এসসিও’র সদস‍্য রাষ্ট্রসমূহের সমরখন্দ ঘোষণায় স্বাক্ষর

অনুবাদ: বিপ্লব রঞ্জন সাহা

সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) -এর সদস‍্য দেশসমূহের নেতৃবৃন্দ (২৩ সেপ্টেম্বর)) এসসিও-এর রাষ্ট্র প্রধানদের কাউন্সিলের সমরখন্দ ঘোষণায় স্বাক্ষর করেছেন ও তা প্রকাশ করেছেন।

এসসিও-এর রাষ্ট্র প্রধানদের কাউন্সিলের ২২তম সভা বৈশ্বিক খাদ‍্য নিরাপত্তা রক্ষা করা, আন্তর্জাতিক শক্তি নিরাপত্তা রক্ষা করা, জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক, এবং একটি নিরাপদ, স্থিতিশীল ও বহুমুখী সরবরাহ চেইন বজায় রাখার ব‍্যাপারে কিছু সংখ‍্যক বিবৃতি ও দলিলও প্রকাশ করেছে।

ঘোষণায় বলা হয়েছে যে, আজকের পৃথিবী বৈশ্বিক পরিবর্তনের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে এবং দ্রুত বিকাশ ও বিশাল রূপান্তরের এক নতুন যুগে প্রবেশ করেছে যার প্রবনতা হলো মাল্টি-পোলার বিশ্বের অভিমুখে চলা যেখানে পৃথিবীর দেশসমূহের ক্রমবর্ধিষ্ণু পারস্পরিক নির্ভরশীলতা, তথ‍্যায়ন ও ডিজিটালাইজেশন জোরদার হচ্ছে।

ঘোষণায় বলা হয়েছে, ইতোমধ্যে চলমান আন্তর্জাতিক চ‍্যালেঞ্জ ও হুমকিসমূহ আরও জটিলাকার ধারণ করছে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে এবং আঞ্চলিক সংঘাত ও সংকটের উত্থান ঘটছে ও জোরালো হচ্ছে।

সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন সনদের নীতিমালার উপর ভিত্তি করে, সদস‍্য রাষ্ট্রসমূহ আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিষয়গুলোর সমাধানে দলাদলি এবং মতাদর্শগত ও মুখোমুখি অবস্থানে আসার বিরোধিতা করে এবং প্রথাগত ও অপ্রথাগত ক্ষেত্রে নিরাপত্তা হুমকি ও চ‍্যালেঞ্জগুলোর ব‍্যাপারে সহযোগিতার অনুগামী হয়ে লেগে আছে। এসসিও সদস‍্য রাষ্ট্রসমূহের দৃষ্টিভঙ্গিকে বিবেচনায় নিয়ে, ঘোষণাটি পুনঃনিশ্চিত করেছে যে পারস্পরিক সম্মান, সততা ও সুবিচারের পাশাপাশি ‘উইন-উইন’নীতিভিত্তিক সহযোগিতাকে সমন্বিত করে একটি নতুন ধরনের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং মানব জাতির অংশীদারিত্বমূলক ভবিষ্যতের জন‍্য একটি যৌথ প্রয়াস অত‍্যন্ত বাস্তব গুরুত্বের বিষয়।

স্বাধীনভাবে তাদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের নিজস্ব পথ বাছাই করার ক্ষেত্রে সকল দেশের জনগণের অধিকারের প্রতি সম্মান দেখাতে সদস‍্য রাষ্ট্রগুলো যৌথভাবে দাঁড়ায়। তারা জোর দিয়েছে যে সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা, আঞ্চলিক অখণ্ডতা, সমতা ও পারস্পরিক মুনাফা, আভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং শক্তি বা শক্তির হুমকি প্রয়োগ না করার জন‍্য পারস্পরিক সম্মানের নীতিমালা হলো টেকসই উন্নয়নের জন‍্য আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভিত্তি।

তারা পুনঃর্নিশ্চিত করে যে আলাপ আলোচনা ও সংলাপের ভেতর দিয়ে বিভিন্ন দেশের মধ‍্যকার বিভেদ ও দ্বন্দ্বের সমাধান হওয়া উচিত।

সদস‍্য রাষ্ট্রগুলো সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনের সদস‍্য রাষ্ট্রগুলোর মধ‍্যেকার দীর্ঘমেয়াদী সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক, বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা চুক্তিতে স্বাক্ষর প্রদানের ১৫তম বার্ষিকের গুরুত্বের উপর জোর দেয়।

সদস‍্য রাষ্ট্রসমূহের নেতৃবৃন্দ ২০২৩-২০২৭ মেয়াদকালের জন‍্য দীর্ঘমেয়াদী সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক, বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার উপর এসসিও চুক্তির বাস্তবায়নের জন‍্য সর্বাঙ্গীন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

সদস‍্য রাষ্ট্রসমূহ সন্ত্রাসবাদ, বিচ্ছিন্নতাবাদ ও চরমপন্থাকে মোকাবেলা করতে তাদের অবিচল অঙ্গীকার পুনঃর্নিশ্চিত করেছে। তারা সুনির্দিষ্ট করে যে সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থার অজুহাতে অন‍্য দেশের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ এবং সন্ত্রাসী, চরমপন্থী ও মৌলবাদীদেরকে ব‍্যবহার করা অনাকাঙ্ক্ষিত।

সদস‍্য রাষ্ট্রসমূহ বলেছে যে, ডিজিটাল পার্থ্যক্য দূর করার লক্ষ্যে সেতুবন্ধন সৃষ্টি করার উদ্দেশ‍্যে ডিজিটাল শিক্ষার ক্ষেত্রে তাদের জাতীয় কর্তৃপক্ষের মধ‍্যে সহযোগিতাকে তারা শক্তিশালী করবে।

তথ‍্য প্রবাহের ক্ষেত্রে হুমকি মোকাবেলায়, সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান ও অন‍্য দেশের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার ভিত্তিতে একটি নিরাপদ, যথাযথ ও খোলামেলা তথ‍্য প্রবাহ সৃষ্টির আহ্বান জানিয়ে সদস‍্য রাষ্ট্রগুলো জাতিসংঘের প্রধান ভূমিকার উপর জোর প্রদান করেছে।

তথ‍্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সামরিকায়নের তীব্র বিরোধিতা প্রকাশ করেছে তারা। সদস‍্য রাষ্ট্রগুলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহ্বান জানিয়েছে যাতে জাতিসংঘ তাদের কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে।

অবৈধ মাদক পাচার ও পাচারকারীদের মোকাবেলা করার জন‍্য একটি সাধারণ ও ভারসাম‍্যপূর্ণ অবস্থান গঠনের গুরুত্বের উপর সদস্য রাষ্ট্রসমূহ জোর দেয় এবং আন্তর্জাতিক মাদক নিয়ন্ত্রণ সম্মেলন ও অন‍্যান‍্য প্রাসঙ্গিক আইনি দলিলপত্রের গুরুত্বকে বিশেষভাবে চিহ্নিত করেছে।

যেসব সদস্য রাষ্ট্র পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে তারা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ যে, আন্তর্জাতিক পারমাণবিক বিস্তার রোধ কালপর্বকে সংহত ও চুক্তির শর্তগুলোর সাথে তাদের সম্মতিকে জোরদার করবে।

সদস‍্য রাষ্ট্রগুলো মহাকাশের সামরিকায়ন প্রতিহত করাকে সমর্থন করে। তারা জীবাণু অস্ত্র সম্মেলনের (বিডব্লিউসি) সাথে দৃঢ় সম্মতি ব‍্যক্ত করে এবং চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী সকলকে রাসায়নিক অস্ত্র সম্মেলনে (সিডব্লিউসি) গৃহীত দলিলাদি পরিপূর্ণভাবে কার্যকর করার আহ্বান জানায়।

সদস‍্য রাষ্ট্রসমূহ বলেছে যে, আঞ্চলিক দ্বন্দ্বের একমাত্র সমাধান সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত নীতিমালা ও আন্তর্জাতিক আইনের নমুনার প্রতি আনুগত্যের ভিত্তিতে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উপায়ে হবে।

তারা বলেছে যে, অতি দ্রুততার সাথে আফগানিস্তানের পরিস্থিতির সমন্বয় হলো এসসিও অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে রক্ষা ও সংহত করার অন‍্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

আফগানিস্তান একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ, ঐক্যবদ্ধ, গণতান্ত্রিক এবং শান্তিপূর্ণ দেশ হোক, এমনটাই সমর্থন করে এসসিও ভূক্ত রাষ্ট্রসমূহ এবং দেশটি সন্ত্রাস, যুদ্ধ ও মাদক থেকে মুক্ত থাকুক।

১৬ সেপ্টেম্বর ২০২২-এ সমরখন্দে এসসিও’র শীর্ষ সম্মেলনকালে এসসিও’র সদস‍্য রাষ্ট্রগুলোর নেতৃবৃন্দ ইরানের এসসিও সদস‍্যপদ প্রাপ্তির উপর নিষেধাজ্ঞার স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করেন।

সদস‍্য রাষ্ট্রগুলো বেলারুশের প্রবেশাধিকারের জন‍্য প্রক্রিয়া শুরুর ব‍্যাপারে সিদ্ধান্তের গুরুত্বের উপর জোর দেয়।

সদস‍্য রাষ্ট্রগুলো সন্তুষ্টচিত্তে ঘোষণা করে যে, এই শীর্ষ সম্মেলনে তারা একটি বিষয়ে একমত হয়েছে যে, বাহরাইন, মালদ্বীপ, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত এবং মায়ানমারকে এই সংস্থাটির নতুন আলোচনা-অংশীদার করা হবে।

সদস‍্য রাষ্ট্রসমূহ বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিচালনা ব‍্যবস্থাকে উন্নত করার কাজ অব‍্যাহত রাখার গুরুত্বের ব‍্যাপারে পুনঃর্নিশ্চিত করে।

তারা বিভিন্ন ধরনের আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা চালিয়ে যাওয়ার পক্ষাবলম্বন করে এবং উদ্ভাবন, বাণিজ‍্য, দারিদ্র্য বিমোচন ও প্রথাগত ঔষধের উপর টাস্কফোর্স গঠন করার বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

সদস‍্য রাষ্ট্রগুলো বলেছে যে, তারা ডিজিটাল অর্থনীতিতে সহযোগিতা শক্তিশালীকরণ অব‍্যাহত রাখবে। দক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবহন ও প্রযুক্তি অবকাঠামো গড়ে তোলার উদ্দেশ‍্যে, তারা এসসিও সদস‍্য রাষ্ট্রগুলোর অবকাঠামো উন্নয়নের জন‍্য একটি দলিল গ্রহণ করেছে। আন্তর্জাতিক শিল্প ও সরবরাহ চেইন স্বচ্ছন্দ করার জন‍্য সংশ্লিষ্ট দেশগুলো সরবরাহ চেইনের স্থিতিশীলতা ও বহুমুখীনতা ধরে রাখার ব‍্যাপারে একটি বিবৃতি তৈরি করেছে।

সদস্য রাষ্ট্রগুলো বলেছে, তারা এসসিও ফ্রেমওয়ার্কের মধ‍্যে শিল্প ও সেক্টর ভিত্তিক সহযোগিতা অব‍্যাহত রাখবে এবং সদস‍্য দেশগুলোর মধ‍্যে জ্বালানীশক্তি খাতে সহযোগিতা গভীরতর করবে। তারা পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে, খাদ‍্য নিরাপত্তা শক্তিশালী করতে, এবং কোভিড-১৯ মহামারির রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাবকে যৌথভাবে সামাল দিতে সহযোগিতা অব‍্যাহত রাখবে।

সদস‍্য রাষ্ট্রসমূহ যৌথ দুর্যোগ মোকাবেলায় ত্রাণ, উদ্ধার তৎপরতা, শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, নারী, সংস্কৃতি, পর্যটন, প্রচার মাধ‍্যম এবং খেলাধুলার মতো ক্ষেত্রগুলোতে তাদের সহযোগিতা শক্তিশালী করার প্রচেষ্টা অব‍্যাহত রাখবে।

সদস‍্য রাষ্ট্রগুলো ২০২১ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত এসসিও’র আবর্তিত সভাপতিত্বের দায়িত্ব পালনে উজবেকিস্তানের অর্জনের ব‍্যাপারে ভূয়সী প্রশংসা করে।

ভারত এসসিও’র পরবর্তী আবর্তিত সভাপতির আসন অলংকৃত করবে এবং ২০২৩ খ্রিস্টাব্দে এসসিও’র সরকার প্রধানদের নিয়ে কাউন্সিলের পরবর্তী সভা আয়োজন করবে বলেও ঘোষণা করা হয়েছে।

এসসিও’র সরকার প্রধানদের বর্তমান কাউন্সিল আন্তর্জাতিক খাদ‍্য নিরাপত্তা রক্ষা করার ব‍্যাপারে একটি বিবৃতি প্রদান করে। বিবৃতিতে বলা হয়, খাদ‍্য নিরাপত্তা অর্জন হলো টেকসই উন্নয়নের জন‍্য ইউএন ২০৩০ এজেন্ডার অন‍্যতম লক্ষ‍্য এবং সকল দেশের জন‍্য অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সামাজিক স্থিতিশীলতা ও জাতীয় নিরাপত্তার মৌলিক ভিত্তি।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নেতৃবৃন্দ জাতিসংঘের কেন্দ্রীয় ভূমিকাকে সমর্থন করে, ইউএন ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচার অর্গানাইজেশন, ইন্টারন‍্যাশানাল ফান্ড ফর এগ্রিকালচার ও ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামের কর্মসূচীকে সমর্থন করে।

এটিতে আরো বলা হয়েছে যে, নেতৃবৃন্দ কৃষিতে বাণিজ্য পরিবেশ উন্নত করা, শিল্পোৎপাদন ও কৃষি পণ‍্য প্রক্রিয়াকরণ খাতে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্যের উন্নয়নের প্রস্তাব করেছে।

নেতৃবৃন্দ বৃহৎ খাদ‍্য উৎপাদক এবং উদ্বৃত্ত রপ্তানিকারক দেশগুলোর রপ্তানি সক্ষমতা মুক্ত করা ও শুল্কযুক্ত ও শুল্কমুক্ত বাণিজ্যের বাধাসমূহ হ্রাস করা, বাজার সরবরাহের চাপ মুক্ত করা, আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ‍্য সামগ্রীর দামের অসঙ্গত উঠা নামা এড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, একতরফা বাধানিষেধ, যেগুলো আন্তর্জাতিক আইনের সাথে সাংঘর্ষিক এবং সেসবের অতিরাষ্ট্রিক ব‍্যবহার অপ্রত্যাশিত বলে নেতৃবৃন্দ বিবেচনা করেছে। অন‍্যান‍্য বাধানিষেধ যা আন্তর্জাতিক খাদ‍্য সামগ্রীর দাম উঠানামায় প্রভাব বিস্তার করে এবং খাদ‍্য সামগ্রীকে শক্তির উৎস হিসেবে ব‍্যবহার হ্রাসের আহ্বান জানাচ্ছে।

এসসিও’ভূক্ত রাষ্ট্র প্রধানদের কাউন্সিল আন্তর্জাতিক জ্বালানী শক্তি নিরাপত্তা রক্ষাকল্পে একটি বিবৃতি প্রদান করেছে।

এটিতে বলা হয়েছে, নেতৃবৃন্দ জোর দিয়েছে যে সহজলভ‍্য, আস্থাযোগ‍্য, টেকসই এবং আধুনিক জ্বালানী-শক্তির দিকে সার্বজনীন প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা হলো, ইউএন ২০৩০ এজেন্ডা ফর সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট-এ সপ্তম লক্ষ‍্য হিসেবে তালিকাভুক্ত।

এটিতে বলা হয়েছে, নেতৃবৃন্দ জোর দিয়েছে যে সকল দেশের জন‍্য জ্বালানী-শক্তি নিরাপত্তার অধিকার এবং সকল দেশের জনগণের শক্তি ব‍্যবহারের অধিকারকে সম্মান ও নিশ্চিত করা উচিত। এটিতে বলা হয়েছে, নেতৃবৃন্দ বৈশ্বিক উন্নয়ন উদ‍্যোগ ও চীনের প্রস্তাবিত বৈশ্বিক নিরাপত্তা উদ‍্যোগকে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং এসসিও ফ্রেমওয়ার্কের ভেতরেই যৌথভাবে জ্বালানী-শক্তি নিরাপত্তাকে নিশ্চিত করার উপর সহযোগিতাকে সমর্থন করেছে।

এসসিও’র রাষ্ট্র প্রধানদের কাউন্সিল জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলার উপর একটি বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছে।

বিবৃতিটি জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে ইউনাইটেড ন‍্যাশনস ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশনের উপর ভিত্তি করে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারিত করার গুরুত্বের উপর জোর দিয়েছে।

এটিতে বলা হয়েছে, সদস‍্য রাষ্ট্রগুলো একমত যে প‍্যারিস চুক্তির বাস্তবায়ন হয়েছে নীতিমালার উপর এবং সাধারণ অথচ পৃথকীকৃত দায়িত্বশীলতা ও স্ব স্ব সক্ষমতার ভিত্তিতে।

২০২৫ সালকে আন্তর্জাতিক হিমবাহ সংরক্ষণের বছর হিসেবে নামকরণ করার ব‍্যাপারে তাজিকিস্তানের প্রস্তাবকে সদস‍্য রাষ্ট্রগুলো সমর্থন করে। এসসিও ভূক্ত রাষ্ট্র প্রধানদের কাউন্সিল সরবরাহ চেইনের নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও বহুমুখীনতাকে রক্ষা করার উপরে একটি বিবৃতিও প্রকাশ করেছে।

বিবৃতিতে মহামারিসহ বৈশ্বিক চ‍্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, নেতৃবৃন্দ আঞ্চলিক অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও সব দেশের পুনরুদ্ধারের লক্ষ‍্যকে সামনে রেখে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরো গভীর করার উপায় খুঁজছে।

বিবৃতিতে লজিস্টিকের জন‍্য অবকাঠামো বিনির্মাণকে জোরদার করা, বাণিজ‍্য বাধাসমূহ কমানোর প্রচেষ্টা গ্রহণ এবং বাণিজ‍্য প্রক্রিয়ার সহজীকরণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

এটিতে অবিরাম স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্য নিষ্পত্তিতে পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারিত করা, ই-কমার্স উন্নয়নের জন‍্য পরিবেশ সৃষ্টি করা, স্ব স্ব ই-কমার্সের সম্ভাবনাকে পরখ করে দেখতে এসসিও সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ‍্যে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি আকারের উদ‍্যোগকে সমর্থন করা, উচ্চ পর্যায়ের শিল্প চেইন প্রতিষ্ঠার সহযোগিতাকে শক্তিশালী করা এবং ডিজিটাল অর্থনীতি ও সবুজ টেকসই উন্নয়নে বিনিয়োগ সহযোগিতাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

সূত্র: জিনহুয়া, সমরখন্দ, উজবেকিস্তান, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২২

অনুবাদক: সহযোগী অধ্যাপক, ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ, ঢাকা মহানগর মহিলা কলেজ; সদস্য, বাঙলাদেশ কমিউনিস্ট কর্মীসংঘ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.