ই-কমার্সে গ্রাহকদের সুরক্ষা দেবে কে

ব্যস্ত নাগরিক জীবনে প্রতিদিনই বাড়ছে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের চাহিদা। প্রতিবছরই এর ব্যবসা বাড়ছে। আন্তর্জাতিক অনেক প্রতিষ্ঠান এখন এ খাতে বিনিয়োগ করছে। পাশাপাশি দেশীয় প্রতিষ্ঠান তো আছেই। করোনা মহামারির মধ্যে এ খাতের ব্যবসার আকার উল্লেখযোগ্য হারে বাড়েছে। এ ছাড়া ব্যস্ত নাগরিক জীবনে মানুষ যানজটের মতো ভোগান্তি এড়াতেও ই-কমার্সের দারস্থ হচ্ছে।

ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশে এই মূহুর্তে প্রায় সাড়ে ৭০০ প্রতিষ্ঠান ই-কমার্সের সঙ্গে যুক্ত। এই খাতে মাসে এখন প্রায় ৭০০ কোটি টাকা লেনদেন হচ্ছে। অর্থাৎ বার্ষিক লেনদেন এখন আট হাজার কোটি টাকার বেশি। এভাবে ব্যবসা বাড়তে থাকলে সামনের বছর এটি হবে ১৬ হাজার কোটি টাকার ব্যবসায় দাঁড়াবে বলে মনে করছেন অনেকেই।

তবে এ খাত নিয়ে অস্থিরতাও বাড়ছে। নানা প্রতারণার ফাঁদে পা দিচ্ছে মানুষ আর নিঃস্ব হচ্ছে। এরই মধ্যে দেশীয় কয়েকটি প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের বিপুল অংকের টাকা মেরে দিয়েছে। বিভিন্ন থানায় মামলা হয়েছে। ইভ্যালি, ইঅরেঞ্জের মতো প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান-এমডিকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ইঅরেঞ্জের সঙ্গে যুক্ত এক পুলিশ কর্মকর্তাকে নেপালে পালিয়ে যাওয়ার সময় ভারতীয় পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তিনি এখন ভারতের কারাগারেই আছেন।

এরই মধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বেশ কিছু অভিযোগ পেয়ে এ খাত নিয়ে পদক্ষেপ নিচ্ছে। কিন্তু এ ব্যবসায় একের পর এক প্রতারণা হচ্ছে, সেটা সরকারের চোখের সামনেই হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, লোভনীয় নানা রকম অফার দিয়ে গ্রাহকের কাছে পণ্য সরবরাহের আগেই অনেক ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান অর্থ নিচ্ছে এবং তা নিয়ে মানুষের হয়রানির অভিযোগ এসেছে। ইভ্যালিসহ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো লোভনীয় যে সব অফার দিচ্ছে, তাতে ঝুঁকি রয়েছে। এই বাজারে অসুস্থ প্রতিযোগিতার কারণে যেকোন সময় তাতে ধস নামতে পারে।

এরই মধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, যেখানে বলা হয়েছে, পণ্য গ্রাহকের হাতে পৌঁছানোর পরই ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান অর্থ পাবে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক তা নিয়ন্ত্রণ করবে।

সূত্র বলছে, চীনের ই-কমার্স জায়ান্ট আলিবাবা ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান দারাজ কিনে নিয়েছে। দারাজ শতভাগ বিদেশি বিনিয়োগে গড়ে উঠা প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আজকের ডিল, বাগডুম, প্রিয় শপ, রকমারি, পিকাবু এবং অথবা অন্যতম। পূর্ব ইউরোপের একটি বড় ই-কমার্স কোম্পানি কুভি সম্প্রতি বাংলাদেশে ঢুকেছে। আমাজন বাংলাদেশে আসার জন্য বেশ সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

এই অবস্থায়, এই খাতকে সম্প্রসারিত করতে হলে, বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা। এর মধ্যে রয়েছে, ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোকে মানুষের আস্থায় নিতে হবে। সেই বিশ্বাসযোগ্যতা তাদের অর্জন করতে হবে। নির্ভরযোগ্য ডেলিভারি ব্যবস্থা গড়ে তোলাও খুব জরুরি। আর তৃতীয়ত, পেমেন্ট সিস্টেম নিয়ে একটি যথাযথ ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.