উপসাগরীয় অঞ্চল বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠছে

দুবাইয়ের মতো শহরগুলো এমনিতে গরম আবহাওয়ার জন্য পরিচিত। তবে সম্প্রতি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, শিগগির এ অঞ্চলের বেশ কিছু অংশ মানুষ বসবাসের পুরোপুরি অযোগ্য হয়ে উঠতে পারে। আর তার জন্য দায়ী জলবায়ু পরিবর্তন।

উপসাগরীয় অঞ্চলের শহরগুলোতে বছরের বেশ কয়েক মাস দৈনিক তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে থাকে এবং উচ্চ আর্দ্রতার কারণে এর তীব্রতা আরও বেড়ে যায়। গত মাসে জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক আন্তঃসরকার প্যানেল (আইপিসিসি) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তন যে গতিতে ঘটবে বলে আগে আশঙ্কা করা হয়েছিল, মনুষ্য কর্মকাণ্ডের কারণে তা আরও দ্রুত ঘটছে। এখনই দুবাইয়ের অনেক বাসিন্দা উত্তপ্ত মাসগুলোতে একটু ঠান্ডা আবহাওয়া পেতে অন্যত্র চলে যান। বাকিরা চেষ্টা করেন সারাক্ষণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে থাকার আর নিজেরা বাইরে না গিয়ে কোনো কিছু আনা-নেওয়ার জন্য ডেলিভারিম্যান ব্যবহারের।

সংযুক্ত আরব আমিরাত বিশ্বের অন্যতম শুষ্ক দেশ। কয়েক বছর ধরেই তারা উড়োজাহাজে করে ‘ক্লাউড সিডিং’য়ের মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে বৃষ্টিপাত ঘটানোর চেষ্টা করছে। বিশেষজ্ঞরা হুঁশিয়ার করেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এ অঞ্চল শিগগিরই কঠিন বিপদের মধ্যে পড়তে যাচ্ছে। ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির জলবিদ্যা ও জলবায়ু বিভাগের অধ্যাপক এলফাতিহ এলতাহির বলেন, এ শতাব্দীর শেষের দিকে উচ্চ তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার সঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চলের কিছু অংশ ‘হিট স্ট্রেস’-এর মুখোমুখি হবে, যা মানুষের বেঁচে থাকার সঙ্গে বেমানান। মানবশরীর ঘাম ছেড়ে ঠান্ডা হতে না পারলে তাপ ও আপেক্ষিক আর্দ্রতার সংমিশ্রণ প্রাণঘাতী হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বিজ্ঞানীরা হিসাব করে দেখেছেন, একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ ছায়ায় সীমাহীন পানীয়জল থাকা সত্ত্বেও মারা যাবে, যদি তথাকথিত ‘ওয়েট বাল্ব’ তাপমাত্রা (টিডব্লিউ) ছয় ঘণ্টার জন্য ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়।

দীর্ঘদিন যাবৎ ধরে নেওয়া হয়েছিল, এই তাত্ত্বিক সীমা কখনোই অতিক্রম করবে না। কিন্তু মার্কিন গবেষকরা গত বছর পৃথিবীর দুটি স্থানে খুব সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য হলেও একবার করে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস টিডব্লিউ অতিক্রম করতে দেখেছেন। স্থানগুলোর একটি সংযুক্ত আরব আমিরাতে, আরেকটি পাকিস্তানে। এমন বিপজ্জনক পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে দেশগুলোকে কার্বন নিঃসরণ কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, জীবাশ্ম জ্বালানি পৃথিবীকে ধ্বংস করে দিচ্ছে, আইপিসিসি প্রতিবেদনটি তারই ‘সতর্ক ঘণ্টি’।

সূত্র: সাপ্তাহিক একতা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.