ঈদের আগে বেতন বোনাসের দাবিতে গার্মেন্ট টিইউসি’র শ্রমিক সমাবেশ

ঈদের আগে পূর্ণাঙ্গ বোনাস ও সকল বকেয়া পরিশোধের দাবিসহ চলতি মাস থেকে অন্তত ৫০ শতাংশ মহার্ঘ্য ভাতা চালু এবং অবিলম্বে মজুরি বোর্ড গঠন করে গার্মেন্ট শ্রমিকদের ন্যূনতম বেসিক মজুরি ২০ হাজার টাকা ঘোষণা করার দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র।

আজ (২৪ জুন ২০২২), শুক্রবার সকালে ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এ সকল দাবি উত্থাপন করেন।

গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি অ্যাড. মন্টু ঘোষের সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত শ্রমিক সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কার্যকরি সভাপতি কাজী রুহুল আমীন, সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার, কেন্দ্রীয় নেতা সাদেকুর রহমান শামীম, জিয়াউল কবির খোকন, কেএম মিন্টু, আজিজুল ইসলাম, বাড্ডা-রামপুরা-খিলগাঁও আঞ্চলিক কমিটির নেতা শাহীন আলম প্রমুখ।

সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, দ্রব্যমূল্যের চরম ঊর্ধ্বগতি এবং জীবন ব্যয়ের সীমাহীন বৃদ্ধির মুখে দাঁড়িয়ে গার্মেন্ট শ্রমিকদের পক্ষে আর কোনোভাবেই জীবনধারণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে দেশের গার্মেন্ট শ্রমিকরা বিভিন্ন শিল্প এলাকায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করছে। শ্রমিকদের এই চলমান আন্দোলন দমনে সরকার গ্রেফতার ও নির্যাতনের পথ বেছে নিয়েছে। নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, অবিলম্বে মজুরি বোর্ড গঠন করে শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি না করা হলে দমন-পীড়ন দিয়ে শিল্পের সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষা করা যাবে না।

নেতৃবৃন্দ বলেন, দ্রব্যমূল্যের চরম ঊর্ধ্বগতি ও বাড়ি ভাড়াসহ জীবন যাত্রার ব্যয় কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় গত প্রায় দুই বছর ধরে গার্মেন্ট শ্রমিকরা মজুরি বৃদ্ধির জন্য আন্দোলন করে আসছে। কিন্তু শ্রমিকদের বাঁচার মত মজুরির দাবির প্রতি সরকার ও মালিকপক্ষ কর্ণপাত করছে না।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশে সবচেয়ে বিলাসবহুল জীবন যাপন করেন গার্মেন্ট মালিকরা কিন্তু শ্রমিকদের পাওনার কথা আসলে তারাই সবচেয়ে বিত্তহীন হয়ে যান।

অথচ মালিকরা কেনা-কাটা ও ঈদ উদযাপনের জন্য কানাডা-আমেরিকা-মালয়েশিয়ায় পারি জমান। প্রতি বছর ঈদ উৎসবের সময় গার্মেন্ট শ্রমিকরা উৎসব বোনাস থেকে বঞ্চিত হয়। তারা বলেন, ঈদের আগে বেতন ও বোনাস পরিশোধ করা না হলে শ্রমিকদের অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দেয়া হবে।

নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, বেসিকের সমান বোনাসের দাবি অন্যান্য বছরের মত এবারও যদি সর্বত্র উপেক্ষিত হয় তাহলে উপযুক্ত জবাব দেয়া হবে। বক্তারা সংকট সৃষ্টির পূর্বেই সরকারি সংস্থাসমূহকে সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণের আহ্বান জানান।

সমাবেশ থেকে বলা হয়, আন্দোলন দমনের পথ পরিহার করে শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি মেনে নেয়ার মধ্য দিয়েই শিল্পে উৎপাদনের সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষা করতে হবে।

সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল কদম ফুল ফোয়ারা তোপখানা এলাকা ঘুরে পল্টন মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.