উদীচীর বর্ষা উৎসব: কৃষক-শ্রমিকদের জন্য রেশন চালুর দাবি

বর্ষায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও কর্মহারা শ্রমিকদের জন্য রেশন চালুর দাবি জানিয়ে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী ‘বর্ষা উৎসব’ উদযাপন করেছে।

আজ (১৫ জুন), বুধবার সকালে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, ঢাকা মহানগর সংসদের উদ্যোগে এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।

উৎসবের আয়োজকরা বলেন শহুরে মধ্যবিত্ত শ্রেণির বৃষ্টিবিলাসের উদ্দেশ্যে বর্ষা উৎসবের আয়োজন নয়, ঋতুভিত্তিক এ অনুষ্ঠান আয়োজনের মধ্য দিয়ে গ্রাম-নগরের শ্রমজীবী মানুষের জীবন আরাধনাই উদীচীর লক্ষ্য। আয়োজকরা শ্রমজীবী মানুষের জীবন আরাধনার পাশাপাশি প্রাণ-প্রকৃতি ধ্বংস করে গড়ে ওঠা নানা প্রকল্প বাতিল, অপরিকল্পিত উন্নয়ন বন্ধ এবং দখল হওয়া নদ-নদী উদ্ধারের দাবিও জানান।

বর্ষা কথন পর্বে প্রধান কথক অধ্যাপক রতন সিদ্দিকী বলেন, বর্ষা জলে প্রাণ-প্রকৃতি শুদ্ধ হয়। বর্ষা তার সহজাত শক্তি নিয়েই জীবন, আচার, সংস্কৃতি ও সাহিত্য অধিকার করে থাকে। বর্ষার প্রথম বৃষ্টি যেমন খরতাপে মূষড়ে পড়া প্রকৃতিকে জাগিয়ে তোলে তেমনি সাংস্কৃতিক আন্দোলনের শক্তিও ঘুমন্ত মানুষকে জাগিয়ে তোলে সাম্য ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণে ভূমিকা রাখবে।

ঢাকা মহানগর উদীচীর সহ-সভাপতি হাবিবুল আলমের সভাপতিত্বে কথনপর্বে আলোচনা করেন উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি অধ্যাপক বদিউর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে। বর্ষাকথন উপস্থাপন করেন কেন্দ্রীয় সম্পাদকমন্ডলির সদস্য কবি রহমান মুফিজ। সঞ্চালনা করেন ঢাকা মহানগর উদীচীর সাধারণ সম্পাদক আরিফ নূর।

এর আগে সকাল ৭ টায় মেঘমল্লার রাগের ওপর জ্যোতি ব্যানার্জির সেতার বাদনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বর্ষা উৎসবের আয়োজন। এর পর সমবেত গান পরিবেশন করেন ঢাকা মহানগর সংসদ, উদীচী মিরপুর, বাড্ডা, লালবাগ, রায়েরবাজার ও সাভার শাখা।

নৃত্য পরিবেশন করেন উদীচী কাফরুল শাখা ও নৃত্যশিল্পী মুক্তা ঠাকুর। আবৃত্তি করেন অনন্যা লাবনী পুতুল, বেলায়েত হোসেন ও মিজানুর রহমান সুমন। একক গান করেন, বিজন চন্দ্র মিস্ত্রি, মেহেদী ফরিদ ও রেজাউল করিম টুলু।

পথনাটক ‘বরাক বাঁশ’ পরিবেশন করেন উদীচী ঢাকা মহানগর সংসদের নাটক বিভাগ। নাটকের নির্দেশনা দেন নাজমুল হক বাবু। সাংস্কৃতিক আয়োজন পরিচালনা করেন শিখা সেনগুপ্তা ও মিনহাজুল আবেদীন মৃদুল।

Leave a Reply

Your email address will not be published.