আলোচনার ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত চান জেএনইউ’র ছাত্র-শিক্ষক

নয়াদিল্লি: জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তথাকথিত ‘হাই লেবেল কমিটি’র সুপারিশ মানতে অস্বীকার করল ছাত্রসংসদ। ২৫ নভেম্বর রাতে জারি করা কর্তৃপক্ষের ওই সুপারিশ খারিজ করেছে ছাত্রসংসদ। শুধু সুপারিশ নয়, গোটা প্রক্রিয়াকেই মানতে অস্বীকার করেছে ছাত্রসংসদ।

ছাত্রদের সিদ্ধান্তের সঙ্গে সহমত হয়েছে শিক্ষকদের সংগঠন জুনটাও। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রসংসদ স্পষ্ট ভাষায় বলেছে, যা সুপারিশ করার মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক সরাসরি জানাক। এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে পদত্যাগ করতেই হবে।

ব্যাপক ফি বৃদ্ধি এবং হোস্টেল ম্যানুয়াল সম্পূর্ণ বাতিলের দাবি জানিয়ে জেএনইউ’তে ছাত্র আন্দোলন বিরাট আকার নেয়। সেই প্রতিবাদে বেপরোয়া লাঠি চালায় বিজেপি সরকারের পুলিশ। এরপরে দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। চাপে পড়ে ফিস কাঠামো এবং হোস্টেল ম্যানুয়ালের বিষয় খতিয়ে দেখতে ‘হাই লেভেল কমিটি’ বানিয়ে ফেলে কর্তৃপক্ষ।

২৪ তারিখ এই কমিটি বানায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, পরের দিনই কমিটি সুপারিশ জানিয়ে দেয় এবং তা বেশিরাতে দেওয়ালে লটকেও দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদ জানিয়ে এদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংসদ এবং শিক্ষকদের সংগঠন দুটি পৃথক বিবৃতি দিয়েছে।

জেএনইউ ছাত্রসংসদের বক্তব্যের মূল কথা, এই কমিটির সুপারিশ মানছি না। ছাত্রসংসদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে ফিস কাঠামো এবং হোস্টেল ম্যানুয়াল নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। এদিকে নতুন সুপারিশ আগের যে ফি বৃদ্ধির কথা ঘোষণা করা হয়েছিল তার থেকে কম করা হয়েছে এবং বিপিএলদের জন্য ছাড়ের কথা বলা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে ছাত্রসংসদ বলেছে, এটা সম্পূর্ণ বাজে কথা। কর্তৃপক্ষ জানেই না কিভাবে এটা কার্যকরী করা হবে। উপাচার্য এক সাক্ষাতকারেও ঠিক এই কথাই বলেছিলেন যা সুপারিশ করা হয়েছে। বাস্তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে এমন কোনও পরিসংখ্যানই নেই যে কারা দারিদ্র্যসীমার নিচে। ২০০২সাল থেকে সরকার এমন কোনও তথ্যই রাখেনি যে কারা দারিদ্র্যসীমার নিচে। পাশাপাশি দারিদ্র্যসীমার নিচে কারা, তার মাপকাঠি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে ছাত্রসংসদ। বার্ষিক ২৭হাজার টাকাকে যে মাপকাঠি করা হচ্ছে, সেই নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে ছাত্রসংসদ। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগঠনও এই নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

তারা বলেছে, ফি বৃদ্ধির সমর্থনে তখন কর্তৃপক্ষ বলেছিল এটা বাস্তবোচিত এবং জরুরি। এখন হাই লেভেল কমিটির নামে যে সুপারিশ করে বর্ধিত ফি কিছুটা কমানো হচ্ছে, তাতে তো স্পষ্ট ফি বৃদ্ধি ‘বাস্তবোচিত এবং জরুরি’- কোনোটাই ছিল না।

তারা বলেছেন, ছাত্রদের টানা লড়াই এবং শিক্ষক সহ বৃহত্তর অংশের মানুষের সেই লড়াইয়ে সমর্থনের জেরে চাপে পড়ে এখন কিছুটা কম নেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। তারপরেও চলতি হোস্টেল ভাড়া বৃদ্ধি হচ্ছে প্রতি মাসে দেড়হাজার টাকা। তাছাড়া উপযোগিতা ও পরিষেবা মাশুলের নামে যা বলা হচ্ছে তা আসলে সেলফ ফিনান্সিং মডেলকেই কার্যকরী করার চেষ্টা। বিশ্ববিদ্যালয়ের যে দায়িত্ব রয়েছে ছাত্রদের প্রতি, তার থেকেও সরে যাওয়া হচ্ছে এর মাধ্যমে।

এসএফআই বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিট সম্পাদক অকশত শেঠ জানিয়েছেন, আমরা প্রথমেই পদ্ধতিটার বিরোধী। নির্বাচিত ছাত্রসংসদকে বাদ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ হাই লেভেল কমিটির নামে যা করেছে তা ভাঁওতা। আগের দিন কমিটি হচ্ছে, পরের দিন কমিটির সুপারিশ এসে যাচ্ছে কারো সঙ্গে কোনও আলোচনা না করেই। এটা আগে থেকেই স্থির করা সাজানো ঘটনা। আজকে ফিস কমানো হচ্ছে বলে সুপারিশ মেনে নাও বলে যে প্রচার চালানো হচ্ছে তাকে যদি মান্যতা দেওয়া হয়, তাহলে আগামী দিনে ছাত্রদের সঙ্গে আলোচনা ব্যতিরেকেই ফিস বাড়ানোও হবে।

এসএফআই এবং ছাত্রসংসদ স্পষ্টই জানিয়েছে, নির্বাচিত ছাত্রসংসদের সঙ্গে আলোচনা না করে কোনও সিদ্ধান্তই নেওয়া যাবে না। দ্বিতীয়ত, ফিস কমানো হলো বলে যে কথা বলা হচ্ছে, সেটাও আসলে বর্তমান ফি’র থেকে অনেক বেশি। এরমাধ্যমে কোনও সমাধানই হবে না। মানবসম্পদ উন্নয়ক মন্ত্রক ছাত্র-ছাত্রী এবং অন্যদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে সুপারিশ করুক দাবি জানিয়ে তিনি বলেছেন, এই কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কোনও আলোচনা, সমঝোতার প্রশ্নই ওঠে না। উপাচার্যকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে।

জুন্টার সভাপতি ডিকে লোবিয়াল এবং সম্পাদক সুরজিৎ মজুমদারের বিবৃতিতেও সিদ্ধান্ত গ্রহণ সমস্ত অংশের সঙ্গে বিশেষত ছাত্রদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতেই করার দাবি জানানো হয়েছে। খবর-গণশক্তি

Leave a Reply

Your email address will not be published.