ে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারায় রাজনীতি ও অর্থনীতি গড়ে তোলার সংগ্রাম জোরদার করতে হবে। করোনাকালীন সংকট মোকাবিলায় আমাদের পথ নির্দেশনা খুঁজতে হবে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও লক্ষ্যের আলোকে। মুক্তিযুদ্ধের মুলনীতির অন্যতম ছিল সমাজতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নির্মাণের। এখনও সংবিধানে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা আছে। কার্যকর গণতন্ত্র নির্মাণ ছাড়া উন্নয়ন টেকসই হবে না। আমাদের সংবিধানে বর্ণিত সমাজতন্ত্রের প্রধান ও বিশেষ দিক হচ্ছে অর্থনীতিতে রাষ্ট্রীয় খাতকে নিয়ামক হিসেবে গড়ে তোলা।

করোনা পরবর্তী অর্থনীতি সচল রাখতে কৃষি, সেবা এবং শিল্প প্রত্যেকটি খাতে সমানভাবে নজর দেয়া প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে যা করা যেতে পারে-

১. বিশ্বব্যাপী সবুজ পৃথিবী গড়ার যে চিন্তা শুরু হয়েছে তার সাথে আমাদেরও একাত্ম হতে হবে। প্রকৃতি ধ্বংসকারী প্রকল্পসমূহের পূণর্মূল্যায়নের এখনই সময়। প্রাকৃতিক উর্বরতা, প্রাণ-প্রকৃতির বৈচিত্র্যময়তা এদেশের বড় সম্পদ। প্রকৃতি অনেকক্ষেত্রেই মানুষের জীবন-জীবিকার রসদ সরবরাহ করে। কাজেই উন্নয়ন হতে হবে জনবান্ধব ও পরিবেশবান্ধব ।

২. রাষ্ট্রীয় খাতকে প্রধান ও নিয়ামক খাত রেখে রাষ্ট্রীয়, মিশ্র, ব্যক্তিগত ও সমবায়ী মালিকানায় শিল্প উদ্যোগ প্রসারিত ও লাভজনক করতে প্রত্যেকটি খাতকে সমান গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় নিতে হবে। এক্ষেত্রে ভিয়েতনামের বর্তমান মডেল অনুসরণ করা যেতে পারে। শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের ওপর নির্ভর করে সামগ্রিক জাতীয় ও সামাজিক স্বার্থ। তাই স্বাধীন স্বনির্ভর অর্থনীতি বিকাশের স্বার্থে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব পাটকলসহ সকল রাষ্ট্রীয় খাতকে দক্ষ ও লাভজনক করে তা সংহত, প্রসারিত ও নিয়ামক খাতে পরিণত করতে হবে। পাটকলসহ রাষ্ট্রীয় খাতের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য এই খাতের ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি পূর্নগঠন করে দক্ষ-দুর্নীতিমুক্ত-দেশপ্রেমিকবাহিনী গড়ে তোলা দরকার। মাথাভারী প্রশাসন সংকুচিত করতে হবে। শ্রমিক কর্মচারীদের মধ্যে কর্ম সংস্কৃতি ও দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে, কল-কারখানাকে আধুনিকায়ন করতে হবে। কোথাও বাড়তি শ্রমিক থাকলে তাদের চাকুরিচ্যুত না করে তাদের নিয়ে নতুন কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নিতে হবে। কেউ যাতে কর্মহীন না হয়ে পড়ে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে অর্থনৈতিক নীতির প্রধান কর্তব্যরূপে গণ্য করে অগ্রসর হতে হবে।

৩. অর্থনৈতিক বৈষম্য কমিয়ে আনতে এদেশের কৃষক-শ্রমিক-মুটে-মজুরদের বিষয়টি বিশেষ প্রাধান্যের দাবি রাখে। কৃষক-শ্রমিক এদেশের অর্থনীতির প্রাণ। তাদের বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্ব সরকারের। কৃষকরা যাতে ফসলের ন্যায্যমূল্য পায় সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। সাথে সাথে কৃষক-শ্রমিকের জন্য ন্যায্যমূল্যে রেশনিং ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন। ছোট-মাঝারি-কৃষিভিত্তিক শিল্প ও কুটির শিল্পকে এ সময়ে বিশেষ সহায়তা প্রদান করতে হবে। ক্ষেতমজুরসহ গ্রামীণ মজুরদের সারা বছরের কাজের পরিকল্পনা করতে হবে।

৪. উৎপাদনশীল খাতে প্রদত্ত সরকারের ঋণ আত্মসাৎকারীদের কাছ থেকে খেলাপি ঋণের টাকা আদায় করতে হবে। চোরাচালানি, মজুদদারি, কালোবাজারি, ঘুষ, দুর্নীতি, অপচয়, আমলাতান্ত্রিক স্বেচ্ছাচারিতা, অব্যবস্থা, নৈরাজ্য প্রভৃতি শক্ত হাতে দমন করার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি।

৫. সরকারি সহযোগিতায় সমবায়ের ধারা ফিরিয়ে আনার সময় এখনই। স্থানীয় পর্যায়ে ব্যক্তিকেন্দ্রিক বেশকিছু সমবায় আমাদের দেশে থাকলেও তা আশানুরূপ বিকশিত হয়নি। আবার অনেক ক্ষেত্রে সমবায়ের সদস্যেরা সুফল পায়নি। তার কারণ প্রধাণত বাজার ব্যবস্থার সংকট। আবার মধ্যস্বত্ত্বভোগী শ্রেণির কারণেও এক্ষেত্রে অনেকে আশা হারিয়ে ফেলেন। খাসজমি, হাওড়, বিল জলমহাল ইত্যাদি উৎপাদনশীল ব্যবহারে আনার জন্য ফটকা মালিকদের অপসারিত করে এসবের মালিকানা দরিদ্র-দুস্থদের নিয়ে সমবায় গঠন করে তাদের হাতে ন্যস্ত করা যেতে পারে।

৬. যে কোনো মূল্যে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে জনবান্ধব করতে হবে। এতে করে একদিকে মানুষ সেবা পাবে, অর্থ সাশ্রয় হবে অন্যদিকে চিকিৎসার জন্য যে বিপুল অর্থ মানুষ বিদেশে খরচ করছে তা দেশের মধ্যেই থেকে যাবে।

৭. বন্যা উপদ্রুত এলাকার জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ সহায়তা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন এবং বন্যা পরবর্তী পর্যায়ে এ সকল অঞ্চলের মানুষ যাতে কর্মহীন হয়ে না পড়ে সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে।

৮. দেশের বিপুল জনশক্তিকে অর্থনৈতিক বিকাশে কার্যকর উপাদান হিসেবে গড়ে তোলার জন্য মানবসম্পদ বিকাশের লক্ষ্যে বহুমুখি উদ্যোগকে আরও সম্প্রসারিত ও কার্যকর করতে হবে।

৯. করোনায় দারিদ্রপীড়িত জনগণের ন্যুনতম বেঁচে থাকার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য জরুরিভিত্তিতে বহুমুখি কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে। গ্রাম ও শহরের বেকার মানুষের স্থায়ী কর্মসংস্থান প্রসারিত করার জন্য বাজেটে পর্যাপ্ত ও পরিকল্পিত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা যেতে পারে। গ্রামীণ নারী মজুরদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কিছু সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা নেয়া দরকার। প্রবাসী বাংলাদেশীরা যাতে বেকার হয়ে না পড়ে তার জন্য জোরালো কুটনৈতিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।

১০.করোনাকালীন সময়েও বসে নেই আমাদের দেশের মানুষ। প্রতিনিয়ত চেষ্টা করছে টিকে থাকার। ই-কমার্সের ব্যবহার বেড়েছে। সরকারকে এই ক্ষেত্রে উদ্যোক্তাদের চাহিদা অনুযায়ী সহজ শর্তে ঋণ ও বাজার ধরার ব্যবস্থা করে দিতে হবে। সরকার করেনাকালীন সময়ে অর্থনীতি সচল রাখতে এ পর্যন্ত সব মিলিয়ে মোট ১১ দশমিক ৯০ বিলিয়ন ডলারের ১৮টি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এগুলো যাতে প্রকৃত সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাজে লাগে সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। সরকার ইতিমধ্যে প্রশাসনিক ব্যয় হ্রাস করার কথা বলেছে। সাথে সাথে মানুষের জীবন-জীবিকার জন্য অত্যাবশ্যকীয় নয় এ ধরণের সামগ্রী আমদানি আপাতত বন্ধ রাখা দরকার। করোনাকাল কেটে গেলেই রোহিঙ্গাদের নিজভূমে পাঠানোর জন্য কুটনৈতিক তৎপরতা জোরালো করতে হবে। একইসাথে দেশের মানুষকে নিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রায় অভ্যস্থ হতে হবে। ছোট ছোট উদ্যোগ অর্থনৈতিক প্রবাহ বৃদ্ধি করতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

১১. আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে রপ্তানি আয় বাড়াতে মনোনিবেশ করতে হবে। পোষাক শিল্প এখন প্রধান রপ্তানি আয়ের উৎস। এ খাতের শ্রমিকদের জীবনমান উন্নত করতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। করোনা দেখিয়ে দিয়েছে রেমিট্যান্স তাৎক্ষণিক অর্থপ্রবাহ বাড়াতে পারে কিন্তু তা অর্থনৈতিক গতিধারা সচল রাখতে স্থায়ী সমাধান হতে পারে না।

১২. দেশের অর্থনৈতিক লক্ষ্য, নীতি নির্ধারণ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে পরনির্ভরতা দূর করে নিজেরাই নিজেদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের চেষ্টা করতে হবে। দেশীয় শক্তি, সম্পদ ও সম্ভাবনার সর্বোচ্চ সমাবেশ ও দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। বিদেশ নির্ভরতা কমাতে হবে আবার বৈদেশিক ঋণ সাহায্যের সুবিবেচনাপ্রসূত ব্যবহারের চেষ্টা করতে হবে।

করোনা উত্তর উন্নয়নের নীতি খুঁজতে হবে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও লক্ষ্যের মধ্যে। মুক্তিযুদ্ধের মূলনীতির অন্যতম স্তম্ভ সমাজতন্ত্র ও গণতন্ত্রের ওপর দাঁড়িয়েই আমাদের ভবিষ্যতের পথ রচনা করতে হবে। করোনা থেকে শিক্ষা নিয়ে অর্থনীতির চাকা সচল করতে আর একটিও সরকারি কারখানা ধ্বংস নয় বরং নির্মাণ করতে হবে যুগোপযোগী করে। এ পর্যন্ত যত মিল-কারখানা নানা কারণে বাতিল ঘোষিত হয়েছে তার পুনর্মূল্যায়ন করে পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নিতে হবে কর্মসংস্থানের স্বার্থে। এ সকল উদ্যোগের মধ্য দিয়েই বৈষম্য হ্রাসের পথ রচিত হবে, কাটিয়ে উঠা সম্ভব হবে করোনা উত্তর অর্থনৈতিক মন্দা পরিস্থিতি, গড়ে উঠবে আত্মনির্ভশীল-পরিবেশবান্ধব-দারিদ্রমুক্ত-কর্মসংস্থানমুখী ও জনকল্যাণমূলক অর্থনীতির ধারা।

প্রশ্ন হচ্ছে বর্তমান শাসকগোষ্ঠী তা করতে চাইবে কি-না। স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত এদেশের শাসন ব্যবস্থায় যারাই এসেছে তারাই একের পর এক মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী কর্মকাণ্ডের মধ্যদিয়ে সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির প্রসঙ্গটি বারবার এড়িয়ে গেছে। রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ছাড়া মেহনতি মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি সম্ভব নয়। তাই অর্থনৈতিক মন্দা কাটিয়ে উঠতেও সমাধান খুঁজতে হবে রাজনীতির মধ্যেই। শাসকগোষ্ঠীর একের পর এক জনআকাঙ্খার সাথে সঙ্গতিহীন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়া এখন সময়ের দাবি। এ কাজে বাম প্রগতিশীল ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী ব্যক্তি-গোষ্ঠী-দলের সক্রিয়-সোচ্চার ভূমিকা বিশেষ প্রয়োজন। যে কোনো মূল্যে মহামারি সৃষ্ট অর্থনৈতিক মন্দা কাটিয়ে উঠতে সরকারি ভূমিকার ওপর প্রভাব বিস্তার করতে না পারলে পরিস্থিতি সামলানো কঠিন হয়ে পড়বে।

লেখক: সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), খুলনা জেলা কমিটি