করোনাকালে বাল্যবিয়ের হার গত ২৫ বছরে সর্বোচ্চ

চলমান করোনা মহামারির সময়কালে বাংলাদেশে বাল্যবিয়ের পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে। ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মেয়েদের ঝরে পড়াও বেড়েছে৷

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের এক গবেষণা বলছে, দেশে করোনার কারণে বাল্যবিয়ে শতকরা ১৩ ভাগ বেড়েছে৷ গত ২৫ বছরে যা বাংলাদেশে সর্বোচ্চ৷

এদিকে সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, দেশে প্রাথমিক শিক্ষা পর্যায়ে ঝরে পড়ার হার শতকরা ১৭ ভাগ৷ আর মাধ্যমিক পর্যায়ে শতকার ৩৭ ভাগ৷

তবে করোনায় এ সংখ্যা বেড়েছে বলে আশঙ্কা করছে সরকার৷ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে পাঠ্যপুস্তক বোর্ডও আগামী শিক্ষাবর্ষে ৭৭ লাখ বই কম ছাপানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷

ডিডব্লিউ বাংলা (অনলাইন) –এর এক সংবাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আলীপুর আদর্শ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণিতে মোট ছাত্রী ৪৭০ জন৷ তাদের মধ্যে ৬৭ জনেরই চলতি বছর বিয়ে হয়ে গেছে৷ যাদের বিয়ে হয়েছে তারা সবাই অপ্রাপ্তবয়স্ক৷ সাতক্ষীরা বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কমিটির প্রধান সাকিবুর রহমান সরেজমিন গিয়ে এই তথ্য সংগ্রহ করেছেন৷

যাদের বিয়ে হয়েছে তাদের সর্বোচ্চ বয়স ১৭ বছর৷ আর তাদের বেশির ভাগের বয়সই ১৬ বছর৷ তারা সবাই নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী৷ তবে ষষ্ঠ এবং সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বিয়ের ঘটনাও ঘটেছে৷

এদিকে বেসরকারি সংস্থা মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের গবেষণায় বলা হয়েছে, করোনাকালে বাংলাদেশে গড়ে প্রতিদিন ৬৫টি করে বাল্যবিয়ে হয়েছে৷ সাত মাসে ২১ জেলার ৮৪ উপজেলায় মোট ১৩ হাজার ৮৮৬টি বাল্যবিবাহের তথ্য পেয়েছে তারা৷

গত বছরের এপ্রিল মাস থেকে অক্টোবর পর্যন্ত দেশের মোট ২১ জেলায় জরিপ চালিয়েছে সংস্থাটি৷

মেয়েদের ড্রপআউট হয়ে যাওয়ার বিষয়ে আলাদাভাবে কাজ না হলেও করোনাকালে ড্রপআউট শিক্ষার্থীদের তালিকা তৈরির কাজ করছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি৷

দেশের ৬৪ জেলার ৩৪৫টি উপজেলা, সব সিটি কর্পোরেশন এবং ১৫টি শহরে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানা গেছে৷

এদিকে সারাদেশে বাংলা মাধ্যমের কিন্ডারগার্টেন স্কুল ছিল ৪০ হাজার৷ করোনার কারণে এই ধরনের ১০ হাজার স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে৷ এ স্কুলগুলোর শিক্ষার্থীদের শতকরা ৫২ ভাগ মেয়ে বলে জানান বাংলাদেশ কিন্ডার গার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব জিএম জাহাঙ্গীর কবির রানা৷

Leave a Reply

Your email address will not be published.