এশিয়ার উন্নয়নশীল অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে ধীরগতি

করোনাভাইরাসের বিপর্যয় কাটিয়ে উন্নত অর্থনীতির দেশগুলো ঘুরে দাড়াতে পারলেও এশিয়ার উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলোর চিত্র ভিন্ন।

এপির একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কভিডের অতি সংক্রামক ডেল্টার প্রাদুর্ভাবের কারণে এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। ফলে সহসাই প্রাক-মহামারী পর্যায়ে ফিরছে না এ অঞ্চলের অর্থনীতি।

দৈনিক বণিকবার্তা (অনলাইন) –এর এক প্রতিবেদনে আজ এসব খবর পরিবেশন করা হয়।

চলতি বছর এশিয়ার উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলো ৭ দশমিক ১ শতাংশ বাড়বে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আঞ্চলিক ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানটি। পরের বছর ২০২২ সালে এ প্রবৃদ্ধির হার হবে ৫ দশমিক ৪ শতাংশ। এর আগে গত এপ্রিলে ম্যানিলাভিত্তিক সংস্থাটি ২০২১ সালে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ এবং ২০২২ সালে ৫ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিল।

এডিবির অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ২০২২ সালের মধ্যে বেশির ভাগ আঞ্চলিক অর্থনীতি প্রাক-মহামারী স্তরের নিচে থাকবে এবং এ স্বাস্থ্য সংকটের কিছু ক্ষতি দীর্ঘস্থায়ী হবে। ব্যাংকটির ভারপ্রাপ্ত প্রধান অর্থনীতিবিদ জোসেফ জেভগ্লিচ একটি অনলাইন ব্রিফিংয়ে বলেন, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য ব্যবসা ও পরিবারগুলোকে সহায়তা অব্যাহত রাখা খুব গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এ বছর চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৮ দশমিক ১ শতাংশই রয়েছে। তবে আগামী বছর প্রবৃদ্ধি কমে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অথচ এ দেশেই ২০১৯ সালের শেষ দিকে প্রথম কভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছিল। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে দেশটির জিরো টলারেন্স নীতি প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাপন অনেকটা স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করেছে। তবে এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশের মতোই চীনও অভ্যন্তরীণ ভ্রমণকে নিরুৎসাহিত করছে এবং খুব কম আন্তর্জাতিক ভ্রমণের অনুমতি দিচ্ছে।

২০২০ সালে মারাত্মক সংকোচনের প্রভাব সত্ত্বেও চলতি বছর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অর্থনীতি ৩ দশমিক ১ শতাংশ বাড়বে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। এডিবি আশা করছে, ২০২২ সালে এ অঞ্চলের অর্থনীতি ৫ শতাংশ বাড়বে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টিকাদান কার্যক্রমের গতি বাড়ানো খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি মহামারীর পুরো গতি-প্রকৃতি পরিবর্তনে সহায়তা করতে পারে।

এডিবি সরকারকে কৃষি আয় ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে আরো পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে, যা এ অঞ্চলের দারিদ্র্য বিমোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মহামারীটি উন্নয়নশীল এশিয়ার সাড়ে সাত কোটি থেকে আট কোটি মানুষকে চরম দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দিয়েছে। এ কারণে বেড়েছে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা। এশিয়ার ২৯ কোটি ১০ লাখ মানুষের মধ্যে প্রায় তিন-চতুর্থাংশ নতুন করে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে পড়েছে, যাদের বেশির ভাগের বসবাস বাংলাদেশ, ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও পাকিস্তানে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.