এ বাজেট সাধারণ মানুষের স্বার্থের বিরুদ্ধে চরম আঘাত: কমরেড সেলিম

প্রস্তাবিত বাজেট সম্পর্কে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সভাপতি কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেছেন, প্রস্তাবিত বাজেট কেবল খামখেয়ালিপূর্ণ এবং গতানুগতিকই নয়। এ বাজেট সাধারণ মানুষের স্বার্থের বিরুদ্ধে চরম আঘাত। করোনার হামলার মধ্যেই সরকার মানুষের ওপর বাজেটের হামলা করেছে।

প্রস্তাবিত ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট প্রসঙ্গে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাতে আজ (১৫ জুন) ভার্চুয়াল মাধ্যমে সিপিবির সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন কমরেড সেলিম।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন সিপিবির সাধারণ সম্পাদক কমরেড মোহাম্মদ শাহ আলম। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সিপিবির সহকারী সাধারণ সম্পাদক কমরেড কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন। সংবাদ সম্মেলনটি সঞ্চালনা করেন সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য কমরেড অনিরুদ্ধ দাশ অঞ্জন।

সংবাদ সম্মেলনে কমরেড সেলিম আরও বলেন, মহামারী পরিস্থিতিতে এই বাজেটে সরকার সাধারণ মানুষের স্বার্থের কথা একটুও বিবেচনায় নেয়নি। আজকের পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যখাত সবচেয়ে বড় বরাদ্দের দাবি রাখে। আমরা বলেছিলাম, বাজেটের ১৫ শতাংশ বা জিডিপির ৪ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ দিতে হবে। সরকার তার ধারে কাছে যায়নি। সরকারের প্রস্তাবিত বাজেট দেখে মনেই হয় না যে, দেশে এবং সারা দুনিয়ায় একটা মহামারী চলছে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে সিপিবি সভাপতি বলেন, বাজেট উত্থাপনের আগে সিপিবি যে সুপারিশমালা দিয়েছিল, প্রস্তাবিত বাজেটে সেসব সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষিত হয়েছে। বিগত সব বাজেটেরই মৌলিক বিষয় হচ্ছে ধনীকে আরো ধনী এবং গরিবকে আরও গরিব করা। এবারের বাজেট তার সামান্য ব্যাতিক্রম নয়। সরকারের দর্শন হলো গরিবের কাছ থেকে টাকা নিয়ে লুটেরা-ধনিক শ্রেণির জন্য তা ব্যয় করা। বাজেটে আয়ের উৎস প্রধানত পরোক্ষ কর অর্থাৎ টাকা আদায় করা হবে মূলত সাধারণ মানুষের কাছ থেকে। অন্যদিকে আবার ব্যক্তি ও কর্পোরেট শ্রেণির প্রত্যক্ষ করের হার কমানো হয়েছে। কালো টাকা বাজেয়াপ্ত করলে এবং পাচার হয়ে যাওয়া টাকা ফিরিয়ে আনলে অন্তত তিন বছর বাজেটে অর্থের অভাব হবে না।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কমরেড শাহ আলম বলেন, সরকার মুক্তবাজার অর্থনীতির দর্শন থেকে বিন্দুমাত্র সরে আসতে পারেনি। ফলে করোনা মহামারীকালীন সময়ে মানুষের জীবন ও জীবিকা বাঁচানোর জন্য যে বাজেট হওয়া দরকার ছিলে, তার পরিবর্তে সরকার প্রবৃদ্ধির গেঁড়াকলে আটকে আছে।

সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, সরকার সিপিবিসহ দেশের আপামর মানুষের আকাংখা পদদলিত করে ৯৯%-এর স্বার্থের বদলে ১%-এর স্বার্থে আমলাতন্ত্রের সাজানো গতানুগতিক ধারার গরিব মারার বাজেট ঘোষণা করেছে। প্রস্তাবিত বাজেট প্রকৃতপক্ষে সাম্রাজ্যবাদ ও ১% লুটেরা ধনিক শ্রেণির স্বার্থরক্ষার গণবিরোধী দলিল। করোনা মহাবিপর্যয়কালে মানুষকে বাঁচানোর জন্য স্বাস্থ্যখাতের প্রাধান্য পাওয়ার জনআকাক্সক্ষা উপেক্ষিত হয়েছে ঘোষিত বাজেটে।

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, করোনা মহাবিপর্যয় গোটা পৃথিবীর ক্ষেত্রে আবার প্রমাণ করে দিয়েছে, নিওলিবারেল মুক্তবাজার অর্থনীতি আপামর জনতার স্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ। আমাদের দেশে সেই যুগের অবসান ঘটানোর সময় এসে গেছে। করোনা মহামারীর মহাদুর্যোগের মাঝে দাঁড়িয়ে আজ আর সময় নষ্ট করার সুযোগ নেই। বাঁচতে হলে যে নীতি-দর্শনের আলোকে এতদিন বাজেট প্রণীত হয়েছে, তা আমূল বদলে দেয়া ব্যতীত ভিন্ন কোনো পথ নাই।

সংবাদ সম্মেলন থেকে লুটেরাদের স্বার্থের বাজেট বাতিল করে, স্বাস্থ্য-শিক্ষা-কৃষি- কর্মসংস্থানকে প্রাধান্য দিয়ে ৯৯ শতাংশের জন্য বাজেট প্রণয়ন করার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানানো হয়।