আসন্ন বাজেটে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবিতে ছাত্র ইউনিয়নের মানববন্ধন

আসন্ন জাতীয় বাজেটে শিক্ষাখাত ও স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবিতে নিরাপদ সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন।

মঙ্গলবার (১২ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনে ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক অনিক রায়ের সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি মেহেদী হাসান নোবেল।

মানববন্ধন থেকে আসন্ন বাজেটে শুধুমাত্র স্বতন্ত্রভাবে শিক্ষাখাতে মোট বাজেটের ১৮ শতাংশ বরাদ্দ এবং ক্রমান্বয়ে তিন বছরের মধ্যে ২৫ ভাগে রূপান্তরিত করার দাবি জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, শুধু সার্টিফিকেটমুখী শিক্ষা নয়, দরকার গবেষণামুখী শিক্ষা।

মানববন্ধনে ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মেহেদী হাসান নোবেল বলেন, আজকে এই করোনা পরিস্থিতি আমাদের সামনে অনেক সত্য উন্মোচন করে দিয়েছে। আজকে বাংলাদেশের মানুষ প্রশ্ন তোলা শুরু করেছে, হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করে কেনা সামরিক ট্যাংক আমাদের দরকার নাকি করোনা ভাইরাসের মতো দুর্যোগ মোকাবেলায় দেশের জনকল্যানমুখী গবেষণা ও স্বয়ং-সম্পূর্ণ হাসপাতাল দরকার।

তিনি বলেন, এই সময়ে সামরিক খাতের হাজার হাজার কোটি টাকার বরাদ্দের চাইতে বেশি দরকার শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করা, দেশে গবেষণা ও স্বাস্থ্যখাতের শক্ত পাটাতন তৈরী করা।

তিনি আরও বলেন, এজন্যই আসন্ন বাজেটকে সামনে রেখে আমরা দাবি জানাচ্ছি বাজেটের ১৮ ভাগ শিক্ষাখাতে বিনিয়োগ করতে হবে এবং করোনা পরবর্তী শিক্ষাব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে হবে। উচ্চশিক্ষাকে করতে হবে গবেষণামুখী।

সাধারণ সম্পাদক অনিক রায় বলেন, যখন বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে র‍্যাপিড টেস্ট বা প্রতিষেধক আবিস্কারের জন্য গবেষণা করেছে তখন বাংলাদেশে ছাত্র ইউনিয়নসহ আরো অংশীজনদের দাবির মুখে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো করোনা টেস্টের প্রক্রিয়া শুরু করার উদ্যোগ নিয়েছে মাত্র। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণাখাতের এই করুণ অবস্থার জন্য দায় সরকারকেই নিতে হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নসহ দেশের শিক্ষাবিদ, গবেষকদের দীর্ঘদিনের দাবি থাকা শর্তেও শিক্ষাখাতে বাজেট বাড়ায়নি সরকার। ইউনেস্কোর শিক্ষা দলিলে স্বাক্ষরিত দেশ হিসেবে মোট বাজেটের ২৫ ভাগ শিক্ষাখাতে বরাদ্দ দেয়া গেলে দেশের গবেষণাখাতকে শক্তিশালী করা যেতো।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ের সার্টিফিকেটমুখী শিক্ষাব্যবস্থা আর বরাদ্দের অভাবই দেশের ক্রান্তিকালে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণাগারকে অকেজো করে রেখেছে। এবারই ১৮ শতাংশ বরাদ্ধ করতে হবে এবং ক্রমান্বয়ে তিন বছরে ২৫ শতাংশে উন্নীত করতে হবে।

মানববন্ধনে ছাত্র ইউনিয়নের পক্ষ থেকে শিক্ষাখাত থেকে তথ্য-প্রযুক্তি ও শিক্ষণ-প্রশিক্ষণকে আলাদা করে পৃথক বরাদ্দের দাবি জানানো হয়। এসময় নেতৃবৃন্দ বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি এবং শিক্ষার্থীদের মেস ভাড়া মওকুফের দাবিও জানান।