ইসরায়েলের ‘পেগাসাস’ স্প্যাইওয়্যার: কী ও কিভাবে কাজ করে?

ইসরায়েলের একটি প্রতিষ্ঠান ‘পেগাসাস’ নামের একটি স্প্যাইওয়্যারের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মানবাধিকার কর্মী, রাজনীতিক, সাংবাদিক এবং আইনজীবীদের ফোনের ওপর গোপনে নজরদারী করছে বলে বিশ্বের বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

ইসরায়েলি কোম্পানি এনএসও গ্রুপের এই স্পাইওয়্যার কিনেছে যেসব ক্রেতা তারা ৫০ হাজার ফোনের ওপর গোপনে নজরদারী চালিয়েছে বলে খবরে বলা হচ্ছে।

লন্ডনের দ্যা গার্ডিয়ানসহ ১৬টি সংবাদমাধ্যম একযোগে এই তদন্তের ফলাফল প্রকাশ করেছে।

বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলের ‘পেগাসাস’ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা। আসুন ‘পেগাসাস’ নিয়ে কিছু দরকারি তথ্য জেনে নেওয়া যাক-

‘পেগাসাস’ কী?

‘পেগাসাস’ একটি শক্তশালী স্পাইওয়্যার।

ব্রিটিশ দৈনিক দ্যা গার্ডিয়ানের সূত্র অনুযায়ী, এটি তৈরি করেছে ইসরায়েলের একটি বেসরকারি কোম্পানি এনএসও গ্রুপের তৈরি একটি স্পাইওয়্যার।

আইওএস বা অ্যান্ড্রয়েড-চালিত ফোনের ওপর গোপনে নজরদারি চালানোর ক্ষমতা এই ম্যালওয়্যারটির রয়েছে।

দ্যা গার্ডিয়ান জানাচ্ছে, ২০১৬ সালে গবেষকরা পেগাসাসের সবচেয়ে প্রথম ভার্সনটির কথা জানতে পারেন।

সে সময় কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তির ফোনে টেক্সট মেসেজ বা ইমেইলে পাঠানো হতো, যাতে থাকতো একটি লিংক।

সেই লিংকে ক্লিক করলেই পেগাসাস ফোনের নিয়ন্ত্রণ দখল করে নিতো।

অবশ্য এরপর এনএসও গ্রুপ এই স্পাইওয়্যারের ক্ষমতাকে আরও বহুগুণ শক্তিশালী করেছে।

‘পেগাসাস’ কিভাবে কাজ করে? 

দ্যা গার্ডিয়ান-এর এক বিস্তারিত রিপোর্ট থেকে জানা যাচ্ছে, পেগাসাস যদি কোনভাবে একবার আপনার ফোনের মধ্যে ঢুকে যেতে পারে, তাহলে আপনার অজান্তে ম্যালওয়্যারটি আপনার ফোনকে ২৪ ঘণ্টার এক নজরদারির যন্ত্রে পরিণত করার ক্ষমতা রাখে।

আপনার ফোন থেকে আপনি যত মেসেজ বা ছবি পাঠান, কিংবা রিসিভ করুন, পেগাসাস তা কপি করে গোপনে পাচার করে। পাঠিয়ে দেয় নির্দিষ্ট জায়গায়।

এই স্পাইওয়্যারটি আপনার অগোচরে ফোনের কথাবার্তা রেকর্ড করতে পারে, এমনকি ফোনের ক্যামেরা ব্যবহার করে গোপনে আপনার ভিডিও রেকর্ড করতে পারে।

আপনি কোথায় আছেন, কোথায় গিয়েছিলেন, অথবা কার কার সাথে দেখা করেছেন, পেগাসাস সে সম্পর্কেও জানতে পারে বলে মনে করা হয়।

লক্ষ্য কারা?

‘পেগাসাস’ এর দ্বারা কারা ও কত জন হ্যাকিংয়ের শিকার হয়েছেন, তা এখনো পরিস্কার নয়। পূর্ণাঙ্গ তালিকাটি এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

তবে এই তদন্তের সাথে জড়িত সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, বিশ্বের ৫০টি দেশে অন্তত ১০০০ জনের নাম তারা জানতে পেরেছে।

এদের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, রাজনীতিক, ব্যবসায়ী, অধিকার কর্মী এবং আরব দেশের বেশ রাজপরিবারের কয়েকজন সদস্য।

সিএনএন, আল জাজিরা এবং নিউইয়র্ক টাইমসসহ ১৮০ জনেরও বেশি সাংবাদিকের নাম এই তালিকায় রয়েছে।

এই অবৈধ নজরদারীরর ঘটনা বেশিরভাগ ঘটেছে মূলত ১০টি দেশে: ভারত, আজারবাইজান, বাহরাইন, হাংগেরি, কাজাখস্তান, মেক্সিকো, রোয়ান্ডা, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত।

ভারতের নিউজ পোর্টাল দ্য ওয়্যার এই হ্যাকিংয়ের তালিকায় সে দেশের অন্তত ৩০০ রাজনীতিক, সাংবাদিক, অধিকার কর্মী, বিজ্ঞানীর নাম রয়েছে বলে জানিয়েছে।

তালিকায় এই পোর্টালের দু’জন প্রতিষ্ঠাতা সাংবাদিকের নামও রয়েছে বলে দ্য ওয়্যার জানাচ্ছে।

ইসরায়েল কি বলছে?

ম্যালওয়্যারটি বিক্রি করেছে যে ইসরায়েলী প্রতিষ্ঠান সেটি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

তারা বলছে, মানবাধিকার রেকর্ড ভাল এমন দেশের সামরিক বাহিনী, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং গোয়েন্দা বিভাগের কাছে তারা এই সফটওয়্যার বিক্রি করেছে।

তদন্তের অংশ হিসেবে যখন এসব দেশের সাথে যোগাযোগ করা হয় তখন তাদের মুখপাত্ররা পেগাসাস ব্যবহার এবং অবৈধভাবে নজরদারী চালানোর কথা অস্বীকার করেন।

উল্লেখ্য, পেগাসাস ব্যবহার করে কোন্ কোন্ দেশে কাদের ফোন হ্যাক করা হয়েছে তার বিস্তারিত তালিকা আগামী কয়েকদিনের মধ্যে প্রকাশ করা হবে বলে জানা যাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.