এই উন্নয়ন শোষণ-বৈষম্যের আর লুটপাটের: শাহ আলম

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম বলেছেন, এই উন্নয়ন শোষণ আর বৈষম্যের উন্নয়ন, লুটপাটের উন্নয়ন।

কমরেড মো. শাহ আলম বলেন, ’১৯৯০ সালে স্বৈরাচার এরশাদের পতনের পর আমরা আওয়ামী লীগকে সরকারে দেখছি। এর আগে আমরা বিএনপিকেও দেখেছি। জামায়াতকে আমরা ১৯৭১ সালেই দেখেছি। আওয়ামী লীগ-বিএনপিকে জনগণ ৩০ বছর দেখেছে। আমরা এখন আওয়ামী লীগ-বিএনপির বাইরে বিকল্প শক্তি গড়ার সংগ্রামে নেমেছি। জোট-মহাজোটের বাইরে বিকল্প জোট গড়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় যাবার সংগ্রামে নেমেছি। আমরা জানি এই পথে সংগ্রাম কঠিন তবে অনিবার্য। এই সংগ্রামে জয়ী হয়ে বামপন্থীরা ক্ষমতায় যাবেই।’

শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রামের লালদিঘী মাঠে কেন্দ্রঘোষিত বিভাগীয় জনসভায় সিপিবির সাধারণ সম্পাদক এসব কথা বলেছেন। ‘দুঃশাসন হটাও, ব্যবস্থা বদলাও, বিকল্প গড়ো’ দেশরক্ষা অভিযাত্রা কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই জনসভার আয়োজন করা হয়।

কমরেড শাহ আলম বলেন, ‘সামনে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। এইবছর আবার মুজিববর্ষও। মানুষের প্রশ্ন- ৫০ বছরে আমরা কি পেলাম ? আমরা পেয়েছি ঘুষ, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, দখলদারিত্ব, নারী নির্যাতন, দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতি। এই বাংলাদেশ আমরা চাইনি। আমরা চেয়েছিলাম শ্রমিক-কৃষক, মেহনতি মানুষের বাংলাদেশ। সরকার বলছে উন্নয়ন চান নাকি গণতন্ত্র চান ? আমরা কমিউনিস্টরা বলি, উন্নয়নও চাই, গণতন্ত্রও চাই। আমরা সরকারকে বলতে চাই, আপনারা কাদের উন্নয়ন চান ? এক শতাংশ জনগণের উন্নয়ন নাকি ৯৯ শতাংশের উন্নয়ন ? সিপিবি ৯৯ শতাংশ মানুষের উন্নয়ন চায়।’

‘সরকার এমন উন্নয়ন করছে, এই উন্নয়নে আজ এমএ পাশ করেও চাকরি নাই। ঘুষ ছাড়া, তদবির ছাড়া চাকরি নাই। এই উন্নয়ন শোষণ আর বৈষম্যের উন্নয়ন, লুটপাটের উন্নয়ন। ব্যাংকে-শেয়ারবাজারে লুটপাটের উন্নয়ন চলছে। যে উন্নয়ন গরীবকে আরও গরীব করে, সেই উন্নয়ন আমরা চাই না। লুটপাটের উন্নয়নের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।’

আওয়ামী লীগ জনগণকে ভয় পাচ্ছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘যে আওয়ামী লীগ পাকিস্তান আমলে গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছে, গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছে, জনগণের পক্ষ নিয়ে রাজপথে লড়াই-সংগ্রাম করেছে, তারা এখন জনগণকে ভয় পাচ্ছে। ভোটকে ভয় পাচ্ছে। আওয়ামী লীগের জন্ম রাজপথে। বিএনপির জন্ম সেনাছাউনিতে। এই দুই দলই লুটেরা-ধনী শ্রেণীর স্বার্থ রক্ষা করছে। আওয়ামী লীগ সরকার এখন সালমান রহমান আর লোটাস কামালের সরকার হয়ে গেছে।’

জনসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সিপিবির কেন্দ্রীয় সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম। সিপিবির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমন্বয়ক মৃণাল চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অশোক সাহার পরিচালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন প্রেসিডিয়াম সদস্য লক্ষ্মী চক্রবর্তী ও আবদুল্লাহ আল কাফী রতন, কক্সবাজার জেলার সাধারণ সম্পাদক নাসিরউদ্দিন আহমেদ, রাঙামাটির সাধারণ সম্পাদক অনুপম বড়ুয়া শঙ্কর, লক্ষ্মীপুরের সাধারণ সম্পাদক সুদেব শর্মা, কুমিল্লা জেলার সাধারণ সম্পাদক পরেশ কর, চাঁদপুরের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন মিয়াজী, ফেনীর সাধারণ সম্পাদক মহিবুল হক রাসেল, ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া জেলার সভাপতি সাজেদুল ইসলাম এবং নোয়াখালী জেলার সভাপতি শহীদ উদ্দিন বাবুল।

Leave a Reply

Your email address will not be published.