করোনাকালে বিশ্বে কাজ হারাচ্ছেন প্রতি তিনজনে একজন

করোনাকালীন সময়ে বিশ্বে প্রতি তিনজনের একজন চাকরি বা ব্যবসা হারিয়েছেন। পুরো বিশ্বের প্রেক্ষাপটে তুলনা করলে এমন মানুষের সংখ্যা ১০০ কোটিরও বেশি।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক জরিপ সংস্থা গ্যালাপের এক জরিপে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

জরিপে আরও দেখা গেছে, ২০১৯ সালের চেয়ে ২০২০ সালে বিশ্বব্যাপী কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকা কর্মীর সংখ্যা ২ শতাংশ কমেছে। ২০১৯ সালে কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকা কর্মীর সংখ্যা ছিল ২২ শতাংশ, ২০২০ সালে তা হয়েছে ২০ শতাংশ।

বিশ্বের ১১৬টি দেশের মানুষের ওপর ‘স্টেট অব দ্য গ্লোবাল ওয়ার্কপ্লেস ২০২১ ’-শীর্ষক এই সমীক্ষা চালিয়েছে গ্যালাপ।

জরিপে দেখা গেছে, বিশ্বব্যাপী কর্মীদের মধ্যে প্রতিদিনই উদ্বিগ্নতা, চাপ, ক্রোধ ও দুঃখবোধ বাড়ছে। ৪১ শতাংশ কর্মী জানান, আগের দিনে তাঁরা অনেক উদ্বিগ্ন ছিলেন। ৪৩ শতাংশ জানান, আগের দিন ব্যাপক চাপে ছিলেন তাঁরা। ২৪ শতাংশ জানান, তাঁরা ক্রোধ অনুভব করেছেন। ২৫ শতাংশ অনুভব করেছেন দুঃখ।

গ্যালাপের ওই প্রতিবেদনে দেখা যায়, বাংলাদেশের কর্মীদের উদ্বেগ, মানসিক চাপ, ক্রোধ ও দুঃখবোধ আগের বছরের তুলনায় ২০২০ সালে বেড়েছে। বাংলাদেশের ৫০ শতাংশ কর্মী জানান, আগের দিনে তাঁরা অনেক উদ্বিগ্ন ছিলেন। ৪১ শতাংশ জানান, আগের দিন ব্যাপক চাপে ছিলেন তাঁরা। ২৫ শতাংশ জানান, তাঁরা ক্রোধ অনুভব করেছেন। ৩৬ শতাংশ অনুভব করেছেন দুঃখ।

সমীক্ষায় দেখা গেছে, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায় সর্বোচ্চ ৫৪ শতাংশ মানুষের জীবনে করোনার প্রভাব পড়েছে। এরপরই আছে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা। তাদের ৫০ শতাংশ মানুষের ওপর করোনার প্রভাব পড়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার ৪৯ শতাংশ মানুষের ওপর প্রভাব পড়েছে করোনার। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের সর্বনিম্ন ২২ শতাংশ মানুষের ওপর প্রভাব পড়েছে। গ্যালাপের জরিপে উত্তরদাতাদের প্রতি তিনজনের একজন মহামারির মধ্যে চাকরি বা ব্যবসা হারিয়েছেন। পুরো বিশ্বের প্রেক্ষাপটে তুলনা করলে এমন মানুষের সংখ্যা ১০০ কোটিরও বেশি।

করোনার সময় সবচেয়ে বেশি কমেছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মানুষের আয়, ৬৭ শতাংশ। দক্ষিণ এশিয়ার ৫৫ শতাংশ মানুষের আয় কমেছে। এই হার সবচেয়ে কম পশ্চিম ইউরোপ। এখানকার ২৪ শতাংশ জানিয়েছেন, তাঁদের আয় কমেছে। দক্ষিণ এশিয়ার ৬৬ শতাংশ বলেছেন, তাঁরা সাময়িকভাবে কাজ থেকে ছিটকে পড়েছেন। ৫০ শতাংশ মানুষ বলছেন, করোনার কারণে তাঁরা চাকরি হারিয়েছেন। সবচেয়ে কম চাকরি হারিয়েছেন ইউরোপের মানুষ, ৬ শতাংশ।

উল্লেখ্য, ওয়াশিংটনভিত্তিক জনমত জরিপ প্রতিষ্ঠান গ্যালাপ বলছে, করোনার কারণে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ও মৃত্যু, লকডাউন, স্কুল বন্ধ থাকায় ওপরের ফলাফল অবাক হওয়ার মতো নয়। করোনার কারণে মানুষের মধ্যে হতাশা বেড়েছে, টিকে থাকতে কোটি কোটি শ্রমিককে সংগ্রাম করতে হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.