আশুলিয়ায় চলন্ত বাসে ‘দলবদ্ধ-ধর্ষণে’র অভিযোগ; আটক ৬

সাভারের আশুলিয়ায় চলন্ত বাসে এক তরুণীকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণের অভিযোগে ছয় জনকে আটক করেছে পুলিশ। আশুলিয়া সিএন্ডবি বাইপাস সড়কে গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে দশটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

আশুলিয়া থানার তদন্ত কর্মকর্তা এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে চিৎকার শুনে টহল পুলিশ বাস থামিয়ে তাদের আটক করে। একই সঙ্গে তরুণীকে উদ্ধার ও বাসটি জব্দ করে পুলিশ।

ইতোমধ্যে ঘটনার শিকার তরুণীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে পাঠানো হয়েছে বলেও পুলিশ সূত্রে জানা যায়।

নিউ গ্রাম বাংলা পরিবহনের বাসের হেলপার ও সুপারভাইজার সহ ছয় জনকে এ ঘটনায় আটক করেছে পুলিশ। বাসটিও জব্দ করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- ঢাকার তুরাগ থানার গুলবাগ ইন্দ্রপুর ভাসমান গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে আরিয়ান (১৮), কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থানার তারাগুনা এলাকার আতিয়ারের ছেলে সাজু (২০), বগুড়ার দুপচাচিয়া থানার জিয়ানগর গ্রামের শামসুল মিয়ার ছেলে সাইফুল ইসলাম (৪০), একই জেলার ধুনট থানার খাটিয়ামারি এলাকার সুলতান মিয়ার ছেলে সুমন মিয়া (২৪), একই এলাকার তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে সোহাগ (২৫), নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানার ধামঘর এলাকার জহুর উদ্দিনের ছেলে মনোয়ার (২৪)।

তারা সবাই তুরাগ থানার কামারপাড়ায় ভাড়া বাসায় থেকে আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল-নবীনগর মহাসড়কে চলাচলরত পরিবহনে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন।

২২ বছর বয়সী এই তরুণী শুক্রবার রাতেই তাদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন।

পুলিশ বলছে ওই তরুণী মানিকগঞ্জে তার বোনের বাড়ি গিয়েছিলেন। সেখান থেকে শুক্রবার সন্ধ্যার পর ফিরতে গিয়েই এ ঘটনার শিকার হন তিনি।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে এর আগেও চলন্ত বাসে তরুণীকে দলবেঁধে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।

২০১৭ সালে একটি চলন্ত বাসে একজন তরুণীকে দলবদ্ধ-ধর্ষণের পর তাকে ঘাড় মটকে হত্যা করে রাস্তার পাশে ফেলে দেয়ার ঘটনা বাংলাদেশে মারাত্মক আলোড়ণ সৃষ্টি করেছিল।

প্রসঙ্গত, এর আগে ২০১৩ ভারতের দিল্লীতে চলন্ত বাসে নির্ভয়া হত্যাকাণ্ড ও ধর্ষণের ঘটনা বিশ্বজুড়ে আলোচনার ঝড় তুলেছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published.