কমরেড মণি সিংহের ১২১তম জন্মদিবস পালিত

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রবাসী সরকারের উপদেষ্টা, ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রামী টংক আন্দোলনের মহানায়ক, মেহনতি মানুষের মুক্তি সংগ্রামের কিংবদন্তী বিপ্লবী নেতা কমরেড মণি সিংহের ১২১তম জন্মবার্ষিকি পালিত হয়েছে।

আজ (২৮ জুলাই ২০২২), বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় পোস্তগোলা মহাশ্মাশানে কমরেড মণি সিংহের স্মৃতিস্তম্ভে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, সূত্রাপুর থানা কমিটি, ৪৩ নং ওয়ার্ড শাখা, ৪৫-৪৬ নং ওয়ার্ড, শাখা ও বাংলাদেশ আদিবাসী ইউনিয়ন শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পন করে।

শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পনের পর কমরেড বিকাশ সাহার সঞ্চালনায় ও থানা কমিটির সভাপতি কমরেড আবু তাহের বকুলের সভাপতিত্বে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন সিপিবি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড আসলাম খান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য কমরেড জাহিদ হোসেন খান, কমরেড সাইফুল ইসলাম সমীর ও কমরেড গোলাম রাব্বী খান।

বক্তারা বলেন, কমরেড মণি সিংহ বলতেন, “শ্রমিক-কৃষক তথা মেহনতি জনগনের অর্থনৈতিক মুক্তি ছাড়া রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্থহীন। আর অর্থনৈতিক মুক্তির একটিই পথ, সে পথ হলো সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা।” তাই আজো কমরেড মণি সিংহ শোষিত মানুষদের সংগ্রামের প্রেরনার উৎস।

স্মরণসভাটি কমিউনিস্ট ইন্টারন্যশন্যাল গাওয়ার মাধ্যমে সমাপ্ত হয়।

কমরেড মণি সিংহের সংক্ষিপ্ত জীবনী

১৯০১ সালের ২৮ জুলাই আজকের এইদিনে পূর্বধলার জমিদারের সন্তান কালীকুমার সিংহ ও সুসং রাজবংশের কন্য শ্রীমতি সরলা দেবীর কোল আলোকিত করে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা শহরে জন্ম নেন মণি সিংহ। জন্মের তিন বছরের মধ্যে মণি সিংহের পিতার মৃত্যু হলে কলকাতা থেকে ঢাকায় চলে আসেন তারপর সেখার থেকে নেত্রকোনার সুসং দূর্গাপুরের মাতুল রাজ্যে। মায়ের জমিদারের অংশের মাসোয়ারায় সংসারে অর্থনৈতিক সংকট কাটে এবং তখন স্থায়ীভাবে সুসং দূর্গাপুরে বসবাস শুরু করেন মণি সিংহ। প্রাথমিক শিক্ষার হাতেখড়ি এখানেই। কিন্তু এখানে শিক্ষার প্রসার তেমন ছিল না তাই তাকে কলকাতা পাঠিয়ে দেয়া হয়। মাত্র তের বছর বয়সে তিনি যোগ দেন সশস্ত্র ব্রিট্টিশ বিদ্রোহী গ্রুপ “অনুশীলন” এ। তিনি অনুশীলনের চেতনায় বিশ্বাসী হয়ে নিজ এলাকায় লড়াকু হাজংদের সংগঠিত করার জন্য সুসং থেকে দশ ক্রোশ দূরে গ্রাম কালিকাবাড়িতে স্থাপন করেন বিদ্যালয়। সমাজের উঁচু-নিচু, জাত-পাতের ব্যবধান হটাতে শিক্ষাকে অস্ত্র হিসেবে বেছে নেন। কুসংস্কারের সাথে লড়তে থাকায় সেই গ্রামে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেন। এই সময়ে বিশ্বের ইতিহাস ঘুড়ে যায় ১৯১৭ সালে মহান রুশ সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব সংগঠিত হওয়ায়। স্বপ্ন সত্যি হওয়ার প্রেরণার জোয়ার তৈরী হয় বিশ্বজুড়ে। সেই জোয়ার এই উপমাহদেশেও লাগে। অনুশীলন দলের অন্যতম শীর্ষনেতা সুরেশ চন্দ্র দের পত্র নিয়ে কালিকাবাড়ী গ্রামে আসেন রুশ বিপ্লবী গোপেন চক্রবর্তী। তার সাথে আলোচনায় মণি সিংহ পরিচিত হন মার্কসবাদের সাথে।

শুরু হয় চর্চা। মার্কসবাদ-লেনিনবাদে উজ্জবিত হয়ে মনি সিংহ শ্রমিকশ্রেণীর সাথে কাজ করার জন্য ছুটে আসেন কলকাতায়। এখানে তখন উপমহাদেশের কমিউনিস্ট আন্দোলনের প্রাণপুরুষ কমরেড মোজাফফরসহ নানান বিপ্লবীর পদচারনা। তাদের সাথে সখ্যতা গড়ে উঠে কমরেড মণি সিংহের। ১৯২১ সালে তার বিরুদ্ধে হুলিয়া জারি হয়। আত্মগোপন অবস্থায় দীক্ষা নেন সাম্যবাদী আর্দশের। ১৯২৫ সালে ভারতের কমিউনিস্ট আন্দোলনের সূচনাপর্বেই যোগ দেন কমিউনিস্ট পার্টিতে। ১৯৩০ সালে মাস্টারদা সূর্যসেনের অস্ত্রগার লুট বিপ্লবীদের আরো উজ্জবিত করে তুলে আর ব্রিটিশ সরকার নামে বিপ্লবীদের দমাতে। এই সময়েই কমরেড মণি সিংহ কলকাতা থেকে গ্রেফতার হন। ১৯৩৫ সালে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি চলে আসেন আবার সুসং দূর্গাপুরে। এখানে তাকে নজরবন্দী করে রাখা হয়। কিন্তু পাটের ন্যায্যমূল্যর দাবিতে এক সমাবেশে বক্তব্য দেয়ার তার আবার দেড় বছরের জেল হয়। ১৯৩৭ সালে তিনি মুক্তি পান। এই সময়ে তাকে জানানো হয় তিনি এখন পার্টির সদস্য।

জমিদার পরিবারে জন্ম নিলেও মণি সিংহ তার জীবনের স্বাচ্ছন্দ্য, ভোগ-বিলাস, নিরাপত্তার মতো স্বস্তিময় জীবন যাপনের সমস্ত সুযোগ সুবিধা ত্যাগ করে বেছে নেন কঠিন সংগ্রামেরর জীবন। নিজেই তার শ্রেণীচ্যুত হন। বিদ্রোহ করেন নিজ জমিদার পরিবারের শোষনের বিরুদ্ধে। প্রকৃত শিক্ষাকে প্রয়োগ করেন নিজের উপড়। এইকাজটি আমরা ক’জনা পারি? কৃষকদের ও সাধারণ মানুষকে সংগঠিত করেন শোষনের বিরুদ্ধে, গড়ে তুলেন কৃষক আন্দোলন।

অচিরেই মেহনতি মানুষদের কাছে নয়নের মণি হয়ে উঠেন কমরেড মণি সিংহ। টংক আন্দোলন ও তেভাগা আন্দোলনের তিনি ছিলেন পুরোধা। তার নেতৃত্বে ১৯৫০ সালে টংক আন্দোলনের তীব্রতায় তৎকালিন সরকার মাথা নোয়াতে বাধ্য হয়ে টংক প্রথার বিলুপ্ত করেন। ময়মনসিংহ অঞ্চলের তেভাগা আন্দোলনে তিনি সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন। তেভাগা ও টংক আন্দোলনের মধ্যেদিয়ে তিনি কৃষক ও মেহনতি তথা শোষিত মানুষের অবিসংবাদিত নেতাতে পরিণত হন তিনি। এই আন্দোলন শুধু সভা-সমাবেশে সীমাবদ্ধ ছিল না, ছিল রক্তক্ষয়ী লড়াইও। তৎকালিন ব্রিটিশ সরকার আর শোষক জমিদারের সৈন্যদের সাথে অস্ত্র হাতে লড়াই করতে হয়েছে। শুধু টংক অন্দোলনেই ৬০ জন কৃষক ও মেহনতি মানুষ আত্মাহুতি দেন। তিনি শুধু কৃষিকাজ ও আন্দোলনের মধ্যে মানুষকে সংগঠিত করেননি তিনি এই অঞ্চলের শিক্ষা-স্বাস্থ্য, কুটির শিল্প গড়ার জন্য অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন। কমরেড মণি সিংহের ভাষায়- “সবার উন্নত জীবন না হলে উন্নত সমাজ হয় না। আর দেশপ্রেমের অর্থ হলো সবাইকে নিয়ে ভালো থাকা সবার অধিকার প্রাপ্তি নিশ্চিত করা।” কিন্তু অধিকার প্রাপ্তি সহজ বিষয় নয়। মানুষের অধিকার আদায় করার লড়াই করতে যেয়ে কমরেড মণি সিংহকে বারাবার জেলে যেতে হয়েছে, নির্যাতনের স্বীকার হতে হয়েছে। যেতে হয়েছে আত্মগোপনে। ১৯৪৪ সালে সারা বাংলার কৃষাণ সভার প্রেসিডিয়াম সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৪৫ সালে নেত্রকোনায় অনুষ্ঠিত নিখিল ভারত কৃষাণ সভার ঐতিহাসিক সম্মেলনের প্রধান সংগঠক তিনি। ঐ সময় নেত্রকোনার যোগাযোগ ব্যবস্থা বলে তেমন কিছু ছিল না, লক্ষাধিক মানুষের এই সম্মেলন খুবই সফলভাবে শেষ হয়। এই দূরহ কাজ করতে কি পরিমাণ কর্মপ্রয়াস দরকার তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। অঞ্চলটি অর্থনৈতিকভাবে দূর্বল থাকায় তখন নগদ টাকার লেনদেনে সংকট তৈরী হয়। ঐসময় কমরেড মণি সিংহের স্বাক্ষরিত টোকেনই বিকল্প মুদ্রায় পরিনত হয়। মানুষ মণিদাকে তাদের নিজের থেকেও বেশি বিশ্বাস করতো তাই নির্ধিদায় সেই টোকেনকে লেনদেনে ব্যবহার করতো। এ যেন রাষ্ট্রে ভিতরে আরেকটি রাষ্ট্র। কমরেড মণি সিংহের প্রতি মানুষের অকল্পনীয় বিশ্বাস আর শ্রদ্ধা তাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল। উপমহাদেশ ভাগ হবার পর পূর্ণ গণতন্ত্র ও শোষণমুক্ত সমাজ গড়ার জন্য সংগ্রামে যারা লিপ্ত হয়েছিলেন কমরেড মণি সিংহ তাদের একজন। এজন্য তার উপড়ও নেমে আসে পাকিস্তান জান্তার দমন-নিপিড়ন। এই আমলে দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর কমরেড মণি সিংহকে আত্মগোপনে থাকতে হয়েছে। হুলিয়া মাথায় নিয়ে মণি সিংহ ’৫২ ভাষা আন্দোলন, ’৫৪ এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ’৬১ এর শিক্ষক আন্দোলনে গূরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি এই আত্মগোপনে থাকাবস্থায় কমরেড আজাদ ছদ্মনাম ধারণ করেন। আইয়ুব সরকার তো তাকে ধরিয়ে দেবার জন্য সেইসময়ে ১০ হাজার টাকা পুরষ্কার ঘোষণা করে। ১৯৫১ সালে তিনি পূর্ব পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। আত্মগোপনে থেকে তিনি পার্টি পুর্নগঠনে জন্য কাজ করেন। ১৯৬৭ সালে আবার গ্রেফতার হয়ে ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর মুক্তি পান। কিন্তু এই বছরেই ইয়াহিয়ার শাসন জারি হলে তাকে আবার কারাগারে প্রেরণ করা হয়। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাজশাহীর ছাত্র জনতা কারাগার ভেঙ্গে প্রিয় মণিদাকে মুক্ত করে। তখন তিনি অন্যন্য সহকর্মীদের নিয়ে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে উপস্থিত হন এবং মুক্তিযুদ্ধ সংগঠকের কাজে আত্মনিয়োগ করেন। ১৯৬১ সালে নভেম্বরেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব, কমরেড মণি সিংহ, কমরেড খোকা রায়, ইত্তেফাক পত্রিকার সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া, সংবাদ সম্পাদক জহুর হোসেন চৌধুরী মিলিত হন ঢাকার মগবাজারের একটি বাসায়। আলোচনা করেন দেশে চলমান রাজনৈতিক অবস্থা নিয়ে। নানান আলোচনা চলতে থাকে, চলতে থাকে একাধিক সময়ে একাধিক গোপন বৈঠক। এরপর ঐক্যমতে পৌছান বাংলার মহানায়কগণ। শুরু হয় পাকিস্তান বিরোধী তীব্র রক্তঝড়া আন্দোলন-সংগ্রাম। এই সভাগুলিকে পরবর্তীতে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুতিকাঘার বলে উল্লেখ করেন সমাজ বোদ্ধাগণ।

কমরেড মণি সিংহ ছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধের রাজনৈতিক নেতৃত্বের অন্যতম ব্যক্তিত্ব। স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের উপদেষ্টামন্ডলীর অন্যতম সদস্য এবং পার্টির কর্মকান্ডের কেন্দ্রবিন্দু।

মুক্তিযুদ্ধের সময় কমরেড মণি সিংহের বয়স ৭০ বছর। এই বয়সেও দীর্ঘ ৯ মাস অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন মুক্তিযুদ্ধের গতিধারা সঠিক পথে প্রবাহিত করতে। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে আন্তর্জাতিক শক্তির সমর্থন ও স্বীকৃতি প্রাপ্তিতে তিনি গূরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন বিশেষ করে সোভিয়েত ইউনিয়ন ও পশ্চিমবঙ্গের বামফ্রন্ট সরকারের সমর্থন আদায়ে তার ভূমিকা ছিল অনস্বিকার্য। দেশের অভ্যন্তরে ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্র্টি- ছাত্র ইউনিয়ন যৌথ গেরিলাবাহিনী গঠনে তিনি অনবদ্য ভূমিকা রাখেন। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সংগঠন এবং যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশকে গড়ে দোলার কাজে বিপুল উৎসাহে তিনি ঝাঁপিয়ে পড়েন। মণি সিংহ রাজনৈতিক লড়াই-সংগ্রামে যেমন জীবন্ত কিংবদন্তি ছিলেন, তেমনি তিনি ব্যক্তিগত জীবনেও সততা ও নিষ্ঠার সাথে পালন করেছেন নিজ দায়িত্ব। সহধর্মিনী কমরেড অনিমা সিংহ ছিলেন তার আরেক প্রাণশক্তি। তিনিও মার্কসবাদের দীক্ষায় দীক্ষিত ছিলেন। বলা যায় কমরেড মণি সিংহ ও কমরেড অনিমা সিংহের বোঝাপড়া ছিল অনুকরনীয়। মানুষের প্রতি ছিল কমরেড মণি সিংহের প্রবাদতুল্য ভালবাসা। তিনি কখনও সহকর্মীদের বাদ দিয়ে খাবার গ্রহণ করতেন না। পিতা-মাতা উভয়ই বড় জমিদার হলেও এবং দেশের অন্যতম শীর্ষনেতা হওয়া সত্ত্বেও তার কোন ব্যক্তিগত সম্পত্তি ছিল না। তিনি খুব সময়নিষ্ঠ ছিলেন। যথাসময়ে পৌছানো বা কাজ করা ছিল তার স্বভাবসুলভ অভ্যাস। এটি অনুকরনীয়, তাইতো এখনও কমিউনিস্ট পার্টিতে “কমরেড মণি সিংহ টাইম” নামক একটি শব্দ প্রচলিত আছে। অর্থ্যাৎ ঠিক যথাসময়। ১৯৩৭ সালে কমরেড মণি সিংহ কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যপদ পান। ১৯৫১ সালে পার্টির দ্বিতীয় সম্মেলনে তিনি সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৬৫ সালে তৃতীয় সম্মেলনে তিনি আবারও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৬৮ সালে পার্টির চতুর্থ সম্মেলন যেটি পার্টির প্রথম কংেগ্রেস হিসেবে ঘোষণা করা হয়, এই কংগ্রেসে তিনি কেন্দ্রিয় কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন, সেইসময় তিনি জেলে ছিলেন। । ১৯৭৩ সালে অনুষ্ঠিত পার্টির দ্বিতীয় কংগ্রেসে তিনি পার্টির সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে নির্মমভাবে স্বপরিবারে হত্যা করা হয়।

শুরু হয় সামরিক জান্তাদের ক্যু পাল্টা ক্যু। জেনালের জিয়া তার ক্ষমতাকে নিরাপদ করতে ১৯৭৭ সালেই কমরেড মণি সিংহকে কারাগারে অন্তরীন করে। ১৯৮০ সালে তৃতীয় কংগ্রেসে তিনি আবার সভাপতি নির্বাচিত হন। প্রবাদতুল্য নেতা কমরেড মনি সিংহ ৮৪ বয়স পর্যন্ত সক্রিয়ভাবে পার্টির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৪ সালে ২৩ ফেব্রæয়ারি তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন। ১৯৯০ সালের ৩১ ডিসেম্বর সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে হাজংদের বেটা, উপমহাদেশের লাল ঝান্ডার অন্যতম স্থাপক, কৃষক-শ্রমিক মেহনতি মানুষের প্রিয় নেতা, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট আন্দোলনের পথিকৃৎ, মুক্তিযুদ্ধের সফল সংগঠক, আমাদের প্রিয় বড়ভাই কমরেড মণি সিংহ মহাপ্রয়ান করেন।

জাতীয় জীবনে অসাধারণ অবদান রাখার জন্য কমরেড মণি সিংহ ২০০৪ সালে ‘স্বাধীনতা পদকে” ভূষিত হন।

কমরেড মণি সিংহ বলতেন, “শ্রমিক-কৃষক তথা মেহনতি জনগনের অর্থনৈতিক মুক্তি ছাড়া রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্থহীন। আর অর্থনৈতিক মুক্তির একটিই পথ, সে পথ হলো সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা।” তাই আজো কমরেড মণি সিংহ শোষিত মানুষদের সংগ্রামের প্রেরনার উৎস।

কিংবদন্তি কমরেড মণি সিংহ, জন্মদিনে তোমাকে জানাই বিপ্লবী লাল সালাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published.